রবিয়াণী

অন্ধকারের আলোর সন্ধান

✒️কলমে: অভিজিৎ রায়

‘ক্ষতের ভাস্কর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হোক প্রলেপের ঘরে’… এমন একটা লাইন পড়ে থমকে যেতে হয়। ক্ষত জর্জরিত বাংলা কবিতা চর্চার শরীর যেন কিছুতেই প্রলেপের ঘরের ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছে না। সে গলির মুখে দালালেরা দাঁড়িয়ে আছে যেমন পতিতাপল্লীর ছবি দেখে অভ্যস্ত সিনেমার দর্শক! অল্প একটু প্রলেপের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় ঠোক্কর খেতে খেতে পথ হারাচ্ছে তরুণ কবির দল। বাংলা কবিতা তার ক্ষতগুলোকে ক্রমশ দর্শনীয় করে তোলার ব্যর্থ চেষ্টায় মেতেছে। নিজের কাছে তার আর কোনো প্রশ্ন নেই। ক্ষতের কারণ খোঁজার তার অবকাশ নেই। সূর্যাস্তের কমলা আভায় সবুজপত্র যেন রং হারিয়েছে।
নিজেকে নিজেই সে শুনিয়েছে মিথ্যে আশ্বাস আর প্রতিটি শব্দের ভাঁজে লুকানো চাতুরী যেন নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সততার সিংহাসনে! কবিতাচর্চার এই চাতুরীই প্রতিদিন কবিতাকে পাঠকের থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অবচেতনের ঘুমে রঙিন স্বপ্নের মায়াজাল যেন শব্দ ব্রহ্ম থেকে বহুদূরে দাঁড়িয়ে হাসছে। এই ব্যঙ্গের হাসি আমরা কি কেউ বুঝতে পারছি না! প্রবল অশান্তিতে মনের আরামদায়ক ছায়ার হদিস দিতে পারা কবিতারা হারিয়ে যেতে বসেছে। পাঠক তাই ক্রমশ বাতিল করে দিচ্ছে প্রাত্যহিক কবিতার পাঠ। আজকাল পাঠকের নিজেকে মনে হচ্ছে অপ্রয়োজনীয়। প্রতিদিন রঙিন মঞ্চ সাজিয়ে হচ্ছে কবিতার উৎসব আর সে উৎসবে সমস্ত দর্শকই কবি। দর্শক আসনে কোনো পাঠক নেই, শ্রোতা নেই। উৎসবের মঞ্চের আশেপাশে রঙিন প্রজাপতির মতো কবিরা উড়ে বেড়ান। একে অন্যের থেকে দূরে গিয়ে চায়ের কাপে চুমুক আর সিগারেটের ধোঁয়া সহযোগে পরনিন্দা, পরচর্চা করেন। কারোর কোনো পঠিত কবিতা নিয়ে অন্য কোনো কবির উচ্ছ্বাস করোনা ভাইরাসের মতো যাবতীয় কথার উৎসারণে বেরিয়ে আসে না। বাংলা কবিতার ক্ষতগুলো দাঁত বের করে হাসে। সে জানে যাবতীয় উচ্ছ্বাস হীন পঙক্তি একদিন প্রলেপের তোয়াক্কা না করে মৃত্যুর কাছে সমর্পণ করতে বাধ্য হবে। হবেই।

বিজ্ঞাপন
Live Corona Update
error: Content is protected !!
Close
Close