এখন খবর

‘আমফান’ এর ক্ষতিপূরণে কারচুপির অভিযোগ, হুগলির গরলগাছা পঞ্চায়েত প্রধানকে বহিস্কার করলো তৃণমূল

ওয়েব ডেস্ক : গত মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন জেলা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু মানুষ। এরপরই নবান্নের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার পিছু ২০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়৷ সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে টাকাও ঢুকে গিয়েছে অনেকের অ্যাকাউন্টে। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে আদপে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা সরকারী সাহায্য কোনোভাবেই পায়নি। ক্ষতিপূরণ যারা পেয়েছেন তারা কেউ শাসকদলের কর্মী, অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এর মাঝে গত দুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ক্ষতিপূরণ নিয়ে কেউ কারচুপি করলে সরাসরি পুলিশকে জানাতে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের ৪৮ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই এবার আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগে অভিযুক্ত হুগলির গরলগাছা পঞ্চায়েত প্রধানকে মুখ বাঁচাতে দল থেকে বহিস্কার করল তৃণমূল।

জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই গরলগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিং এর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে আমফানের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ হাজার টাকা ঢুকেছে। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধানের পাকা বাড়ির কোনো অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্নমাত্র নেই। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে গিয়েছে এলাকার বহু বাড়ি। অথচ তাদের নাম তালিকাতেই নেই। একথা কানে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপরই তড়িঘড়ি শুক্রবার হুগলির গরলগাছা পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিংকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা না পেলেও টাকা পেয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রী। যদিও এবিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান জানান, তার বাড়ির ক্ষতি না হলেও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর ধূপকাঠির কারখানা।

এদিকে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুক্রবারই তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ সিংকে তলব করেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যাবতীয় নথি নিয়ে দলের মহাসচিবের কাছে যান তিনি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা খতিয়ে দেখা যায় তালিকায় থাকা নামের ১০২ জনের মধ্যে ৯২ জনই ভুয়ো। আদপে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি। অথচ ততক্ষণে পঞ্চায়েত প্রধানের স্ত্রী সহ ১৭ জন টাকা পেয়ে গিয়েছেন। এরপরই পার্থ চট্টোপাধ্যায় মনোজ সিংকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এবিষয়ে গরলগাছা পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিং অবশ্য সাফাই দিয়েছেন তাড়াহুড়ো করে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে ভুল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে কথা মানতে নারাজ শাসকদল। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে শুক্রবারই ক্ষতিপূরণের টাকা কারচুপির অভিযোগে মনোজ সিংকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ওদিকে এই খবর চাউর হতেই জেলা বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, ” ভুল করে তালিকায় কয়েকজন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এমন দুর্নীতি প্রত্যেক পঞ্চায়েতে হয়েছে। বাকিদের কী হবে?”

বিজ্ঞাপন
Live Corona Update
error: Content is protected !!
Close
Close