কাঁথিতে অধিকারী পরিবারের ক্ষমতা খর্ব করার পথে আরও একধাপ এগুলো তৃনমূল, শিশিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি সাংসদের

519
কাঁথিতে অধিকারী পরিবারের ক্ষমতা খর্ব করার পথে আরও একধাপ এগুলো তৃনমূল, শিশিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি সাংসদের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর সম্ভবতঃ আস্থা রাখা যাচ্ছেনা অধিকারী পরিবারের প্রতি। কাঁথি পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে মঙ্গলবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দু ভ্রাতা তথা শিশির অধিকারীর কনিষ্ঠ পুত্র সৌমেন্দু অধিকারীকে আর বুধবারই সেই পদে আনা হয়েছে অধিকারী পরিবারের বিরোধী বলেই পরিচিত
কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা বর্তমান কাঁথি শহর তৃণমূলের সভাপতি সিদ্ধার্থ মাইতিকে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আগামীকালই প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা তাঁর। সিদ্ধার্থ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃনমূলের কার্যকরী সভাপতি তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির ঘনিষ্ট বলেই পরিচিত। অখিল গিরি পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে শিশির অধিকারীর চির প্রতিদ্বন্দ্বী বলেই পরিচিত।

মঙ্গলবার পুরসভার প্রশাসকের পদ থেকে সৌমেন্দুকে অপসারনের পরই বুধবার রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে প্রশাসক বদলির সেই নির্দেশ বুধবার কাঁথি পুরসভার ই-মেলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সিদ্ধার্থ মাইতিকে প্রশাসক নিযুক্ত করার পাশাপাশি রদবদল আনা হয়েছে পুরপ্রশাসকমন্ডলীতেও। ৩ জনের প্রশাসকমন্ডলীর জায়গায় এবার ৫ সদস্যের প্রশাসকমন্ডলী গঠন করা হয়েছে। সেখান থেকেও ছেঁটে ফেলা হয়েছে সৌমেন্দুকে।

কাঁথিতে অধিকারী পরিবারের ক্ষমতা খর্ব করার পথে আরও একধাপ এগুলো তৃনমূল, শিশিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিজেপি সাংসদের 2

প্রধান প্রশাসক সিদ্ধার্থ মাইতি ছাড়াও নতুন বোর্ডে রয়েছেন পুরসভার বর্তমান ৩ ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর পম্পা জানা মাইতি, সুবল মান্না, শেখ সাবুল এবং জেলা পরিষদের কো-মেন্টর হাবিবুর রহমান। অবশ্য আগের প্ৰশাসকমন্ডলীতেও ছিলেন পম্পা এবং সুবল। সব মিলিয়ে অধিকারীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হয়েছে কাঁথি পুরসভা থেকে।

এদিকে দলের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট তমলুকের সাংসদ তথা শুভেন্দু অধিকারীর অন্য ভাই দিব্যেন্দু জানিয়ে দিয়েছে তাঁর ভাইকে সরিয়ে দিয়ে দল ঠিক করেনি তাই কাঁথি পুরসভায় তিনি আর যাবেননা। উল্লেখ্য পুরসভায় দিব্যেন্দুর একটি অফিস ছিল যেখানে তিনি বলতেন। দিব্যেন্দুর এই সিদ্ধান্তে কার্যত কাঁথি পুরসভা অধিকারী হীন হয়ে পড়ল। রাজনীতিবিদদের অনুমান এটাই চেয়েছিল তৃনমূল।

শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও দল ছাড়েনি শিশির অধিকারী ও তাঁর অন্য দুই পুত্র দিব্যেন্দু ও সৌমেন্দু। কিন্তু ঘটনাচক্রে মেদিনীপুরে ৭ই ডিসেম্বর মমতার সভা অথবা কয়েকদিন আগে খোদ কাঁথির বুকে হয়ে যাওয়া ফিরহাদ হাকিম ও সৌগত রায়ের সভায় হাজির ছিলেননা অধিকারী পরিবারের কেউই। ফলে তাঁদের সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেনা দল। আর সেই কারনেই সম্ভবতঃ কাঁথি পুরসভার নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে ফেলা হল অধিকারীদের।

এদিকে এরই মধ্যে কাঁথির শান্তিকুঞ্জতে গিয়ে শিশির অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন এই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাত। তিনি কি তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও বার্তা পৌঁছাতে গেছিলেন অধিকারী পরিবারের কর্তা কে? মাহাত যদিও বিষয়টিকে নেহাৎই সৌজন্য মূলক সাক্ষাৎকার বলেই জানিয়েছেন। তৃনমূল কংগ্রেস থেকে তবে কী চির বিদায় হতে চলেছে?

Previous articleদিনে শুভেন্দুর শোভাযাত্রায় আসা লোকজনের ওপর হামলার পর রাতেই নন্দীগ্রামে ভাঙচুর তৃণমূল কার্যালয়
Next articleসঙ্গে রুকস্যাক ।। মীর হাকিমুল আলি