করোনার ভয়াবহ থাবা পূর্ব মেদিনীপুরে! কাঁথি জেলে সংক্রমিত ১৪ বন্দী

386
করোনার ভয়াবহ থাবা পূর্ব মেদিনীপুরে! কাঁথি জেলে সংক্রমিত ১৪ বন্দী 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: উঁচু প্রাচীর তুলে না হয় জেল পালানো ঠেকানো গেল কিন্তু করোনাকে ঠেকানো যায় কীভাবে? যেমনটা ঠেকানো গেলনা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি সাব জেল বা কাঁথির উপ সংশোধনাগারে। সংশোধনাগারে অন্ততঃ ১৪ জন বিচারাধীন বন্দী আক্রান্ত হয়েছেন এমনই খবর পাওয়া গেছে। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিচারাধীন বন্দীর ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

করোনার ভয়াবহ থাবা পূর্ব মেদিনীপুরে! কাঁথি জেলে সংক্রমিত ১৪ বন্দী 2

আক্রান্ত ওই বিচারাধীন বন্দীরা আপাততঃ উপ সংশোধনাগারে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। এরপরই স্থির করা হয়েছে কাঁথি আদালতে আসা আসামীদের করোনা করোনা পরীক্ষা পরই আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে। নচেৎ বিপদের পড়তে পারেন বিচারক থেকে উকিল বাবুরাও। যদিও বিষয়টি নিয়ে কাঁথির উপ সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এবং কাঁথি মহকুমা প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

করোনার ভয়াবহ থাবা পূর্ব মেদিনীপুরে! কাঁথি জেলে সংক্রমিত ১৪ বন্দী 3

তবে বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন কাঁথি পুরসভা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ অনুতোষ পট্টনায়েক। তিনি বলেন ” এটা সত্যি কথা। গত শনিবার দু’জন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে আবারও ১২ জন কাঁথির উপ সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের আমিই চিকিৎসা করছি। পৌরসভা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে তাঁদের সব রকম চিকিৎসা ও পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। ওষুধ, মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে।”

জেল সূত্রে খবর ওই ১৪ আক্রান্তকে বাকি বন্দীদের থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পৃথক কক্ষে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুর প্রশাসনের সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে চলেছেন। পুরসভা ব্যবস্থা করছে এঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সেফ হোমে রাখার জন্য। সেই মত জায়গা খোঁজা হচ্ছে। যদি কারা কর্তৃপক্ষ চায় তবে এঁদের সরানো হবে জেল থেকে।
এই বিষব কাঁথি পুরসভা প্রশাষক সিদ্ধার্থ মাইতি বলেন ” জেলের বিষয়টি আমাদের অধীনে নয়, এটা জেল সুপারের অধীনে। কাঁথিতে দ্রুত সেভ হোম চালু করা হবে। স্বাস্থ্য আধিকারিক সঙ্গে একটি মিটিং করেছি। আগামী কাল হয়তো কাঁথি উপ সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দীদের স্থান্তরিত করা হবে।” যদিও প্রশ্ন উঠছে জেলের মধ্যে যেখানে সীমিত সংখ্যক ও নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত সেখানে সংক্রমন ছড়ালো কী করে? তাহলে কী পর্যাপ্ত করোনা বিধি মানা হয়নি?

এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের করোনা পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটজনক। গত বেশ কয়েকদিন ধরে দৈনিক আক্রান্ত ৫০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২৬তারিখও আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৫। সর্বাধিক আক্রান্তের হার হলদিয়া এলাকায়। একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে সোমবার হলদিয়ায় ৩জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।

Previous articleঅনলাইন ক্লাশে পড়ুয়াকে কদর্য্য গালাগালি,দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়! আইআইটি খড়গপুরের (IIT-Kharagpur) অধ্যাপিকাকে বহিস্কার করার দাবিতে গর্জে উঠল আইআইটির ছাত্রসমাজ
Next article২রা মে ভোটের ফল বেরুলে যদি ব্যবস্থা নিতে হয়! শাসক দলের তারকা প্রার্থীর চোখে চোখ রেখে নিজের নাম আর পদ আগাম জানিয়ে দিলেন সাব ইন্সপেক্টর