পরমভক্ত থেকে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু চৈতার সিং বাড়িতে সর্পদেবীর আরাধনা

118
পরমভক্ত থেকে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু চৈতার সিং বাড়িতে সর্পদেবীর আরাধনা 1

পলাশ খাঁ, গোয়ালতোড় :- পরম ভক্ত থেকে মায়ের স্বপ্নাদেশ। তারপর থেকেই শুরু হয় শালবনীর চৈতা গ্রামের সিং বাড়িতে সর্পদেবীর আরাধনা। চৈতা গ্রামের বাসিন্দা ফটিক সিং ছোটো বেলা থেকেই ছিলেন মায়ের পরমভক্ত। তারপর হঠাৎ একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ। মন্দির নির্মান করে নিজের হাতে আরাধনা করতে হবে। সেই থেকেই শুরু হয় চৈতার সিং বাড়িতে আশ্বিন মাসের সংক্রান্তি তিথিতে সর্পদেবীর আরাধনা। এই পারিবারিক মনসা পুজো এই বছর ৫২ বছরে পদার্পণ করছে। তবে করোনার কারনে এবার বিগত বছরের মতো হচ্ছে না জাকজমক। তবে নিয়ম মেনেই পুজোর্চনা হবে।

শালবনীর চৈতা গ্রামের বাসিন্দা ফটিক সিং। আদি বাড়ি ছিল মেদিনীপুর সদরের পাঁচখুরীর সাঁকোটি গ্রামে। খুব ছোট বেলা থেকেই মনসাদেবীর পরম ভক্ত ছিলেন। ওই গ্রামের সুবীর ঘোষ নিজের মন্দিরেই মা মনসার আরাধনা করতেন। সেখানেই তিনি সেই মন্দিরে সকাল সন্ধ্যা মায়ের সেবা করতে যেতেন। মন্দির পরিস্কার থেকে ফুল আনা সবকিছুই তিনি করতেন। পরে সুবীর ঘোষ তাকে পুজোর আচার নিষ্ঠা শিখিয়ে দেন। পারিবারিক কারনে সাঁকোটি গ্রাম ছেড়ে শালবনীর চৈতা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন ফটিক বাবু। এখানে থাকলেও মন পড়ে থাকতো সাঁকোটির সেই মনসা মন্দিরে। প্রতিদিন রাত্রে মা কে ডাকতেন মা আর কি কোনোদিন তোমার আরাধনা করতে পারবো না।

এই চিন্তা নিয়ে মাথায় নিয়েই প্রতিদিন রাত্রে ঘুমাতে যেতেন ফটিক বাবু৷ আশ্বিনের এক রাত্রে সকলেই ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু মায়ের পরম ভক্ত ফটিক সিং এর চোখে ঘুম নেই। আর কি মায়ের মন্দিরে গিয়ে আরাধনা করা হবে না। এই ভাবতে ভাবতেই চোখ যেন জড়িয়ে গেল। তারপরই চারিদিকে যেন আলোর বিচ্ছুরণ ঘটলো। তার মাঝেই মা মনসা তাকে দেখা দিয়ে বলেন এখানেই আমার মন্দির নির্মাণ করে আমার আরাধনা কর। আমি এখানেই বিরাজ করবো। বলেই মা অন্তর্ধান হয়ে যান৷ ঘুম ভেঙ্গেই বাইরে বেরিয়ে দেখেন উঠোনের এক প্রান্তে একটা আলো মিলিয়ে গেল। পরের দিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এখানেই মন্দির করে মায়ের আরাধনা করার৷ তারপর আশ্বিন মাসের সংক্রান্তি তিথি যা “ডাক সংক্রান্তি” নামে পরিচিত, সেই দিনই তিনি প্রতিমা এনে নিজেই আরাধনা শুরু করেন৷ সেই থেকে আজও সর্পদেবীর আরাধনা হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন -  আজ ঝা য়ের পরীক্ষা হাইকোর্টে, ঘুরে গেলেন সিআইডি কর্তারা

চৈতার এই সিং বাড়িতে সর্পদেবীর আরাধনা খুব নিষ্ঠা সহকারে হয়। কোনো রকম অনাচার করলেই মায়ের কোপে পড়তে হবে বলে বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের। মাথায় ঘট নিয়ে মায়ের নাম শাখি গাইতে গাইতে গোটা গ্রাম প্রদক্ষিন করে গ্রামের শেষ প্রান্তের পুকুরে বারি ডুবিয়ে এনে পুজো আরম্ভ করার রীতি সেই প্রথম দিন থেকে আজও চলে আসছে।

আরও পড়ুন -  ইরানকে টপকে বিশ্বে করোনা আক্রান্তের প্রথম দশে ভারত, হু হু করেই বাড়ছে আক্রান্ত, শুধু মহারাষ্ট্রেই ৫০ হাজার

মনসা পুজো উপলক্ষ্যে গোটা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয় সিং বাড়িতে। চলে খাওয়া দাওয়া। অনেকে আবার মানত করে যান। মায়ের সেবায়ত ফটিক সিং জানান, মা খুব জাগ্রতা। সন্তান কামনায় অনেকেই মানত করে যান এখানে। তার ফলও তারা পান। তাই পুজোর দিন রাত্রিতে এবং পরের দিন প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে। আদপে সিং বাড়ির পুজো হলেও ডাক সংক্রান্তির পুজো যেন এলাকার পুজো হয়ে উঠে।

পরমভক্ত থেকে মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু চৈতার সিং বাড়িতে সর্পদেবীর আরাধনা 2