৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল মুকুব সিইএসসির, সেই পথেই কি হাঁটবে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম?

320
৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল মুকুব সিইএসসির, সেই পথেই কি হাঁটবে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম? 1

ওয়েব ডেস্ক : লকডাউনে পরবর্তীতে সিইএসসির বিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছিল সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি সকলেই। এমনকি খোদ বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ির বিলও এসেছিল আকাশছোঁয়া। বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার লাগামছাড়া বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সকলেই। এরপর বাধ্য হয়েই এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয় রাজ্য সরকারকে৷ দীর্ঘ ৩ মাস পর এবার সিইএসসির গ্রাহকদের জন্য সাময়িক স্বস্তির খবর শোনালো বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা সিইএসসি কর্তৃপক্ষ। এদিন সিইএসসি কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে মিটার রিডিং ছাড়াই বিল পাঠানো হয়েছে, সেহেতু অনাদায়ী বিল আপাতত দিতে হবে না, শুধুমাত্র জুন মাসের সংশোধিত বিল দিলেই হবে।

পাশাপাশি সিইএসসি কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে চলতি সপ্তাহের শেষের দিক থেকে গ্রাহকরা সংশোধিত আকারে জুন মাসের বিদ্যুতের বিল পাবেন। সেই সাথে প্রত্যেক গ্রাহককেই কর্তৃপক্ষের তরফে একটি করে চিঠি পাঠানো হবে৷ এবিষয়ে সিইএসসি-র ম্যানেজিৎ ডিরেক্টর (ডিস্ট্রিবিউশন) দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন , “গ্রাহকদের স্বার্থের কথা ভেবে সংশোধন করে বিল পাঠানো হচ্ছে। যে অনাদায়ী অংশের বিল যুক্ত হয়েছিল আগে, আপাতত তা দিতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র জুন মাসের বিলই দিতে হবে। বিলের সঙ্গে চিঠিতে মিটার রিডিং, অন্যান্য বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকছে।”

লকডাউনের পর গত জুনেই শহরবাসীর বিদ্যুতের বিল লক্ষ ছাড়িয়েছে৷এর জেরে বিদ্যুতের বিল নিয়ে শহরবাসীর একাংশের বিক্ষোভ ও রোষের সৃষ্টি হয়। এমনকি এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে একাধিক রাজনৈতিক মহল। অবশেষে এই ঘটনায় নবান্নকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমনকী বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সিইএসসি কর্তাদের তলব করে জানিয়ে দেন, সংশোধিত বিল না পাওয়া পর্যন্ত গ্রাহকরা টাকা জমা দেবেন না। এরপর চাপের মুখে গত ১৯ জুলাই সিইএসসির তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “এপ্রিল-মে মাসের অনাদায়ী বিলের অংশ তারা এখন নেবে না। শুধু জুনের টাকাই নেওয়া হবে।” কিন্তু এদিকে সংশোধিত বিল পাঠনোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও সংশোধিত বিল না আসায় ফের নতুন করে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। এর মাঝেই চলতি সপ্তাহের বুধবার সিইএসসির তরফে জানানো হয়, লকডাউনের জেরে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের অনাদায়ী মিটার রিডিং ও বিলের হিসাব করতে সময় লাগছে। ফলে আপাতত শুধুমাত্র জুনমাসের রিডিংয়ের সংশোধিত বিল পাঠানো হচ্ছে। মার্চ এপ্রিল, মে মাসের বিল আপাতত নেওয়া হবে না। সিইএসসির এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হচ্ছে সিইএসসির তরফে লকডাউনের ৩ মাসের বিল মুকুব করা হয়েছে। এবিষয়ে সিইএসসির দাবি, করোনার সময়ে লকডাউনে আটকে থাকা গ্রাহকদের স্বার্থ এবং অসুবিধার কথা ভেবে ফের স্বচ্ছভাবে নতুন বিল পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন -  ফোনের ওপর পেয়ে যান ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়,দেখে নেওয়া যাক কি কি ফোন রয়েছে তালিকায়।

তবে শুধুমাত্র যে সিইএসসির বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে তা কিন্তু নয়। একই অবস্থা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমেরও। লকডাউনের ৩ মাস মিটার রিডিং ছাড়া বিদ্যুৎ বিল মেটনো সত্ত্বেও জুন থেকে আগস্ট মাসের বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে৷ এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থা সিইএসসির বিল মুকুবের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, লকডাউন আমফানের জেরে গোটা রাজ্যের মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে বিল মুকুবের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সিইএসসি গ্রাহকরাই ছাড় পাবে কেন? তবে এ বিষয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম সিইএসসির দেখানো পথে হেঁটে গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ায় কিনা এখন সেদিকেই তাকিয়ে গ্রাহকরা।

৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল মুকুব সিইএসসির, সেই পথেই কি হাঁটবে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম? 2