জোড়াবাগানে ৯বছরের বালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন! রাক্ষস রাজ চলছে বললেন আইপিএস ভারতী ঘোষের

202
জোড়াবাগানে ৯বছরের বালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন! রাক্ষস রাজ চলছে বললেন আইপিএস ভারতী ঘোষের 1

অশ্লেষা চৌধুরী: কলকাতার জোড়াবাগানে মাত্র ৯ বছরের শিশুকন্যার ধর্ষণ ওখুনের ঘটনার পর পুলিশের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আইপিএস তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি ভারতী ঘোষ। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার জয়পুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে এসে ঘোষ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ কোথায় আছি আমরা? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা আর ঘটনাটি ঘটেছে এক মহিলা বিধায়িকা আবার নারী ও সমাজকল্যানের মন্ত্রীর এলাকায়?

মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ওই বালিকার ক্ষত বিক্ষত দেহের সন্ধান মিলেছে বৃহস্পতিবার। ঘটনাটিকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক বলেন, ‘এটি মধ্যযুগীয় বর্বরতা’,এরকম ঘটনা কলকাতার বুকে আগে কখনও হয়নি’। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারকেও নিশানা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের গতির ওপর নির্ভর করে আর কী কী হতে পারে? এরাজ্যে বারংবার একই ঘটনা ঘটেই চলেছে অথচ তদন্তের কী হাল? ছোট ঘটনা, সাজানো ঘটনা বলা হয়েছে আর ধর্ষকরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়িয়েছে। যদি দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত হয়, অভিযুক্তরা ধরা পড়ে, দোষীরা শাস্তি পেত, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে এরকম ঘটনা বারংবার ঘটতো না।”

জোড়াবাগানে ৯বছরের বালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন! রাক্ষস রাজ চলছে বললেন আইপিএস ভারতী ঘোষের 2

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের মধ্যে গতি নেই, দক্ষ টিম দিয়ে তদন্ত করানো হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধী ধরা পড়বেন এবং এরূপ ঘটনায় সাথে সাথে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়া উচিৎ।” এছাড়াও তিনি বলেন, ‘অপরাধীকে ধরতে গেলে সে কী ধরনের অপরাধ করলো তা জানা প্রয়োজন।”তিনি বলেন,”পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দাবিয়ে রাখছে প্রশাসন।”
উল্লেখ্য বুধবার বিকালে বাড়ীর সামনেই অন্যান্য শিশুদেরমে সঙ্গে খেলছিল মেয়েটি। তারপর সন্ধ্যা থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে পাশের বাড়ীর ছাদে ওঠার সিঁড়ি থেকে শিশুটির গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করে শিশুটির দুধের দাঁত, মাথার চুল, চুড়ি।

ফরেন্সিক টিম জানিয়েছে, প্রথমে ওই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারপর প্রমান লোপাট করার জন্য তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তারপর নাবালিকার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় আড়াআড়িভাবে ছুরি চালিয়েছে অপরাধীরা। ফরেন্সিক টিম আরও জানিয়েছে, অপরাধীদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ওই নাবালিকা। কারণ ঘটনাস্থলে একাধিক ধস্তাধস্তির চিহ্ন পেয়েছে ফরেন্সিক টিম। এছাড়াও মৃতদেহে নিম্নাঙ্গের বস্ত্র ও অন্তর্বাস থাকলেও, মেয়েটির গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল।

ঘোষের দাবি, এরাজ্য শুরু থেকেই একটি ধামা চাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা হয়না। এমন একটি অদক্ষ সরকার ও তার প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যে একের পর এক জঘন্যতম অপরাধ ঘটেই চলেছে। আর তারই খেসারত দিতে হল ওই ৯ বছরের বালিকাকে। ঘোষ এদিন জয়পুরের সভা থেকে তৃনমূল রাজকে রাক্ষসরাজ বলে বর্ননা করে জনগণের কাছে আহবান জানিয়েছেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই সরকারকে পরাস্ত করার জন্য।

Previous articleজীর্ণ মন্দিরের জার্নাল-৮৬, চিন্ময় দাশ
Next articleস্থলবন্দরে ভাঙচুরে অভিযুক্ত তৃনমূল কংগ্রেস শ্রমিক নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে কর্মবিরতি পালন এনজেপিতে, জোর জবরদস্তির অভিযোগ, দুর্ভোগে যাত্রীরা