আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে ‘আমারকার ভাষা’র মিলন মেলায় সুবর্ণরেখা অববাহিকা জন

232
Advertisement

ভবানী গিরি: ‘যে ভাষায় আমার মা আমাকে আদুরে সম্ভাষণ করে কিংবা বকে সেই ভাষাই আমার মাতৃভাষা।’ মাতৃভাষার প্রতি এমনি সহজ সরল সংজ্ঞা আর সখ্যতা যাপন করেন দক্ষিণ পশ্চিমবাংলার সুবর্ণরেখা নদী অববাহিকাজনেরা বিশেষ করে যাঁরা ওই নদীর কোলটি ঘেঁষে বসবাস করেন। হতে পারে তাঁরা পেশার তাগিদে আজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক ভাষাদিবসের দিনটিতে তাঁরা মিলিত হলেন একই সাথে।

Advertisement

সারাদিন ব্যাপী ‘আমারর্কার ভাষা’ বা আমাদের ভাষা নিয়ে দিনভর চলল আড্ডা, আলাপ, আলোচনা।আয়োজকরা জানালেন, বিশ্বের প্রতিটি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে তার নিজস্ব সভ্যতা এবং সংস্কৃতি।যে সংস্কৃতির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় তার স্বতন্ত্রতা এবং আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য। সেরকমই সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে রয়েছে একটি আলাদা সংস্কৃতির পরিমন্ডল।মুলত সুবর্ণরেখা নদীটি ঝাড়খন্ড, বাংলা এবং উড়িষ্যা তিনটি রাজ্যের মধ্যে বিস্তারিত হলেও সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী মানুষের সংস্কৃতিতে কোথায় যেন একটা মিল রয়েছে।

Advertisement
Advertisement

ওই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন তাদের রাজ্যের স্বীকৃত ভাষা পঠনপাঠন এবং অফিসিয়াল ক্ষেত্রে ব্যবহার করলেও গ্রামীণ এবং পারিবারিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন এলাকার নিজস্ব ভাষা।যে ভাষা সুবর্ণরৈখিক ভাষা নামে পরিচিত।এই সুবর্ণরৈখিক ভাষাকে আগামী দিনে টিকিট রাখা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নদী তীরবর্তী এলাকার উৎসুক শিক্ষিত যুবকদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব, সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ’।

ইতিমধ্যে গ্রুপের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার। শুরু হয়েছে সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী এলাকার নিজস্ব ভাষা নিয়ে লেখালেখি এবং সাহিত্য চর্চা। এছাড়াও গ্রুপের পক্ষ থেকে নিয়মিত হচ্ছে নানা ধরনের সামাজিক কাজকর্ম।তাই ‘সুবর্ণরৈখিক’ ভাষার আগামী উন্নতি সাধন এবং ভাষা চর্চার আগামী পরিকল্পনা স্থির করতে ‘আমারকার ভাষা আমারকার ভাষা, সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ’এর পক্ষ থেকে রবিবার ২১ শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে গোপীবল্লভপুরের মহাপাল স্কুলে হল একটি মিলন মেলা।এই মিলন মেলায় সুবর্ণরৈখিক ভাষা ব্যবহার করেন এমন প্রচুর মানুষ মিলিত হয়ে তুলে ধরেন তাদের নিজস্ব ভাষা শৈলী। সঙ্গে এলাকার বেশকিছু সাহিত্যিকের কাব্য গ্রন্থ এবং রচনা সামগ্রী প্রকাশ হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার ভূমি পুত্র তথা মেদিনীপুর কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কবি ফটিকচাঁদ ঘোষ,বেলিয়াবেড়া থানার ওসি সুদীপ পালোধি, গ্রুপের এডমিন বিশ্বজিৎ পাল, সুদীপ কুমার খাঁড়া প্রমুখ। এদিনের কর্মসূচি সম্পর্কে বলতে গিয়ে অধ্যাপক ফটিকচাঁদ ঘোষ বলেন, প্রতিটি ভাষার বহু আঞ্চলিক ভাষা থাকে।তার মধ্যে মুল ভাষাকে পরিপুষ্ট করার জন্য তার আঞ্চলিক ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।যার মাধ্যমে মুল ভাষাটি উন্নত থেকে উন্নততর হয়। আর সুদীপ খাঁড়াই সেই বিখ্যাত উক্তিটি উপহার দিলেন, যে ভাষায় আমার মা আমাকে বকাবকি করেন…