এখন খবরঅন্যান্যখড়গপুরমেদিনীপুর

খড়গপুর মেদিনীপুরও দেখবে সূর্যের বলয়গ্রাস আর রিং অফ ফায়ার

ওয়েব ডেস্ক: যদি আকাশ পরিস্কার থাকে, বাদলের ধারা না ঝরে তবে মার দিয়া কেল্লা, খড়গপুর আর মেদিনীপুর তুমিও দেখবে বলয়গ্রাস কিংবা আগুনের গোলা, রিং অফ ফায়ার। দেখবে দক্ষিনের বেলদা দাঁতন আর উত্তেরর গড়বেতা থেকে চন্দ্রকোনা হয়ে ঘাটালও। ২০২০ সালটা এমনই একটি বছর যা আগামী বেশ কিছু বছর মনে থাকবে। মহামারি, প্রাকৃতিক দূর্যোগ কী নেই এ বছর? আর এসবের পাশাপাশি এবছর আরও একটি বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশবাসী। একই মাসে ২টি গ্রহণ, যা বিগত কয়েক যুগ দেখেনি। গত ৫ই জুন হয়ে গিয়েছে চন্দ্রগ্রহণ। এরপর একই মাসে ফের আগামী ২১ জুন এক অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে চলেছে গোটা দেশ,  বাংলা আর খড়গপুর,মেদিনীপুরও।

না, পূর্নগ্রাস সূর্যগ্রহন আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। সেটা পাচ্ছে দেশের মাত্র ছ’টি জায়গা চামোলি, জেরাদুন, জোশিমঠ, কুরুক্ষেত্র, সিরসা এবং সুরাতগঢ়। কিন্তু আমরা কিছু কম দেখতে পাচ্ছিনা। বলয়গ্রাসের একটা বড় অংশই নজরে আসছে আমাদের। কলকাতা সহ উত্তর আর দক্ষিনবঙ্গের একটা অংশ দেখতে পারবে বলয়গ্রাস। দেখতে পাবে আগুনের আংটিকে। বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝে চাঁদ চলে আসে। চাঁদ সূর্যকে ঢেকে ফেলে। কিন্তু স্বভাবতই আকারে বড় হওয়ায় সূর্য পুরোপুরি ঢাকা পড়ে না। বরং চাঁদের চারপাশ দিয়ে সূর্য উঁকি মারে অর্থাৎ সূর্যের আলোর বিকিরণ হয়। ফলে তা ‘আগুনের আংটি’ বা ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মতো দেখতে লাগে।

২১শে জুন আংশিক গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯.১৫ মিনিটে এবং পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ চলবে ১০:১৭ মিনিট পর্যন্ত। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ১২টা ৪০ মিনিট ৬ সেকেন্ডে এবং গ্রহণ সম্পূর্ণ শেষ হবে ৩.০৪ মিনিটে। সূর্যগ্রহণ শুরু হবে কঙ্গোতে এবং সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ভারতে এবং শেষ গ্রহণ দেখা যাবে ফিলিপিন্সে। এছাড়াও ২১শে জুন এই বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ভারত, চিন, পাকিস্তান, কঙ্গো ইথিওপিয়া সহ আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

এবছর মোট ৩টি গ্রহণ হওয়ার কথা। তার মধ্যে ৫ই জুন প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি হয়ে গিয়েছে। ২১ শে জুলাই দ্বিতীয় গ্রহণটি হতে চলেছে। যখন সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই সরলরেখা বরাবর থাকে আর চাঁদের অবস্থান পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে হয়, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কোনও না কোনও অংশের ওপর গিয়ে পড়ে। ফলে সেই অংশ প্রায় অন্ধকার হয়ে আসে।।
রবিবার পৃথিবী থেকে দেখতে পাওয়া যাবে এই সূর্যগ্রহণ। নাসা জানিয়েছে এই সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে অনেকটা দূরে থাকবে। ফলে সূর্যের মুখ একেবারে বন্ধ করতে পারে না চাঁদ এবং সূর্যের সামনে একে জ্বলন্ত গোলকের মতো মনে হয়। খালি চোখে এই ঘটনা দেখা একদম উচিত নয় তাতে চোখের ক্ষতি হতে পারে। ফলে গ্রহণ দেখার জন্য নাসার তরফে একাধিক সতর্কতাঃ অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যারা সূর্যগ্রহণ দেখতে পছন্দ করেন তাদেরকে দূরবীন, টেলিস্কোপ অথবা অপটিক্যাল ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমে এই অপরূপ উজ্জ্বল বলয় বা ‘রিং অফ ফায়ার’দেখতে বলা হচ্ছে।

আমরা কোথায় কোন সময়ে এই অনির্বচনীয় অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাব? চলুন সেটাই দেখা নেওয়া যাক।
১) কোচবিহার : সকাল ১০ টা ৫০ মিনিট ৫ সেকেন্ডে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২ টো ১৯ মিনিট ২ সেকেন্ড পর্যন্ত। 
২) দার্জিলিং : সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিট ২ সেকেন্ডে শুরু হবে। দুপুর ২ টা ১৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত চলবে।

৩) কলকাতা : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত।
৪) মেদিনীপুর : সকাল ১০ টা ৪৩ মিনিটে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২টা ১৪ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত। ৫) খড়গপুর : সকাল ১০ টা ৪২ মিনিটে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২ টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত।

৬) মুর্শিদাবাদ : সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিটে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২ টো ১৭ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত।    ৭) শিলিগুড়ি : সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিট ৩ সেকেন্ডে শুরু হবে। দুপুর ২ টো ১৬ মিনিট ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত চলবে।
৮) মালদা : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিটে শুরু হবে। দুপুর ২ টো ১৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে।

৮) রায়গঞ্জ : সকাল ১০ টা ৪৬ মিনিটে শুরু হবে। দুপুর ২ টো ১৬ মিনিট পর্যন্ত চলবে।
১০) গুয়াহাটি : সকাল ১০ টা ৫৭ মিনিটে শুরু হবে। দুপুর ২ টো ২৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড পর্যন্ত চলবে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে সকাল ১০ টা ৫৪ মিনিট ১ সেকেন্ডে শুরু হবে। চলবে দুপুর ২ টো ২২ মিনিট ২ সেকেন্ড পর্যন্ত।
এই মহাজাগতিক দৃশ্য খালি চোখে দেখা উচিৎ হবেনা। যদি বিজ্ঞান সংস্থাগুলির সময়সুচি মেনে টেলিস্কোপে দেখতে পারেন তবে সবচেয়ে ভালো দেখতে পাবেন। কিংবা এখন থেকেই গ্রহন দেখার বিশেষ চশমা জোগাড় করে নিন। অব্যহৃত এক্সরে প্লেট ইত্যাদি অনেক কিছুই আছে কিন্তু বিজ্ঞানী মহলের পরামর্শ নিয়ে নিন।

বিজ্ঞাপন
error: Content is protected !!
Close
Close