মালদার তৃণমূল নেত্রীর কলকাতার ফ্ল্যাটে যৌনকর্মী নিয়ে মদের আসর! পুলিশের তাড়া খেয়ে মরন ঝাঁপ কুখ্যাত দুস্কৃতির

579
মালদার তৃণমূল নেত্রীর কলকাতার ফ্ল্যাটে যৌনকর্মী নিয়ে মদের আসর! পুলিশের তাড়া খেয়ে মরন ঝাঁপ কুখ্যাত দুস্কৃতির 1
মালদার তৃণমূল নেত্রীর কলকাতার ফ্ল্যাটে যৌনকর্মী নিয়ে মদের আসর! পুলিশের তাড়া খেয়ে মরন ঝাঁপ কুখ্যাত দুস্কৃতির 2

ওয়েব ডেস্ক: উত্তর কলকাতার এক অভিজাত আবাসনের মালিক মালদহের জেলা পরিষদ সদস্য এবং স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পায়েল খাতুনের ফ্ল্যাটে যৌন কর্মীদের নিয়ে অবাধ মদের আসর। আর সেই আসরে গন্ডগোলের জেরে তুলকালাম গোটা এলাকা। শনিবার গভীর রাতে পাইক পাড়ার অভিজাত আবাসন কেভেন্টার নর্থের বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙে ব্যপক গণ্ডগোলের আওয়াজে। আবাসনের নিরাপত্তা কর্মীরা দেখেন চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শোনা যাচ্ছে গন্ডগোলের আওয়াজ। সেখানে তাঁরা পৌঁছনোর আগেই দেখা যায়, ফ্ল্যাট থেকে মত্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছেন তিন যুবক। তারা মদের ঘোরে নিজেদের মধ্যে মারামারি করছেন। বোতল ভেঙে একজন আরেকজনেক দিকে ছুটে যাচ্ছেন।
জানা গেছে শনিবার সকাল থেকে চিৎপুরের এক অভিজাত আবাসনে দুই যৌনকর্মীকে নিয়ে মদের আসর বসিয়ে ছিলেন হুগলির এক কুখ্যাত দুষ্কৃতি। সঙ্গি ছিল পুলিশেরই এক কনস্টেবল। এদিকে পুলিশ তল্লাশি চালাতেই আবাসনের চারতলার ফ্ল্যাট থেকে পালাতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে নিচে পড়ে যান আবদুল হুসেন নামে ওই দুষ্কৃতি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই আবদুলের। ঘটনায় ওই পুলিশ কনস্টেবল ও দুই যৌনকর্মী সহ ঘটনার সময় আবাসনে থাকা এক রান্নার লোক ও গাড়ির চালককে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা করছে চিৎপুর থানার পুলিশ। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার হোমিসাইড শাখার তদন্তকারী আধিকারিকরা।

এদিকে ঘটনার পর রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা৷ সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় ভাঙা মদের বোতল, কাঁচ, রক্তের নমুনা সহ একাধিক জিনিস৷ জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরর ওই আবাসনে আসে হুগলির দাগী আসামী আবদুল হুসেন ও এক পুলিশ কনস্টেবল। তবে এরা ছাড়াও এক রাধুনী ও গাড়ি চালক তাদের সাথে আসে। এমনকি দুপুরের দিকে দুই নিষিদ্ধপল্লীর মহিলাকেও ডাকা হয়। জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল থেকেই আবাসনে মদের আসরে বসে হুগলীর কুখ্যাত দুষ্কৃতি আবদুল হুসেন।

মালদার তৃণমূল নেত্রীর কলকাতার ফ্ল্যাটে যৌনকর্মী নিয়ে মদের আসর! পুলিশের তাড়া খেয়ে মরন ঝাঁপ কুখ্যাত দুস্কৃতির 3

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের দিকে আচমকা ওই আবাসন থেকে চিৎকার ও ভাঙচুরে শব্দ পেয়ে ফ্ল্যাটের নিরাপত্তারক্ষী দ্রুত পুলিশে খবর দেন। এরপরই আবাসনের বাইরে আহত অবস্থায় নিষিদ্ধপল্লীর দুই যুবতীকে দৌড়ে আসতে দেখা যায়৷ সে সময় অন্যান্য আবাসিকরা তাদের আটকে ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করলে ওই দুই যুবতির অভিযোগ, প্রথমে তাদের সাথে কথা-কাটাকাটি তারপর মারধর করতে শুরু করে আবদুল। এমনকি তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁচের গ্লাসও ছোঁড়া হয়। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে চিৎপুর থানার পুলিশ পৌঁছাতেই তাঁরা ফ্ল্যাটের ভেতরে গিয়ে দেখেন, মেঝেতে চারিদিকে ভাঙা কাঁচ ও মদের বোতল ছড়িয়ে রয়েছে। চারিদিকে রক্ত পড়ে রয়েছে।

এরপরই পুলিশ ফ্ল্যাটের সকলকে বের করে আনেন। কিন্তু এর মধ্যেই আচমকা উধাও হয়ে যায় আবদুল। আবদুলের খোঁজ শুরু হলে দেখা যায় আবাসনের সামনের মাঠে পড়ে রয়েছে তাঁর দেহ। মাঠের সামনের আবাসনের বারান্দায় ঝুলছে দড়ি ও বিছানার চাদর। ঘটনায় পুলিশের অনুমান, বহুদিন ধরেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল হুগলির এই কুখ্যাত দুষ্কৃতি। সম্ভবত পুলিশ আসছে দেখে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আবাসন থেকে দড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কোনোভাবে পা পিছলে পড়ে যায় আবদুল। তখনই ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় হুগলির কুখ্যাত দুষ্কৃতি আবদুল হুসেনের।
যদিও তৃনমূল নেত্রী পায়েল জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কারণ, তিনি শিলিগুড়িতে রয়েছেন।