দ্য খড়গপুর পোষ্ট’য়ের হাত ধরেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পৌঁছাল খড়গপুরের মেয়ের কাছে,বেনজির উদ্যোগ জেলাশাসকের

861
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্য খড়গপুর পোষ্টে খবর প্রকাশের ২৪ঘন্টার মধ্যেই জেলাশাসকের উদ্যোগে খড়গপুরের আক্রান্ত মহিলার কাছে পৌঁছে গেল ওষুধ। আর তা পৌঁছাল দ্য খড়গপুর পোষ্টের প্রতিনিধির হাত ধরেই। উল্লেখ্য গত ১০দিন ধরেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (HCQS) পাচ্ছিলেননা খড়গপুর গ্রামীণ থানার অন্তর্গত গোকুলপুরের বাসিন্দা বছর ৩৭য়ের হীরা খামরুই। লকডাউন ঘোষিত হওয়ার পরেই রাতারাতি বাজার থেকে যেন উড়ে গেছিল ওই ওষুধ।

Advertisement

গত ৮ বছর ধরেই ওই ওষুধ খেয়ে আসতে হচ্ছিল হীরাকে কারন কিডনি সহ বেশ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। খড়গপুর মেদিনীপুরের ওষুধ না মেলায় হীরার এক সম্পর্কিত কাকা প্রশাসনের কাছেও দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন কিন্তু সুরাহা হয়নি কিছুই। বৃহস্পতিবার রাতে খবরটি পৌঁছেছিল দ্য খড়গপুর পোষ্টয়ের কাছে। এক চিকিৎসককে প্রেসক্রিপশন দেখানোর পর ওই চিকিৎসক অনুমান করেন কিডনির পাশাপাশি আরও কিছু দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হীরা আর যে কারনে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন তাঁর জরুরি। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরও জানায় বাজারে মিলছেনা ওষুধটি। আর এরপরই শুক্রবার রাতে খবরটি প্রকাশিত হয় দ্য খড়গপুর পোষ্টয়ে।

Advertisement
Advertisement

খবরটি প্রকাশের পর পাঠকমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আমাদের বক্তব্য ছিল যদি আমাদের দেশ থেকে ডোনাল্ড ট্র্যাম্পের এক হুমকিতেই নিয়ম বদলে ওষুধ মার্কিন মুলুকে যেতে পারে তবে আমাদের দেশের মানুষ ওষুধটি পাবেনা কেন? কারন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন দেশের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ রেখেই পাঠানো হয়েছে আমেরিকায়। রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন রাজ্যের মানু্ষের কোনও অভাব হবেনা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের। তাহলে ৮ বছর ধরে ওই ওষুধ খেয়ে আসা হীরা খামরুই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাবেননা কেন?

হীরার সম্পর্কে কাকা অশোক দাস আমাদের জানিয়েছিলেন , ‘’আমার ভাইঝি হীরা খামরই বেশ কয়েক বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছে। বিগত সাত আট বছর কলকাতার রামকৃষ্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা চলছে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থ আছে। কিন্তু এই লকডাইনের ফলে এই ওষুধ কোথাও পাচ্ছিনা। ওষুধটির জন্য স্থানীয় বিডিও, এসডিও এমনকি জেলাশাসকের কাছেও গিয়েছি । কোথাও কিছু সুরাহা হয়নি। দশ দিন হল ওষুধ শেষ। কী যে করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা।”

যদিও জেলা শাসক রশ্মি কমল জানিয়েছিলেন, ” আমার দপ্তরে হয়ত উনি এসেছিলেন কিন্তু আমার সঙ্গে দেখা হয়নি। যাই হোক খবরটি প্রকাশ হয়ে ভালই হয়েছে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি ওষুধটি যোগাড় করার। শনিবারের মধ্যেই চেষ্টা করছি যোগাড় করার। কিন্তু ওষুধটি পৌঁছে দিতে হবে আপনাদের কারন আমাদের কর্মীরা অন্যত্র প্রচুর ব্যস্ত। তাঁদের সময় বের করতে হলে দেরি হয়ে যাবে।”  জেলা শাসকের উদ্যোগে এদিন বিকালেই ওষুধ তুলে দেওয়া হয় মেদিনীপুরের এক সাংবাদিকের হাতে। সেই ওষুধ নিয়ে তিনি রওনা দিলে দ্য খড়গপুর পোষ্টের প্রতিনিধিরাও রওনা দেন। এক জায়গায় মিলিত হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ গোকুলপুরে হীরা খামরুইয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে একমাসের ওষুধ তুলে দেওয়া হয়।

হাতে ওষুধ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হীরা। অনিশ্চিয়তার জীবন থেকে একটু থিতু হওয়ার আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বার বার ‘দ্য খড়গপুর পোষ্ট’কে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন হীরা। হীরার কাকা অশোক দাস জানান, ”আমরা তো আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আর ওষুধ পাবনা আর বাঁচাতেও পারবনা ওকে। এমনিতেই আট বছর চিকিৎসা চালাতে জমি জায়গা সব বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা কী ভাষায় দ্য খড়গপুর পোষ্টকে কৃতজ্ঞতা জানাবো জানিনা।” সমগ্র পরিবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জেলা শাসককেও।

শুক্রবার এই খবর প্রকাশের পরেই আমাদের পাঠক মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেশ কিছু প্রক্রিয়া চালু হয় যার অন্যতম হল বিভিন্ন ভাবে খবরটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মরিয়া চেষ্টা। যদিও আমাদের পাঠক অবিচল ছিলেন। সেই অবিচল পাঠককে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে জানানো গেল যে প্রতিশ্রুতি মতই আপনাদের প্রিয় ‘ দ্য খড়গপুর পোষ্ট’ নিশ্চিত ভাবেই খবরের এক কদম আগে।