এখন খবররাজ্য

বাগনান কান্ডে অভিযুক্ত কুশ বেরা ও তার পঞ্চায়েত সদস্যা স্ত্রীকে বহিষ্কার করলো তৃণমূল

ওয়েব ডেস্ক : মেয়ের সম্মান রক্ষা কর‍তে গিয়ে প্রাণ গিয়েছে মায়ের৷ ঘটনার পর পরই ঘটনায় জড়িত স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী তৃণমূল নেতা কুশ বেরার গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে হাওড়ার বাগনানবাসী। যদিও এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে কুশ বেড়াকে তৃণমূল কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ ছিলেন মন্ত্রী অরূপ রায়। এমনকি মেয়েটির সাথে কুশ বেরার ‘অবৈধ সম্পর্ক’ ছিল বলেও কটুক্তি করেন তিনি। কিন্তু অন্যদিকে ঘটনার পরের দিনই এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পরদিনই কুশ বেড়াকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন ফিরহাদ হাকিম। কথা অনুযায়ী বাগনান কাণ্ডে জড়িত কুশ বেরাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শুধু তিনিই নন সেই সাথে ইতিমধ্যেই কুশের স্ত্রী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা রমা বেরাকেও দল থেকে বহিষ্কার করলো শাসকদল।

মন্ত্রী অরূপ রায়ের মুখে এই ধরনের অশালীন মন্তব্য মেনে নিতে পারেনি গ্রামবাসী। পাশাপাশি তার মন্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে ফিরাদ হাকিমের কুশ বেরাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কুশ শাসক দলেরই কর্মী ছিল কিন্তু মন্ত্রী অরূপ রায় মেয়েটির দিকে আঙুল তুলে কুশকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। যদিও তাতে বিশেষ কোনো লাভ হয়নি তাঁর।

শুক্রবার এবিষয়ে হাওড়া জেলা গ্রামীণ তৃণমূলের সভাপতি পুলক রায় বলেন, “এই ঘটনায় যে বা যারা যুক্ত তাদের শাস্তি দেওয়া হবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ২ জনকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই গ্রেফতার করা হয়েছে। দেহ যাওয়ার পর অশান্তির জেরে একজন জখম হয়েছেন। যে এই কাজ করেছে তাকেও শাস্তি দেওয়া হবে। এর আগেও বাগনানে এক তরুণীর খুনের ঘটনা ঘটে। তাতেও অভিযুক্তরা শাস্তি পেয়েছে।” এদিন নাম না করে বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যাঁরা অযথা এই ঘটনা নিয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন, তাঁরা দিবাস্বপ্ন দেখছেন।”

প্রসঙ্গত, গত বুধবার হাওড়ার বাগনান ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যার স্বামী কুশ বেরা ও তার এক সাগরেদ রাতের অন্ধকারে এক কলেজ ছাত্রীর বাড়ির ছাদে উঠে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন সেই সময় ওই ছাত্রী চিৎকারে আর মা ছুটে আসতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। সেই সময় সিঁড়ি থেকে গড়িয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে তার মায়ের মাথায় প্রচণ্ড চোট লাগে। এরপর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি করা হলে সেখানেই মৃত্যু হয় মেয়েটির মায়ের। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাগনানের খাদিনান মোড়। কুশ বেরা ও তার সঙ্গীর দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে পরেরদিন সকাল থেকেই গ্রামবাসীদের সাথে বিজেপি নেতৃত্বরাও বিক্ষোভে সামিল হয়। অবশেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ কুশ ও তার সঙ্গীকে গ্রেফতার করে। এরপর কুশ ও তার স্ত্রীকে শাসকদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞাপন
error: Content is protected !!
Close
Close