এখন খবরকাশ্মীরপশ্চিম মেদিনীপুর

শ্যামলদের ফাঁদে ফেলতে ৮ বছরের শিশুকেই টোপ বানিয়েছিল কাপুরুষ জঙ্গীরা

নরেশ জানা: কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার জারিপোৱা গ্রামের সেই ৮বছরের শিশুকে টোপ হিসাবেই ব্যবহার করেছিল জঙ্গীরা। আগের দিনই অনন্তনাগের পাশেই এনকাউন্টারে খতম হয়েছিল ৩ জঙ্গী। এরপরই জঙ্গীরা কুলগাম জেলা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং পালানোর পথে জারিপোরা গ্রামে অবস্থান করছে এরকমই খবর ছিল। খবরটা পাক্কা, বিভিন্ন সূত্রে সেই খবর নিশ্চিত করার পরেই সিআরপিএফের ৯০নম্বর ব্যাটালিয়ানের জওয়ান, কাশ্মীর পুলিশ আর ভারতীয় সেনার মিলিত বাহিনী রওনা দেয় জারিপোরার দিকেই। এই মিলিত বাহিনীর একেবারে সম্মুখভাগেই ছিল রোড ওপেনিং বাহিনীর জওয়ানরা যার মধ্যেই ছিলেন সবংয়ের সিংপুর গ্রামের বীর জওয়ান ২৭বছরের শ্যামল দে।

এজেন্সি মারফৎ জানা গেছে আগের রাতেই জারিপোরা থেকে ঢুকে পড়েছিল জঙ্গীদের দলটি। জারিপোরা ও সংলগ্ন জায়গা পড়শাহীবাগের গ্রামবাসীরাও বুঝতে পারে যে জঙ্গীরা অবস্থান করছে তাঁদের এলাকায়। তাঁরা এও বুঝতে পারেন নে জঙ্গিদের খতম করতে রওনা দিয়েছে ভারতীয় সেনার দল। এরকম অবস্থায় সাধারনভাবে গোটা এলাকা নিশ্চুপ, নিস্পন্দন হয়ে যায়। আগে থেকেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আসন্ন লড়াইয়ের কথা ভেবে ঘরে ঢুকে যায় সমস্ত মানুষ। চারদিকের এই থমথমে ভাবটাই সেনাদেরও বুঝিয়ে দেয় এখানে কিছু গরমিল আছে সাবধান হওয়া দরকার। ঠিক সেভাবেই হাঁটছিল জওয়ানরা, যার সামনেই ছিল সবংয়ের শ্যামল, ৯০নম্বর ব্যাটালিয়ানের কনস্টেবল।

জারিপোরা গ্রামটাকে কর্ডন করে ঘেরাই ছিল যৌথবাহিনীর উদ্দেশ্য। এই জায়গাটা ঘিরে নিয়ে সামনের রাস্তা আটকে দিলে জঙ্গীদের পালানোর পথ বন্ধ কারন অনন্তনাগের এটা শেষ এলাকা, পরেই কাশ্মীরের কুলগাম জেলা। ওপাশে আরও একটি যৌথবাহিনী পজিশন নিয়ে বসে আছে। নিকটবর্তী শহরটার নাম বিজবেহারা সেখানেও ভারী সংখ্যায় মোতায়েন হতে শুরু করেছে রি-এনফোর্সমেন্ট বাহিনী প্ৰয়োজনে যারা ছুটে আসবে।
জারিপোরা গ্রামের আগেই পড়শাহীবাগ গ্রাম পেরিয়েই একটা পাহাড়ি ঝোর বা ঝর্নার ওপর একটা সেতু, সেতুটার নামও পড়শাহী সেতু। শ্যামল আর তাঁর সঙ্গীরা সংখ্যায় একটা প্ল্যাটুন (৩৩ জনের কাছাকছি) যাচ্ছিল রাস্তাটা কভার করতে করতে ওঁদের ভাষায় রোড ওপেনিং পার্টি। এ রাস্তায় এক সঙ্গে হাঁটা বারন, সামরিক কৌশল মেনে বেশ কিছুটা দূরত্ব রাখতে হয় পারস্পরিক যাতে গ্রেনেড বা মাইন হামলা হলে একই সাথে অনেকে হতাহত না হয়ে পড়ে।

শ্যামল আগে, সবার আগে সামনেই পড়শাহী সেতু। সেতুটা পেরুনোর আগে একবার দুপাশ দেখে নিয়েছিলেন আর তারপর সামনে তাকাতেই অবাক হয়ে দেখলেন রাস্তার ওপর একটা বাচ্চা ছেলে হাঁটছে!
যে রাস্তায় লোকজন নেই সেই রাস্তায় একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে সাবধান হওয়ার তাল কেটে গেছিল শ্যামলের। পেছনে আসা বাহিনী। রাস্তা থেকে বাচ্চাটাকে সরিয়ে দিতে ছুটেছিল শ্যামল আর মুহূর্তের সেই অসতর্কতার সুযোগ নিয়েই জঙ্গীরা গ্রেনেড ও গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গল আর পাহাড়ি টিলার আড়াল থেকে। যাতে শ্যামল আর শিশু দুজনই জখম হয়ে মারা যায়। আসলে গোটাটাই ছিল একটা ফাঁদ আর সেই ফাঁদের টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয় শিশুটিকে। জারিপোরা গ্রাম থেকেই শিশুটিকে তুলে আনে জঙ্গীরা আর পড়শাহীবাগে এনে তাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলা হয়। মনের আনন্দেই ফিরছিল শিশুটি। সে নিজেও বুঝতে পারেনি যে সে টোপ!

বিজ্ঞাপন
Live Corona Update
error: Content is protected !!
Close
Close