রবিয়াণী

ইজুক্যালটু পুণ্য

✒️কলমে: দেবব্রত রায়

সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোর মতোই আজও বভ্রুবাহন অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে সামান্য টিফিন করেই, বৌকে স্কুটির পিছনে বসিয়ে বাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় স্রেফ এইটুকুই তার দায়িত্ব। বৌকে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পর বভ্রুবাহনের হাতে আর সেরকম কোনো কাজই থাকে না। ওর অধ্যাপিকা-বৌ শাবানা-ই বাজারের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরে ঘুরে দরদাম করে শাকসব্জি, ফলমূল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করে! শাবানা অবশ্য প্রায় সবকিছুই চব্বিশঘণ্টার এক্সপায়ারিতে কেনাকাটার পক্ষপাতি কারণ, প্রতিদিনই তার এইসময় বাজারে আসা চায়ই। শাবানার যুক্তি, প্রতিদিন বাজারে গেলে নিত্যনতুন জিনিসপত্র নজরে পড়ে আর, সন্ধ্যার সময় বাজার করার পক্ষে তার যুক্তি হলো, হাটুরেরা আগের দিনের বাসি মালগুলো আগেভাগে বিক্রি করার চেষ্টা করে অতএব, সকালের চেয়ে সন্ধ্যাবেলায় বাজার করাটাই ভালো তাছাড়া , প্রতিদিন বাজারে গেলে নাকী সাংসারিকজীবনের খুটিনাটি অনেককিছু শেখাও যায়!
বভ্রুবাহন ওর স্কুটিটা প্রাত্যহিক নিয়মনুসারে শ্যামলের দোকানের পাশের গলিতে দাঁড় করিয়ে রেখে এসে দোকানের ছোকরা কর্মচারীটাকে দেরাদুন রাইসের একটা প্যাকেট বের করে রাখতে বললো তারপর,শ্যামলের কাছ থেকে সিগারেট চেয়ে নিয়ে আয়েস করে ধরিয়ে টানতে টানতে সে দোকানের বেঞ্চিটাতে গিয়ে বসলো। এ সময়টায় শ্যামল একটু বেশিই ব্যাস্ত থাকে। আর আধঘন্টা, কী চল্লিশ মিনিট পর সে একটু ফাঁকা হবে। তখন,বভ্রুবাহন আর, শ্যামলের নানান বিষয়ে গল্প শুরু হয় ! শাবানাও ততক্ষণে ওর ছোট ছোট ব্যাগগুলো নিয়ে চলে আসে। ওদের সঙ্গে ও-ও একটু আড্ডা দেয়। বভ্রুবাহন অলসভাবে সিগারেট টানতেটানতেই লক্ষ্য করলো শাবানা বাজারের একেবারে শেষমাথায় প্রেসারকুকার সারানোর মিস্ত্রি শিবেনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।আজকে সকালেই ছোট প্রেসারকুকারটা রান্নার সময় খুব জ্বালিয়েছে ! শাবানা সেটা নিয়েই শিবেনকে কিছু বলছে নিশ্চয়! বভ্রুবাহন শাবানার দিক থেকে চোখ সরিয়ে এদিকওদিক দেখতে-দেখতে হটাৎ-ই,ওর অলস-দৃষ্টি চালপট্টির কালীমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার উপরে একেবারে ফেভিকল-চেটান চিটিয়ে গেল! লোকটাকে বভ্রুবাহন বাজারে প্রায় দেখে তবে, সে দেখার মধ্যে থাকে খুবই দায়সারাগোছের একটা ক্যাজুয়াল ব্যপার কিন্তু ,আজ বভ্রুবাহন খুব মন দিয়েই লোকটাকে দেখতে লাগলো। ও দেখলো লোকটা মন্দিরের কালীমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে একনাগাড়ে নিজের কান এবং নাকটা অদ্ভুতভাবে মলেই যাচ্ছে ! লোকটাকি তাহলে , নিজের পাপস্খলন করছে !সারাদিনের নাকী, সারা জীবনের ! বভ্রুবাহন মনে মনে ভাবতে শুরু করলো, তাহলে কি, পাপ+ক্ষমাভিক্ষা +পাপ+ক্ষমাভিক্ষা ইজুক্যালটু পুণ্য !!!
******

বিজ্ঞাপন
Check Also
Close
Live Corona Update
error: Content is protected !!
Close
Close