ফের বাড়ছে লকডাউনের সীমা ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

210
ফের বাড়ছে লকডাউনের সীমা ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: কেউ বলছেন জুন অবধি গড়াবে, কেউ আবার সেপ্টেম্বর অবধি টানছেন। কিন্তু শেষ অবধি লকডাউন কতদুর চলবে তা এখনও অজানা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ।এই বৈঠককে বৈঠক না বলে এককথায় বলা যেতে ভিডিও কনফারেন্স। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সাংসদ মন্ত্রীদের বেতন থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর ।এই টাকা করোনার খাত ভরানোর কাজেই লাগবে।করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে খরচ করা হবে।পাশাপাশি লকডাউন বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে সব মন্ত্রীর মতামত নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।

লকডাউন বাড়ানো পথে হাঁটতে পারে মোদী সরকার বলে জানা গেছে দি হিন্দু পত্রিকার মতে।কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনও সিদ্ধান্ত এখনও গ্রহণ করেন।ইতিমধ্যে তেলেঙ্গানা সরকার লকডাউনের মেয়াদ ৩ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।উত্তরপ্রদেশ সরকারও একই সুপারিশ করেছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করলেও তিনি এ বিষয়ে মতামত দেননি।

ফের বাড়ছে লকডাউনের সীমা ? কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে 2

কেন্দ্রীয় সরকারের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ দিনের বৈঠক নিয়ে কথা বলেন। এবিষয়ে তিনি জানিয়েছেন,গোটা দেশ থেকে এই মারণ ভাইরাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লকডাউন পুরোপুরি তুলে নেওয়া ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তাই যে সমস্ত জায়গায় করোনার প্রকোপ বেশি, সেই জায়গাগুলিতে লকডাউন বহাল রেখে, বাকি জায়গাগুলিতে ধাপে ধাপে সমস্ত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায় কি না, তা নিয়ে পরিকল্পনা ছকে রাখতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন নরেন্দ্র মোদী।

একই সুর ধরা পড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের গলাতেও। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে প্রতি মুহূর্তে কী ঘটছে, সে দিকে নজর রেখেছি আমরা। জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেশ কিছু আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখছেন তাঁরা। ঠিক সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।’’

আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে দেশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৮। মৃত্যুসংখ্যা ৫০ ছুঁইছুঁই। তা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন জারি রাখার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে লকডাউন তুলে নেওয়া হলেও মুম্বই, পুণে-তে বাইরে বেরনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে খবর। ১৪ এপ্রিলের পর রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় লকডাউন জারি রাখতে চায় কর্নাটক সরকারও। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন রাখতে পারে তামিলনাড়ু সরকারও।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে ,এই ধরনের লকডাউন দেশে প্রথম হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে । তাছাড়া কেন্দ্র সরকার পরিকল্পনা না করে তড়িঘড়ি লকডাউন ঘোষণা করে আসলে সমস্যা আরও ঘনীভূত করেছে । এই লকডাউন আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে । তাছাড়া দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলির কাছে বিভীষিকা হতে পারে এই লকডাউন । ফলে সরকার খানিকটা দ্বিধাগ্রস্থ । তাই বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন মোদী সরকার ।