আপনাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা উচিৎ! করোনা সংক্রমণের জন্য কমিশনকেই দায়ি করে তীব্র ভর্ৎসনা মাদ্রাজ হাইকোর্টের

353
আপনাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা উচিৎ! করোনা সংক্রমণের জন্য কমিশনকেই দায়ি করে তীব্র ভর্ৎসনা মাদ্রাজ হাইকোর্টের 1

নিউজ ডেস্ক: “ভোট প্রচার যখন চলছিল, তখন আপনারা কি অন্য গ্রহে ছিলেন! কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়া উচিৎ।“ নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্‌ৎসনা মাদ্রাজ হাইকোর্টের। এমনকি গণনা বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে একেবারে নাভিশ্বাস উঠছে দেশবাসীর। তার ওপর ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন করোনা ভাইরাসকে আরও সুযোগ করে দিচ্ছে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে। বিশেষ করে বঙ্গে ৮ দফার ভোটে জোর কদমে চলেছে নির্বাচন প্রচার, যা করোনাকে বাড়তে সাহায্য করেছে। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা করল মাদ্রাস হাইকোর্ট। সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে তোপ দেগে বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী একমাত্র নির্বাচন কমিশনই। কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হওয়া উচিৎ।‘

আপনাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা উচিৎ! করোনা সংক্রমণের জন্য কমিশনকেই দায়ি করে তীব্র ভর্ৎসনা মাদ্রাজ হাইকোর্টের 2

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘ভোট প্রচার যখন চলছিল, তখন আপনারা কি অন্য গ্রহে ছিলেন! আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কোভিড প্রোটোকল নিশ্চিত করতে পারেনি কমিশন। গণনার দিন কোভিড প্রোটোকল মানা নিয়ে কী ভাবছে কমিশন? ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাতে হবে কমিশনকে।’ পাশাপাশি কড়া পদক্ষেপ যদি কমিশন না নেয়, তবে আগামী ২রা মে’ গণনা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

হাইকোর্টের আরও বক্তব্য, জনস্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই বিষয়টি যে একটি সাংবিধানিক সংস্থাকে স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে, এটাই আক্ষেপের বিষয়। কেউ বেঁচে থাকলে তবেই তো গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন, বলেন প্রধান বিচারপতি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের রোষানলে পরে নির্বাচন কমিশন। ‘হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার প্রয়োগ করছে না কমিশন’- করোনা আবহে নির্বাচনী প্রচার বন্ধের মামলায় কমিশনের ভূমিকায় চুড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্ট। কমিশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, কমিশনের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এর কোনও ব্যবহার করছে না কমিশন। এই করোনা কালে টি এন শেসনের দশ ভাগের একভাগ করে দেখাক কমিশন। একটা সার্কুলার দিয়ে জনগণের ওপর সব ছেড়ে রেখেছে কমিশন। পুলিশ, ক্যুইক রেসপন্স টিম সব আপনাদের আছে। ‘তাও কেন সেসবের ব্যবহার করছেন না?’

এরপরে জেগে কিছুটা জেগে ওঠে ঘুমন্ত কমিশন। প্রচারের সময় কোভিড বিধি ভঙ্গ করলে মহামারী ও বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয় কমিশনের পক্ষ থেকে। সেই সঙ্গেই কমিশন এই মর্মে নির্দেশ জারি করে যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে ৭টা থেকে সমস্ত রোড শো, পদযাত্রা নিষিদ্ধ। বাইক, সাইকেল র‍্যালিতেও কমিশনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে এদিন থেকেই। নির্দেশে বলা হয় সামাজিক দূরত্ব মেনে সভা করা যাবে সর্বোচ্চ ৫০০ জনকে নিয়ে। আগে দেওয়া সমস্ত র‍্যালির অনুমতিও বাতিল বলে এদিন জানিয়ে দেয় কমিশন।

এরপরেই শুক্রবার বিকেলে রাজ্য নির্বাচন আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সূ্ত্রের খবর, ভিডিও বৈঠকে প্রথমেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে কমিশনের কর্তারা জানতে চান, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে অতিমারী আইন কঠোরভাবে লাগু করার জন্য যে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল, তা কেন লাগু করা হয়নি? সেই কারণেই আদালতে কমিশনকে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য তাদের।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র বলেন, “যারা যারা নির্বাচনী প্রচারে কোভিড বিধি মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে এফএইআর করুন। সেই সমস্ত অভিযোগের রিপোর্ট আমাদের পাঠান। আপনারা নিজে কেন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না?” সেইসময় ধমক খেয়ে জেলা প্রশাসন বেশ কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে এফআইআর করে এবং বেশ কয়েকজনকে শোকজ নোটিশও ধরায় প্রশাসন।

কিন্তু দেশ জুড়ে বেলাগাম করোনা। প্রতিদিনই প্রায় সংক্রমণ ৩ লক্ষের উর্ধে। আর করোনার এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের জন্য একমাত্র নির্বাচন কমিশনকেই দুষলেন মাদ্রাস হাইকোর্ট। এমনকি সঠিক পদক্ষেপ না নিলে গণনা বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের চিকিৎসক মহল।

Previous articleশেষ দফার আগেও অব্যাহত পুলিশে রদবদল ! এবার কেষ্টর গড়ে নজর কমিশনের
Next articleফের তিনশ ছাড়ালো জেলা, খড়গপুর ৮০, মেদিনীপুর ৯০ ! পাঁচ দিনেই ১২৫০ ছাড়িয়ে গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের সংক্রমন! ডেবরা, দাসপুরে সংক্রমন বহাল, আক্রান্ত বাড়ল পিংলাতে