রাজ্যে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার ওঠা নামা নিয়ে বিভ্রান্তি, মৃত্যু প্রথমে ৬ থেকে ৩, ফের ৭ হয়ে আবারও ৩, আক্রান্ত ৫৩ থেকে কমে ৩৪

237
রাজ্যে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার ওঠা নামা নিয়ে বিভ্রান্তি, মৃত্যু প্রথমে ৬ থেকে ৩, ফের ৭ হয়ে আবারও ৩, আক্রান্ত ৫৩ থেকে কমে ৩৪ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে ঠিক ক’জনের কোভিড-১৯ সংক্রমনের ফলে মৃত্যু আর আক্রান্তের সংখ্যা যেন শেয়ার বাজারের মত ওঠা নামা করছে আর তার ফলে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি । আর এই বিভ্রান্তির জন্য সংবাদমাধ্যমকেই দায়ী করেছেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বুধবার পর্যন্ত সরকারের সুত্র অনুসারে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬। এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭। যদিও মূখ্যমন্ত্রী বুধবার বিকালেই সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান, রাজ্যে ৩ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একজনের নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন যে, অযথা আতঙ্কিত হবেন না এবং আতঙ্ক ছড়াবেন না। বুধবার   নবান্নের ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দয়া করে ভুল খবর সম্প্রচার করবেন না। সরকারি ঘোষনা হলে তবেই সম্প্রচার করুন। রাজ্যে লাফিয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, এই খবর সম্প্রচার করা বন্ধ করুন।” রাজ্যের করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে এদিন তিনি বলেন, “রাজ্যে ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গিয়েছেন ৩ জন। তাঁদের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে মূলত নিউমোনিয়ায়।” তিনি আরো বলেন, “সকাল থেকেই সংবাদ মধ্যমে যে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই তারা আদৌ করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা। শুনেছি তাঁদের একজনের কিডনির সমস্যা ছিল দীর্ঘদিনের। ডায়ালিসিস চলছিল।”

বৃহস্পতিবার আবার করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি জানান,  রাজ্যে মোট ৭ জন মারা গেছেন করোনা সংক্রমনে। করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের গঠিত ওই বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যেরা বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই দাবি করেন। দেখা যাচ্ছে এই হিসাব বুধবার প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমেরে অঙ্কের সংগে মিলে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ কমিটি সংবাদমাধ্যমের সেই দাবিকেই মান্যতা দিয়ে ৭ জনের মৃত্যুর কথা বলে। কিন্তু পৌনে ২ ঘন্টা পরে সন্ধ্যা ৬টা ১০ নাগাদ মুখ্যসচিব রাজীব সিংহের জানান রাজ্যে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪। করোনায় মারা গিয়েছেন ৩ জন।

রাজ্যে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার ওঠা নামা নিয়ে বিভ্রান্তি, মৃত্যু প্রথমে ৬ থেকে ৩, ফের ৭ হয়ে আবারও ৩, আক্রান্ত ৫৩ থেকে কমে ৩৪ 2

যদিও এ দিন বিকেলে বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যেরা দাবি করেছিলেন, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩। তাঁরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এবং এখনও পর্যন্ত করোনা-আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৭ জন। কিন্তু মুখ্যসচিবের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৩ জন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে সব মিলিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৩ জন। তার মধ্যে ৩ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বাকি ৫০ জনের মধ্যে ৯ জনের পরবর্তী রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সে ক্ষেত্রে রইলেন ৪১ জন। ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন তিন জন। বাকি যে ৩৮ জন রয়ে গেলেন তাঁদের মধ্যে ৪ জনকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে ধরা হলেও সেই কারণেই যে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে এমনটা এখনও নিশ্চিত নয়। মুখ্যসচিব তাই তালিকা থেকে ওই ৪ জনকেও বাদ রেখেছেন। ফলে থেকে যাচ্ছেন ৩৪ জন। মুখ্যসচিবের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই ৩৪ জনই এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত।

মুখ্য সচিবের দাবি, চার ব্যক্তি অন্য অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। কিডনি বা নিউমোনিয়ার মতো অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই চার জন পরে মারা যান। মৃত্যুর পরে তাঁদের চার জনেরই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। মুখ্যসচিবের কথায়, ‘‘ওই চার জনের মৃত্যু করোনার কারণে হয়েছে কি না তা এখনও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’’
মুখ্যসচিব এ দিন যা বলেছেন, সেই কথাই বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সব মৃত্যু করোনায় নয়। মুখ্যমন্ত্রী ওই দিন বলেন, ‘‘তিন জনের মৃত্যুর নিশ্চয়তা মিলেছে। বাকিগুলোর নিশ্চয়তা মেলেনি।’’ এ দিন মুখ্যসচিবও একই কথা জানিয়েছেন। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অন্য অসুখে ভুগতে থাকা ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তাঁকে করোনায় মৃত্যু বলা যাবে কিনা আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ ভাল হয়ে গেলে তিনি রাজ্যের মোট আক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত হবেন কিনা কারন একটা বিষয় মনে রাখার যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে কেন্দ্র সরকার সেই পরিবারকে ৪লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষনা করেছেন। করোনা আক্রান্তের স্বীকৃতি না পেলে ওই পরিবার সরকারের ঘোষিত টাকা পাবেনা।