এখন খবর

মামাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়েছেন বাবা -মা, কিশোরীর মোবাইল খারাপ! অনলাইন ক্লাশ করতে না পেরে আত্মঘাতী

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ৩ মাস যাবৎ বন্ধ স্কুল কলেজ। এর জেরে সিলেবাস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুল গুলিতে চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। মোবাইল ফোন খারাপ হয়ে যাওয়ায় বেশ কিছুদিন যাবত অনলাইনে ক্লাস না করতে পারছিলেন না দশম শ্রেনীর এক ছাত্রী৷ একেই সামনের বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা, তার ওপর দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাসই ভরসা। এই পরিস্থিতিতে আচমকা ফোন খারাপ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল হাওড়ার বাসিন্দা দশম শ্রেনীর শিবানী কুমারির মধ্যে৷ এর জেরেই মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয় ওই কিশোরী।

জানা গিয়েছে, নিহত শিবানী কুমারি আসলে বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা। লকডাউনের আগে গ্রামের বাড়িতে যান মাও বাবা। কিন্তু লকডাউনে সেখানেই আটকে পড়েছিলেন তারা। ফলে হাওড়ার নিশ্চিন্দার রাজচন্দ্রপুরে ভাড়া বাড়িতে দাদার সঙ্গে ছিলেন শিবানী। সে এলাকারই লিটল বার্ডস নামক একটি বেসরকারি স্কুলের দশমের ছাত্রী ছিল। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত ছিল শিবানী৷ তার ওপর করোনা সংক্রমণের কারণে বন্ধ টিউশন। ফলে অনলাইন ক্লাসের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছিল তাকে৷ কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত মোবাইল ফোনটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে ক্লাস করাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে সে পিছিয়ে পড়ছে ভেবে আশঙ্কায় ভুগছিল সে। বৃহস্পতিবার সেই আশঙ্কাতেই আত্মহত্যা করে শিবানী।

এ বিষয়ে ওই পড়ুয়ার দাদা জানিয়েছেন, “লকডাউনে গ্রামের বাড়িতেই আটকে গেছেন মা-বাবা। তাই আমি আর বোনই বাড়িতে ছিলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে কিছুক্ষণের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। ফিরে এসে বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করলেও বোন দরজা খোলেনি। এরপর প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে বোন। এরপর পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে”

শিবানীর এভাবে আত্মহত্যা করায় শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী। তবে শুধুমাত্রই কি অনলাইনে ক্লাস না করতে পারার জন্যই সে আত্মঘাতী হল? নাকি এর পিছনে আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে? সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেও আত্মঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না!! তবে কারণ যাই হোক, আপাত দৃষ্টিতে তা বোঝা না গেলেও ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
error: Content is protected !!
Close
Close