৪৫০টি গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের ওপর পড়ল বাজ, ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা

971
৪৫০টি গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের ওপর পড়ল বাজ, ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা 1

নিউজ ডেস্ক:  গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকে বজ্রপাত, প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে বিস্ফোরণের জেরে রীতিমত আতঙ্কে এলাকাবাসীরা। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ২ জন। ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুর-কোটা হাইওয়ের উপর। মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হনুমান নগর এলাকায়।

জানা যায় হাইওয়েতে চলন্ত একটি ট্রাকের উপর বজ্রপাত হয়। সেই ট্রাকে ৪৫০টি রান্নার গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার বোঝাই ছিল। বাজ পড়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই উল্টে যায় ট্রাকটি এবং শুরু হয়ে যায় একের পর এক বিস্ফোরণ। এইভাবে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আড়াই ঘণ্টা ধরে চলেছিল এই বিস্ফোরণ। দুর্ঘটনার জেরে বহুদূর পর্যন্ত সিলিন্ডারের টুকরো ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসি।

৪৫০টি গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের ওপর পড়ল বাজ, ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা 2

জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ এই বজ্রপাত হয়। ট্রাকের উপর বজ্রপাত হওয়ার পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি উল্টে যায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাকে থাকা সিলিন্ডারগুলিতে বিস্ফোরণ হতে শুরু করে। একের পর এক সিলিন্ডার ফেটে টুকরো ছড়িয়ে পড়ে এক-আধ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত। এমনকী বহু বাড়ির ছাদে গিয়েও পড়েছে সেই সব সিলিন্ডারের টুকরো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পরই ট্রাকে আগুন ধরে যায়। আর সেই আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে পাঁচ-সাত কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। ঘটনার কিছুক্ষণ পরই দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তখনও বিস্ফোরণ ঘটছিল। তাই ট্রাকের কাছাকাছি আর যেতে পারেননি দমকল বাহিনীর কর্মীরা।

ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনার কারণে ঐ এলাকায় স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। জানা গিয়েছে, বজ্রপাতের ঘটনার পর ১৫ ঘন্টা কেটে গেলেও এনএইচ-৫২-তে যান চলাচল বন্ধ। বুধবার সকালেও কোটা, আজমের ও জয়পুর যাওয়ার সমস্ত যানবাহন আটকে রয়েছে। বেলা বাড়ার পর সেইসব যানবাহনগুলোকে অন্য রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে পুলিশ প্রশাসন। সকাল থেকেই এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ বাহিনী। গ্যাস কোম্পানির কর্মচারীদেরও ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। গোটা এলাকা থমথমে এখনও। এই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারাও।