‘ কাজ করেছি’ লিখিয়ে নেওয়া হল অভিযোগকারীকে দিয়ে, ১০০দিনের প্রকল্পের টাকা চুরির আভিযোগ ধামাচাপা দিতে ‘গায়ের জোর’ দেখাল সবং পঞ্চায়েত

202
Advertisement
বিডিওকে দেওয়া অভিযোগ হাতে সানা 

নিজস্ব সংবাদদাতা: খোদ বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেছিলেন যে তিনি ১০০দিনের কাজই করেননি অথচ তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। আর একটি আভিযোগই ফাঁস করে দিয়েছে যে কিভাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা চুরি করা হচ্ছে। আর চুরির গল্প ঢাকা দিতে শুক্রবার তদন্তের নাম করে পঞ্চায়েত অফিসে ডেকে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রেখে হুমকি দিয়ে সাদা কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে যে তাঁরা কাজ করেছেন।

Advertisement

Advertisement
Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
উল্লেখ্য পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং পঞ্চায়েত সমিতির চাউলকুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের খড়িকা সংসদের ঘুসিঙ্গা গ্রামের অপূর্ণ সানা কয়েকদিন আগেই বিডিও এবং পঞ্চায়েত প্রধানকে আভিযোগ করেন যে, ‘তিনি এবং তাঁর স্ত্রী কোনও কাজই করেননি অথচ তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিনটি প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে। আর সেই টাকা তুলে তৃনমূল নেতাদের হাতে দিতে হবে বলে ফরমান জারি করা হয়েছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় স্থানীয় দুই তৃনমূল নেতা তাপস নায়েক ও সেখ আমজেদ তাঁকে হুমকি দিচ্ছে বলে থানায় আভিযোগও করা হয়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ঘটনার খবর হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। আর তারপরই ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে স্থানীয় তৃনমূল নেতারা। শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। প্রথমে তাঁকে বলা হয় যে,  সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁদের বিবৃতি দিতে হবে যে, তাঁরা ভুল কথা বলেছিলেন।  আভিযোগ এরপরই ঘরে আটকে রেখে অপূর্ণ সানাকে দিয়ে সাদা কাগজে লিখিয়ে নেওয়া হয় কাজ করেছেন বলে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বিজেপির সবং মণ্ডলের কর্মকর্তা শান্তনু সাহু জানিয়েছেন, ”ঘন্টার পর ঘন্টা পঞ্চায়েত অফিসে আটকে রেখে ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন চালানো হয় সানার ওপর। পঞ্চায়েতের প্রধান, কর্মকতা ছাড়াও মদ্যপ তৃনমূল কর্মীরা উপস্থিত ছিল ওই সভায়। কোনও কথাই বলতে দেওয়া হয়নি সানাকে। আমরা বিষয়টি ফোন করে পুলিশকেও জানাই কিন্তু পুলিশ যায়নি ঘটনাস্থলে। প্রায় ৬ঘন্টা আটক থাকার পর সানা সাদা কাগজে ‘কাজ করেছি’ লিখে দেওয়ার পর ছাড়া পান।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বারংবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি চাউলকুড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান উষা রানী দাস গৌরা। আর নিজের থেকে ফাঁদে ধরা দিয়েছেন অভিযুক্ত তাপস নায়েক। তিনি নিজে ফোন করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ” তাঁদের বিরুদ্ধে আভিযোগ মিথ্যা প্রমান হয়েছে। অপূর্ণ সানা লিখে দিয়েছে যে সে কাজ করেছে।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
উল্লেখ্য ঘুসুঙ্গার এই তৃণমূল নেতাই ওই এলাকার ১০০দিনের কাজ দেখাশোনা করেন নিজের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে। যে তিনটি প্রকল্পের টাকা সানার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে সেই প্রকল্পগুলি আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে কারন কোনও কাজই না করে সানার মত আরও কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে ঢোকা টাকা উইথড্রল স্লিপে সই করিয়ে তুলে নিয়েছেন ওই নেতারা এমন আভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সবং জুড়ে ১০০দিনের কাজে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পিএমও দপ্তরের  দ্বারস্থ হতে চলেছে বিজেপি।