জিতেন্দ্র যাওয়ার পরই ভাঙন তৃণমূলে! আসানসোলে বড়সড় ধাক্কা শাসকদলের

359
জিতেন্দ্র যাওয়ার পরই ভাঙন তৃণমূলে! আসানসোলে বড়সড় ধাক্কা শাসকদলের 1

 

অশ্লেষা চৌধুরী: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আর তার দলবদলের সাথে সাথেই ঘাস ফুল শিবিরে ফের উইকেট পতন। পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন আসানসোলের তিন তৃণমূল কাউন্সিলর।

জিতেন্দ্র যাওয়ার পরই ভাঙন তৃণমূলে! আসানসোলে বড়সড় ধাক্কা শাসকদলের 2

বুধবার বিজেপির হেস্টিংস অফিসে গিয়ে আসানসোল পৌর কর্পোরেশনের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বাপি হুইলার, সাধন পাল, অমিত তুলসিয়ান-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী সমর্থক দিলীপ ঘোষের হাত থেকে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন। এদিন বিজেপির কলকাতার হেস্টিংস অফিসে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, স্পোকসপারসন শমীক ভট্টাচার্য, আসানসোলের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র ও পাণ্ডবেশ্বর বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি র উপস্থিতিতে যোগদান করলেন বিজেপিতে। জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবার পাণ্ডবেশ্বর থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন বলেই সূত্রের খবর। তিনি আগের বারে পাণ্ডবেশ্বর থেকেই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

তবে নির্বাচন প্রাক্কালে শুধু তৃণমূল নয়, আদিবাসীদের সংগঠনেও ভাঙন ধরিয়েছে পদ্ম শিবির। আদিবাসী বিকাশ পরিষদের নেতা মহিম সর্দারের নেতৃত্বে ৫১ জন নেতা-কর্মী এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ বলেছেন, তাঁরা সমাজের সব স্তর থেকে মানুষদের বিজেপিতে যোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। সবস্তরের মানুষের জন্য বিজেপির দরজা খোলা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একের পর এক দলবদল চলছে। দলবদলের ক্ষেত্রে পাল্লা ভারী কার্য বিজেপির দিকেই। যা নিয়ে খুশি বিজেপির সব পর্যায়ের নেতা থেকে কর্মী সবাই। এদিন বিজেপি মুখপত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, bjp govt is waiting.

উল্লেখ্য, বাপি হুইলার ২০১৫ সালে বিজেপির টিকিটে তিনি ওয়ার্ডের তৃণমূলের শক্তিশালী উৎপল সিনহাকে পরাজিত করেছিলেন। এরপরে তিনি তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির প্রভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এখন জিতেন্দ্র তিওয়ারি যখন বিজেপিতে যোগ দিলেন, বাপিও বিজেপিতে যোগ দিলেন।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছু সময় ধরেই সদ্য প্রাক্তন দলের সঙ্গে জিতেন্দ্রর বনিবনা যেন হচ্ছিল না কিছুতেই। রাজনৈতিক কারণে আসানসোল পুরসভাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে এবং গত ডিসেম্বরেই চিঠি দিয়েছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এরপরই ১৭ ডিসেম্বরে একে একে পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি ও আসানসোলের পুর প্রশাসকের পদ ছেড়ে দেন। দল ছাড়ার ঘোষণাও করেন তিনি। দলের নেতৃত্বের একাংশকে নিশানা করে তিনি বলেছিলেন, কলকাতার নেতারা চান না আমি দলে থাকি, তাই আমি দল ছাড়লাম। শুধু তাই নয়, দলত্যাগের পরই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা বাড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়ীতেও যান এই বিধায়ক। যদিও সেই জল্পনা সত্যি হয়নি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে নাটকীয় পরিবর্তন; পদ্ম নয়, ঘাসফুলেই আছেন বলে জানান জিতেন্দ্র বাবু।

তবে, তৃণমূলে ফিরলেও, পুরনো জায়গা আর ফিরে পাননি আসানসোলের দাপুটে নেতা জিতেন্দ্র। দলের অধিকাংশ কর্মসূচিতেই ডাক পাননি জিতেন্দ্র তিওয়ারি।পশ্চিম বর্ধমানে তৃণমূলের নতুন কমিটিতেই জায়গা হয়নি পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের। আসানসোলের পুর প্রশাসক ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদেও তাঁকে ফেরানো হয়নি। এমনকি তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর করা হয় পাশের কেন্দ্রের বিধায়ককে। আর শেষমেষ এদিন পূর্বের জল্পনা সত্যি করেই পদ্ম শিবিরে নাম লেখান জিতেন্দ্র। আর শুধু নিজেই নয়, সাথে করে ঘনিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি।