খড়গপুর থেকে ফিরেই করোনা আক্রান্ত অভিনেতা সোহম, হাসপাতালে ভর্তি হলেন তৃণমূল যুব নেতা

1444
খড়গপুর থেকে ফিরেই করোনা আক্রান্ত অভিনেতা সোহম, হাসপাতালে ভর্তি হলেন তৃণমূল যুব নেতা 1
খড়গপুর থেকে ফিরেই করোনা আক্রান্ত অভিনেতা সোহম, হাসপাতালে ভর্তি হলেন তৃণমূল যুব নেতা 2
এভাবেই ঘেঁষাঘেঁষি করে হয়েছিল দলবদল

ওয়েব ডেস্ক : কয়েক দিন আগেই খড়গপুর শহরে এসেছিলেন পি.কের পরামর্শে গঠিত তৃণমূলের ‘যুবশক্তি’র নেতা তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। করোনা জর্জরিত শহরের রাম মন্দিরে দলের এক বড় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদানের ওই সামাজিক দূরত্বের দফারফা হয়ে যাওয়া অনুষ্ঠানই ছিল অভিনেতার সর্বাধিক ভিড়ের সভা। আর সেই সভার পরেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন যুব নেতা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে খড়গপুর শহরের ওই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি করোনা নিয়ে ফিরলেন কী না। উল্লেখ্য ওই সভা হয়েছিল ২৬ শে সেপ্টেম্বর, শনিবার। ওই দিনই কলকাতায় ফিরে যান অভিনেতা। তারপর থেকেই সামান্য অস্বস্তি বোধ করছিলেন ওই নেতা।

জানা গেছে মঙ্গলবার রাতে তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর ঝুঁকি না নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতেই তাঁকে ইএম বাইপাসের ধারে অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গিয়েছে মৃদু উপসর্গ থাকলেও আপাতত তিনি স্থিতিশীল। দলের নেতা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত সোহমের অনুগামীরা।

খড়গপুর থেকে ফিরেই করোনা আক্রান্ত অভিনেতা সোহম, হাসপাতালে ভর্তি হলেন তৃণমূল যুব নেতা 3

সূত্র বলছে কয়েকদিন যাবৎ তাঁর শরীরে মৃদু উপর্সগ দেখা দিয়েছিল। প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ নিলেও উপসর্গ সামান্য স্পষ্ট হতেই শেষমেশ কোনও ঝুঁকি না নিয়ে করোনা পরীক্ষা করান তিনি। মঙ্গলবার গভীর রাতে করোনার রিপোর্ট এলে জানা যায়, অভিনেতা করোনায় সংক্রমিত। এরপরই দ্রুত তাঁকে বাইপাসের ধারে অ্যাপেলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতিমধ্যেই হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মৃদু উপসর্গ থাকলেও সোহমের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে অভিনেতা তথা তৃণমূল নেতা করোনা পজিটিভ হলেও তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অন্যদিকে, অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই মন খারাপ সোহমের অনুরাগীদের।
শনিবার খড়গপুর শহরের গোলবাজারের রামমন্দিরের সামনে ভিড়ে ঠাসা অনুষ্ঠানে হয়েছিল এই দলবদলের পালা। তৃণমূলের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছিল অন্তত ৬০০ জন সেদিন বিজেপি থেকে তৃনমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তার সাথে আরও শ’দুয়েক তৃনমূল কর্মী সমর্থক নেতা উপস্থিত ছিলেন। আর সঙ্গে যদি উৎসাহী জনতার ভিড় থাকে তাহলে সব মিলিয়ে হাজার জনতার ভিড় ছিল সেদিন। প্রশ্ন উঠছে করোনা পর্বে এই পরিমাণ লোকের সমাবেশ আইন গত বৈধ ছিল কিনা?
সেদিনের মঞ্চও ছিল ভিড়ে ঠাসা। অভিনেতার কাছাকাছি আসার জন্য তৃনমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে তাগিদ ছিল লক্ষ্য করার মতই। এছাড়া দলত্যাগীদের একটা বড় অংশই তাঁর হাত থেকে সরাসরি পতাকা নিয়েছেন। সোহম নিজে মাস্ক পরলেও যাঁরা তাঁর কাছে এসেছিলেন বা তাঁর হাত থেকে পতাকা নিয়ে ছিলেন তাঁদের অনেকের মুখেই মাস্ক ছিলনা। এমনকি সোহম নিজেও গ্লোভস পারেননি, উন্মুক্ত হাতেই পতাকা তুলে দিয়েছেন।
শুরু থেকেই করোনায় জর্জরিত এই শহর। পৌর এলাকা এবং রেল এলাকা মিলিয়ে আক্রান্তর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে আর দুই এলাকা মিলিয়ে করোনা আক্রান্ত যুক্ত মৃতের সংখ্যা ২৫ ছাড়িয়ে। এই রকম একটি শহরে সামাজিক দূরত্ব বিহীন ভিড়ে ঠাসাঠাসি সভা কতটা নিরাপদ নেতা কর্মীদের জন্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তৃনমূল বলেই নয়, প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলির ক্ষেত্রেই এই প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন লক পর্বে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলির অনুষ্ঠানে ভিড় উপচে পড়ছে তা ভাবার বিষয়।

আরও পড়ুন -  মণীশ খুনে CBI তদন্তের আর্জি জানাতে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে গেরুয়া শিবির

এরকমটা নাও হতে পারে যে সোহম খড়গপুর থেকেই আক্রান্ত হয়ে গেছেন। হতে পারে তিনি আগেই আক্রান্ত হয়ে ছিলেন কিন্তু সেটাও বিপদের কারন অন্যদের কাছে। করোনা আমাদের বড় ক্ষতি করেছে এখনও করে চলেছে। বহু বিখ্যাত শিল্পী সাহিত্যিক, চিকিৎসক পুলিশ কর্মী, রাজনৈতিক নেতাদের হারিয়েছি আমরা। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা সেই রাজনৈতিক দলের কাছে সম্পদ। এই অবস্থায় আরও সচেতন হওয়া দরকার কিনা ভেবে দেখার সময় যদি এখনও না এসে থাকে তবে আমাদের বিপর্যয় রোধ করে সাধ্য কার?