পায়ের আঙুল ভেঙে যন্ত্রনা কাতর শিশির অধিকারী, দিল্লি উড়ে গেলেন দিব্যেন্দু! মমতার সভা কী তবে অধিকারী হীন

1348
পায়ের আঙুল ভেঙে যন্ত্রনা কাতর শিশির অধিকারী, দিল্লি উড়ে গেলেন দিব্যেন্দু! মমতার সভা কী তবে অধিকারী হীন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর ঘন্টা কয়েক পরেই পশ্চিমে সভা করবেন মমতা ব্যানার্জী। ২০২১ বিধানসভার আগে এটাই দলীয় নেত্রীর প্রথম সভা এবং মেদিনীপুরের এই সভার মধ্য দিয়েই রাজ্য জুড়ে কর্মীদের দুর্গ রক্ষার লড়াইতে নামার আহ্বান জানাবেন তিনি এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিকরা। পশ্চিমে সভা হলেও এই সভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নেতৃত্বকে। শুভেন্দু অধিকারী উত্তর পর্বে পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং প্রয়োজনীয় কিন্তু এই সভাতে খোদ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারীই থাকতে পারবেন? জল্পনা এখন তাই নিয়েই।

সূত্রের খবর ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ ভেঙে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন তিনি, ছোটখাটো একটা অপারেশনও করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাঁকে এমনটাই দাবি করেছেন সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, ‘মূখ্যমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে কিন্তু যেতে পারব কীনা সন্দেহ।” শুভেন্দু অধিকারীর পিতার এই দুর্ঘটনা নেহাৎই কাকতলীয় কি? জল্পনা তাই নিয়েই।

পায়ের আঙুল ভেঙে যন্ত্রনা কাতর শিশির অধিকারী, দিল্লি উড়ে গেলেন দিব্যেন্দু! মমতার সভা কী তবে অধিকারী হীন 2

আর সেই জল্পনায় পেট্রল ঢেলেছে মূখ্যমন্ত্রীর সভার ঠিক ২৪ঘন্টা আগেই শিশির পুত্র তথা শুভেন্দুর ভাই এবং তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর দিল্লি উড়ে যাওয়ায়। সাংসদ হিসাবে দিব্যেন্দুরও আজ, ৭ই ডিসেম্বরের এই সভায় থাকার কথা। দুই জেলার সমস্ত সাংসদরাই সভায় আমন্ত্রিত। এই অবস্থায় দিল্লি উড়ে গেলেন তমলুকের তৃণমূল সাংসদ তথা শুভেন্দু অধিকারীর ছোটো ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী ৷ অর্থাৎ মনে হচ্ছে হয়ত অধিকারী পরিবারের কোনও সদস্যই মমতার সভায় উপস্থিত থাকতে পারছেননা।

গত কয়েকমাস ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে কাঁথির অধিকারী পরিবারের মেজ ছেলে শুভেন্দুর ৷ তিনি বিজেপিতে যাবেন কি না তা নিয়েও জল্পনা অব্যাহত ৷ শুভেন্দুর বাবা তথা পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলছেন এখনও দলেই আছেন তাঁর মেজ ছেলে ৷ তবে দিব্যেন্দুকে কখনও শুভেন্দুকে নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়নি ৷ প্রশ্ন উঠেছে যখন পশ্চিমের এই দুই জেলার নেতৃত্ব, বিধায়ক, সাংসদদের দলে তখন হঠাৎই দিল্লি কেন উড়ে গেলেন দিব্যেন্দু ৷ যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের কোনও নেতাই মুখ খোলেননি ৷

রাজ্য রাজনীতির চোখ এখন কাঁথির অধিকারী পরিবারের দিকে। শুভেন্দু মন্ত্রীত্ব ও সরকারি পদ ছাড়লেও দলীয় সদস্যপদ ও বিধায়কপদে ইস্তফা দেননি তবে যে কোনও মুহুর্তে এই ঘটনাটি ঘটে যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু দলে থাকছেনা ধরে নিয়েই তৃনমূলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ঢেলে সাজানো হচ্ছে, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতিদের ছাঁটাই শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আরও হবে।

শিশির আগে বলেছিলেন অধিকারী পরিবার বেইমানি করেনা। নন্দীগ্রাম দিবস পালনের দিন শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা সভা করতে এসে ফিরাদ হাকিম শুভেন্দুর নাম না করে বলেছিলেন, মীরজাফররা আজও আছে। যার পাল্টা সভায় দিব্যেন্দু বলেছিলেন, মীরজাফর কে, তার বিচার করবেন জনগন। এই টানা পোড়েনের মধ্যেই আজও, এখনও মূখ্যমন্ত্রীর সভার কয়েক ঘন্টা আগে অবধি তৃনমূলেই রয়েছে অধিকারী পরিবার কিন্ত আজই কী ‘দুধ কা দুধ আর পানি কা পানি’ হয়ে যাবে? গতকাল, রবিবার সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর কিন্তু সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেন তিনি। এরই মধ্যে দিব্যেন্দুর দিল্লি উড়ে যাওয়া কোন বার্তা বয়ে আনছে বাংলার রাজনীতিতে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।