১ বছরের বেতন বকেয়া! স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে কাজ করতে বাধা স্বাস্থ্য দফতরের

138
১ বছরের বেতন বকেয়া! স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে কাজ করতে বাধা স্বাস্থ্য দফতরের 1
১ বছরের বেতন বকেয়া! স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে কাজ করতে বাধা স্বাস্থ্য দফতরের 2

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যখন রোগীদের চিকিৎসায় ব্রতী হয়েছে চিকিৎসকরা, অন্যদিকে, এক চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্যকর্তার একবছরের বেতন দিতে নারাজ রাজ্য সরকার। এমনকি বহুদিন যাবত তাঁকে কাজেও যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন অভিযোগ নিয়েই রাজ্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই স্বাস্থ্যকর্তা (এসিএমওএইচ)। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের তরফে রাজ্যকে অবিলম্বে ওই চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্য অধিকর্তার পুরো বেতন-সহ সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ একই সঙ্গে ওই চিকিৎসককে পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ারও ছাড়পত্র দেন হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যেখানে এই মূহুর্তে প্রত্যেক চিকিৎসককে বারংবার কাজে যোগ দিতে বলছেন রাজ্য সরকার, সেখানে ঠিক কি কারণে ওই স্বাস্থ্য অধিকর্তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলো? জানা গিয়েছে, ওই চিকিৎসক নন্দীগ্রামে বিএমওএইচ পদে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ এর জুলাই মাসে তাকে নন্দিগ্রাম থেকে আলিপুরদুয়ারে এসিএমওএইচ পদে বদলি করা হয়। সে অনুযায়ী তিনি এসিএমওএইচ পদে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুমাস ওই পদে কাজ করার পর দেখা যায় এসসিএমওএইচ হিসেবে বেতন দেওয়ার পরিবর্তে তাকে বিএমওএইচ হিসেবে বেতন দেওয়া হচ্ছে৷ এই বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য দফতরের দৃষ্টিপাত করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। এর মাঝেই আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে, যথাযথ কারণ দেখিয়ে জেলা স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও হেলথ ডিরেক্টরকে একাধিকবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছুটির আবেদন জানানো হয়। অভিযোগ, একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনোরকম উত্তর মেলেনি। অবশেষে ওই চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্যকর্তা শারীরিকভাবে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে বাধ্য হয়ে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি। এরপরই গত অক্টোবরে আচমকা সরকারের তরফে তাঁকে একটি শোকজ নোটিস পাঠিয়ে তাঁর কাছ থেকে একাধিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

১ বছরের বেতন বকেয়া! স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে কাজ করতে বাধা স্বাস্থ্য দফতরের 3

এর কয়েকদিন পর থেকে সরকারিভাবে ওই চিকিৎসকের বেতন, হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স-সহ একাধিক সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবং করোনা পরিস্থিতির মাঝেই তাঁকে আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে এসিএমওএইচ হিসেবে বদলি করে দেওয়া হয়। কিন্তু আলিপুরদুয়ার থেকে কাগজপত্র হস্তান্তর না করায় তিনি তুফানগঞ্জে কাজে যোগ দিতে পারছিলেন না। এরপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শুনানিতে গোটা বিষয়টি আদালতে জানান তাঁর আইনজীবী গার্গী গোস্বামী। তবে মামলার নোটিস পাওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এদিন গার্গীদেবীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি নির্দেশ দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একজন চিকিৎসককের সবার আগে মানুষের সেবা করা উচিত। সেখানে তাকে এভাবে কাজ থেকে বিরত রাখা যায় না। ফলে অতি দ্রুত ওই স্বাস্থ্য অধিকর্তার অক্টোবর মাস থেকে বকেয়া বেতন ও যাবতীয় সুবিধা বাবদ প্রাপ্ত অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে। এমনকি আলিপুরদুয়ারে কাজে যোগ দেওয়ার পর তিনি তাঁর পদের তুলনায় যে পরিমাণ কম বেতন পেয়েছিলেন সেই বকেয়া টাকাও মিটিয়ে দিতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য দফতরকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। এমনকি যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে তুফানগঞ্জে এসিএমওএইচ হিসাবে কাজে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।