করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে একদিনে মৃত ৩ চিকিৎসক! হুঁশ নেই রাজ্য সরকারের, অভিযোগ চিকিৎসক সংগঠনের

503
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে একদিনে মৃত ৩ চিকিৎসক! হুঁশ নেই রাজ্য সরকারের, অভিযোগ চিকিৎসক সংগঠনের 1

ওয়েব ডেস্ক : করোনা আবহে এই মূহুর্তে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময় যেখানে রোগীদের ঠিক মতো চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বেশি সংখ্যক চিকিৎসকের প্র‍য়োজন, ঠিক তখনই রাজ্যে এক এক করে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু সোমবার যা ঘটলো তা রীতিমতো আতঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। সোমবার করোনায় সংক্রমিত হয়ে একই দিনে মৃত্যু হল রাজ্যের ৩ চিকিৎসকের। এর পাশাপাশি করোনায় সংক্রমিত নন এদিন এমনও এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সোমবার রাজ্য মোট ৪ জন চিকিৎসককে হারাল৷ করোনা পরিস্থিতিতে যারা রোগীদের সেবা করছেন কিভাবে তাঁদের মৃত্যু হচ্ছে? তবে কি করোনাযোদ্ধাদের জন্যও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখেনি মমতা সরকার? এ নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।

সোমবার করোনায় সংক্রমিত হয়ে যে তিনজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা হলেন, ডাঃ বিশ্বজিত্ মণ্ডল। তিনি ব্যারাকপুরে। গত কয়েকদিন যাবৎ তিমি করোনা পজিটিভ ছিলেন। দ্বিতীয় জন হলেন ডাঃ তপন সিনহা। দীর্ঘদিন কার্ডিয়োলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তিনিও সপ্তাহখানেক ধরে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তৃতীয়জন হলেন ডাঃ প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি উত্তর ২৪ পরগণার শ্যামনগরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শ্যামনগর এলাকায় চিকিৎসা করতেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ কয়েকদিন যাবৎ শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর সোমবারই মৃত্যু হয়েছে ডাঃ হিমাদ্রী সেনগুপ্তের। তবে তিনি অবশ্য করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে একদিনে মৃত ৩ চিকিৎসক! হুঁশ নেই রাজ্য সরকারের, অভিযোগ চিকিৎসক সংগঠনের 2

উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের নামী চিকিৎসক ছিলেন জেনারেল ফিজিসিয়ান ডাঃ প্রদীপ ভট্টাচার্য। এলাকায় ভগবান হিসেবে পরিচিত ‘ডাক্তারবাবু’ গত মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন থাকাকালীনই তাঁর হার্টঅ্যাটাক হয়৷ এরপর থেকে দীর্ঘদিন তিনি ভেন্টিলেটরে ছিলেন। মাঝে সুস্থ হয়ে উঠলেও ফের অসুস্থ হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। করোনা আতঙ্কে এলাকার অধিকাংশ চিকিৎসক যখন রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন সেসময় করোনাকে তোয়াক্কা না করে দিনরাত এক করে কাজ করে গিয়েছেন প্রদীপবাবু। এমনকি করোনা রোগীদেরও সমানভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন প্রদীপবাবু৷ এলাকার চটকল শ্রমিকদের দেখতেন মাত্র ১ টাকায়। গভীর রাতেও তাঁর কাছে কোনো রোগী গেলে রোগীদের ফেরাতেন না ডাঃ প্রদীপ ভট্টাচার্য। এলাকার মানুষের কাছে তিনি এতটাই ভালোবাসার মানুষ ছিলেন যে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন গোটা শ্যামনগরবাসী সকলের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে ডাক্তারবাবুর চিকিৎসাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। অবশেষে সোমবার দুপুর ৩ঃ৪০ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় ডাঃ প্রদীপ ভট্টাচার্যের।

আরও পড়ুন -  বধূর দেহ ছিনতাই অভিযানে ধুন্দুমার খেজুরি, আক্রান্ত ১৮ জন পুলিশ কর্মী, ভাঙচুর পুলিশ ভ্যান

প্রসঙ্গত, চিকিৎসক হিসেবে রাজ্যে প্রথম করোনায় মৃত্যু হয় স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ বিপ্লব কান্তি সেনগুপ্তর। তারপর থেকে করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের ২০ জন চিকিৎসকের। তাদের মধ্যে ১০ জনই কলকাতার চিকিৎসক। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাজ্যের চিকিৎসক মহল ও চিকিৎসকদের পরিবারের মধ্যে। তবে চিন্তার বিষয় এটাই, যারা সাধারণ মানুষকে সুস্থ করার জন্য জীবনের বাজি রেখেছেন, তাদের চিকিৎসার জন্যই সরকারি হাসপাতালগুলিতে উন্নত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করেননি রাজ্য সরকার। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানেও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার বিলই বড়ো হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন -  আজকের রাশিফল।। ২৬শে নভেম্বর

এবিষয়ে রাজ্যের চিকিৎসক সংগঠন এএইচএসবি-র প্রধান ডাঃ মানস গুন্টা জানান, রাজ্যের সবকটি চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়, কোনও একটি হাসপাতাল শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট করা হোক। যাতে যেসব চিকিৎসক রোগীদের করোনা চিকিৎসা করছেন তাঁরা দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা পান। এরপরই চিকিৎসক সংগঠনগুলির তরফে আবেদন করা হয় এসএসকেএম-এর ট্রমা কেয়ারের দুটি তল নিয়ে ওই ব্যবস্থা চালু হোক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিকেও এখনও পর্যন্ত তা চালু হয়নি। আর কতজন চিকিৎসকের মৃত্যু হলে রাজ্যের হুঁশ ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসক মহল