তউকতের তাণ্ডব মহারাষ্ট্র-গুজরাত-কর্ণাটকে; ঝড়ের বলি একাধিক; মুম্বাই উপকূলে ডুবল বার্জ, উদ্ধার ১৪৬ জন, নিখোঁজ ১২৭ জন

121
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের ভয়াবহ ঝড়ের পর, ‘তউকত’ এখন দুর্বল হতে শুরু করেছে । সোমবার রাতে গুজরাটের ৬০ কিলোমিটার আগে দিউয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে, উপকূলে আঘাতের পরে প্রবল বাতাসের সাথে বৃষ্টিও হয়ে সেখানে। গুজরাটে, সেনাবাহিনীর ১৮১ টি দল উদ্ধার কার্যের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এখনও পর্যন্ত দুই লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় পাঠানো হয়েছে। ঝড়ের এই মারাত্মক রূপের মোকাবিলায় এনডিআরএফের ৪৪ টি দলও প্রস্তুত।

Advertisement

এদিকে আরব সাগরে ওঠা ঘূর্ণিঝড় মুম্বাইয়েও তান্ডব দেখিয়েছে। শহরের অনেক জায়গায় জল ভরে গিয়েছে। একই সঙ্গে গাছ ও খুঁটি উপড়ে যাওয়ার কারণে এখানে প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোঙ্কন অঞ্চলে মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে দুটি আলাদা স্থানে নৌকো ডুবে যাওয়ার পরে ছয়জন নিহত এবং তিনজন নাবিক নিখোঁজ রয়েছে। রায়গড় জেলায় তিনজন মারা গেছেন, সিন্ধুডুর্গ জেলায় একজন নাবিক এবং থানে জেলায় ও উলহাসনগরে দু’জন গাছের নীচে চাপা পড়ে মারা গেছে।।

Advertisement
Advertisement

একটি সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, সিন্ধুদুর্গ জেলার আনন্দওয়াদী বন্দরে,দুটি নৌকা জলে ডুবে যায়, সেখানে সাতজন নাবিক ছিলেন।এখানকার ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সমস্ত কাজ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল এবং পরে রাত ৮ টা পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড় তউকতের ধাক্কায় মুম্বাই উপকূলের কাছে ডুবে গেছে একটি বার্জ। ‘পি ৩০৫’ নামের ওই বার্জে ২৭৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও ১২৭ জনকে উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনীর আইএনএস কোচি, আইএনএস কলকাতা সহ ৪টি যুদ্ধজাহাজকে কাজে লাগানো হচ্ছে। মুম্বাইয়ের নৌসেনা ঘাঁটি থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একাধিক হেলিকপ্টার। তবে প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার জন্য ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।

ঘূর্ণিঝড় ঝড় ‘তউকত’ চলাকালীন সোমবার ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে মোট ৪ টি এসওএস কল ছিল। পি ২৭৫ বার্জে মোট ২৭৩ জন যাত্রী ছিল। আইএনএস কোচি এবং আইএনএস কলকাতা যুদ্ধ নৌকার সহায়তায় এতে আটকা পড়া লোকদের বাঁচাতে দ্বিতীয় সাপোর্ট জাহাজের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৪৬ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে একজন আধিকারিক জানিয়েছেন যে, গুজরাটের নিম্ন-সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দুই লক্ষেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ) -র ৫৪ টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৩ বছরে গুজরাটে এরূপ ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আসেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৯৯৮ সালের ৯ জুন গুজরাটে একটি বড় ঘূর্ণিঝড় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায় এবং বিশেষত বন্দর নগরী কান্দলা শহরে প্রচুর লোক মারা যায়। একই সময়ে, সরকারী পরিসংখ্যানগুলি অনুযায়ী ১,১৭৩ জন মারা গেছেন, এবং ১,৭৭৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। একটি শীর্ষস্থানীয় নিউজ ম্যাগাজিন তখন দাবি করেছিল যে, এতে কমপক্ষে ৪,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন এবং অগনিত মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন ।

অন্যদিকে, কর্ণাটকের ঘূর্ণিঝড় ‘তউকতের’ কারণে উপকূলীয় ও মালনাড জেলায় আটজন মারা গেছেন। কর্ণাটক রাজ্য বিপর্যয় পরিচালন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দ্বারা জারি করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সোমবার ভোর পর্যন্ত ১২১ টি গ্রাম এবং উপজেলা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ঘূর্ণিঝড় থেকে মানুষকে বাঁচাতে এ পর্যন্ত খোলা ১৩ টি ত্রাণ শিবিরে ২৯০ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।