গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার পর এবার বালির চরে পুঁতে দেওয়া সারি সারি মৃতদেহের শিউরে ওঠার ছবি উত্তরপ্রদেশে

103
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: দু’দিন আগেই জলে ভেসে আসছিল পচা গলা দেহ। এবারে উদ্ধার হল বালিতে পোঁতা মৃতদেহ। উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার দুটি জায়গায় গঙ্গার ধারে বালিতে পোঁতা একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়, যা নিয়ে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। দেহগুলি হাজিপুর এলাকার রউতাপুর গঙ্গাঘাটে বালিতে পোঁতা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

এই শিহরন জাগানো ঘটনার একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, বালির নিচে চাপা পড়ে রয়েছে দেহ। আর স্থানীয়রা সেগুলি দেখছেন। বেশিরভাগ দেহই গেরুয়া কাপড়ে মোডা। তবে ওই দেহগুলি করোনা আক্রান্তদের কিনা, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

Advertisement
Advertisement

সূত্রের খবর, চলতি করোনা অতিমারীতে মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৎকারের খরচও বেড়ে গিয়েছে। রীতি মেনে এক-একটি দেহ সৎকারের খরচ বেড়ে হয়েছে, ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এরফলে গরিবদের পক্ষে সেই খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সেজন্য তাঁরা নদীর ধারে বালিতে পুঁতে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী শিরিষ গুপ্ত বলেছেন, বর্ষা আসতে আর মাসখানেক দেরি। গঙ্গায় জল বাড়লেই ওই দেহগুলি ভেসে যাবে। জেলা প্রশাসনের উচিত দেহগুলি তুলে উপযুক্ত শেষকৃত্যের বন্দোবস্ত করা। উন্নাওয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার বলেছেন, কিছু লোক দেহ না পুড়িয়ে নদীর ধারে বালিতে পুঁতে দেন। খবর পাওয়ার পর তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমি ঘটনাস্থলে আধিকারিকদের পাঠিয়েছি।

তবে, বালি চাপা দেহ সৎকারের বিষয়ে আধিকারিদের বক্তব্য, দেহগুলি তুললে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেলার এক পদস্থ আধিকারিক বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরে গঙ্গায় অগুন্তি পচাগলা মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা যায়। এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার বক্সারেও একই চিত্র দেখা যায়। বক্সারের নদীর পাড়ে প্রায় শতাধিক মৃতদেহ ভেসে আসায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বক্সার প্রশাসনের অনুমান ছিল দেহ গুলি উত্তরপ্রদেশ থেকেই এসেছে দেহগুলি। মঙ্গলবার গাজিপুরে এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটায় সেই অনুমান সত্যি বলে প্রমানিত হয়।

করোনায় মৃত্যু হলে কোভিড বিধি মেনে প্রশাসনের নজরদারিতে দেহের সৎকার করা হয়। কিন্ত এভাবে দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবী, এই প্রথম নয় বেশ কয়েকদিন ধরেই নদীতে দেহ ভেসে আসার ঘটনা ঘটছে। এত বিপুল সংখ্যায় মৃতদেহ নদীর পাড়ে জমে থাকায় প্রশাসনের নজর পড়েছে। এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে যমুনায় ও বিহারের কাটিহার ও বক্সায় গঙ্গায় লাশ ভেসে আসার ছবি নজরে এসেছে। পচাগলা, আধপোড়া মৃতদেহের গন্ধে অস্বস্তিকর, অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে। সংক্রমণের আশঙ্কায় একেই ভয়ে কাতর এলাকাবাসী। ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ ও নীতিশ-বিজেপি সরকারের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই।

এমন আতঙ্কের মাঝেই ফের বৃহস্পতিবার যোগী রাজ্যে বালিতে পোঁতা মৃত দেহ উদ্ধার হওয়ায় আরও আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।