করোনা মোকাবেলায় রাজ্যে জারি এক গুচ্ছ নির্দেশিকা; না মানলেই গুণতে হবে কঠোর মাশুল

961
করোনা মোকাবেলায় রাজ্যে জারি এক গুচ্ছ নির্দেশিকা; না মানলেই গুণতে হবে কঠোর মাশুল 1

নিউজ ডেস্ক: লাগামহীন করোনা সংক্রমণ; দিন প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত অমৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে ১১ দফা নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে, তা হল-

করোনা মোকাবেলায় রাজ্যে জারি এক গুচ্ছ নির্দেশিকা; না মানলেই গুণতে হবে কঠোর মাশুল 2

সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও বাণিজ্যিক চত্বর সহ সহ অন্যান্য কর্মস্থলে সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ স্যানিটাইজেশনের কাজ করতে হবে।

করোনা মোকাবেলায় রাজ্যে জারি এক গুচ্ছ নির্দেশিকা; না মানলেই গুণতে হবে কঠোর মাশুল 3

গণ পরিবহন সহ জনবহুল স্থানগুলিতে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ অন্যান্য কোভিড বিধি মেনে চলবে হবে। এই বিষয়গুলি সম্পর্কে নজরদারি চালাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজ্য সরকারের আওতাধীন অফিসগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতির হার ৫০ শতাংশের বেশি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীরা রোটেশনাল ভিত্তিতে অফিসে আসবেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে যত দূর সম্ভব বাড়িতে থেকে কর্মীদের কাজ, কর্মীদের বিভিন্ন শিফ্টে বা রোটেশনাল ভিত্তিতে অফিসে আনার ব্যবস্থা ফের চালুর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কর্মস্থলের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের কর্মীদের মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্বর মতো বিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বাজার, সাপ্তাহিক বাজার, সরকারি ও বেসরকারি পরিবহণের মতো জনবহুল জায়গাগুলিতে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং স্যানিটাইজেশন করতে হবে।

সমস্ত দোকান, বাজার, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় ভাগ করে দিতে হবে।

সমস্ত বাজারগুলিতে ২০২০-র মতোই চেম্বার অফ কমার্স বা ব্যবসায়িক সংগঠনগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্যানিটাইজেশনের কাজ করতে হবে।

শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স, থিয়েটার, রেস্তোরাঁ ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথে থার্মাল স্ক্রিনিং, হাত ধোওয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুলগুলিকে এর আগের জারি করা নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

উল্লেখিত সমস্ত বিধি-ব্যবস্থার কোনওভাবে লঙ্ঘন ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে ক্রমেই বাড়ছে করোনার তাণ্ডব। হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দফতর থেকে জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা। জেলা ও সরকারি হাসপাতালের সুপারদের পাঠানো হয়েছে এই নির্দেশিকা।

এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘সংক্রমিতের উপসর্গ তীব্র হলে, তবেই হাসপাতালে ভর্তি নিতে হবে। মৃদু উপসর্গ থাকা রোগীদের সেফ হোমে পাঠাতে হবে। সঙ্কটজনক নাকি মৃদু উপসর্গ, স্বাস্থ্য দফতরের কল সেন্টারের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। ১২ ঘণ্টা নয়, করোনা চিকিত্‍সা পরিষেবায় যুক্তদের ৮ ঘণ্টা ডিউটির ব্যবস্থা।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় বাংলায় নতুন করে ৭,৭১৩ করোনায় আক্রান্ত, মৃত ৩৪ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬,৫১,৫০৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ১৭ এপ্রিলের হিসেব অনুযায়ী করোনার সক্রিয় কেস মোট ৪৫,৩০০। গত ২৪ ঘণ্টার নিরিখে, করোনার থাবা সবথেকে বেশি জোরালো হয়েছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনাতে। কলকাতায় দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে ১,৯৯৮ আর উত্তর ২৪ পরগণায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনার কবলে পড়েছেন ১,৬৩৯ জন।

Previous articleনন্দীগ্রামে মীনাক্ষীর রণকৌশল রচিয়তা নির্মল জানা প্রয়াত! দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার আগেই করোনায় প্রয়াত হলেন অবিভক্ত মেদিনীপুরের বাম নেতা
Next articleপিছিয়ে গেল সর্বভারতীয় পরীক্ষা JEE(Main);পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল এনটিএ