শীঘ্রই নিষিদ্ধ হতে চলেছে অনলাইনে খেলা সব রকম গেম, বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার

477
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ হতে চলেছে সব রকমের অনলাইন গেম। আর হয়তো মুঠোফোনে গেম খেলে সময় কাটানো যাবে না। যুব সমাজকে মারাত্মক এই নেশার কবল থেকে আটকাতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। অবাক হলেও সত্যি, সম্প্রতি এমনই ঘোষণা করেছে কর্ণাটক সরকার।

Advertisement

আমাদের সারাদিনের ব্যস্ত সময়ে মুঠোফোন আর ইন্টারনেট সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে। নতুন নতুন সিনেমে, ওয়েব সিরিজ, গেম, শপিং সবটাই তো পূরন করে দিচ্ছে এরা। তবে মুঠোফোনে খেলা বিভিন্ন অনলাইন গেম দিন প্রতিদিন যুব সমাজকে নিজের ঘেরাটোপে নিয়ে নিয়েছে। তার প্রমাণ সংবাদমাধ্যমে প্রায় দিনই আমরা পেয়ে থাকি। অনলাইন গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে যায় তারা যে, যে কোনও অপরাধমূলক কাজ করতেও পিছপা হয় না। আর এই নেশায় পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কত প্রাণ যে অকালে ঝরেছে আর ঝরছে, সেটিও আমরা দেখতে ও শুনতে পাই। তবে এত কিছুর পরেও আসক্তি যেন পিছু ছাড়ছে না। তাই যুব সমাজের আসক্তি কাটাতে কর্ণাটক সরকার নিতে চলেছে অসাধারণ এক পদক্ষেপ।

Advertisement
Advertisement

গত শুক্রবার কর্ণাটক মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ মেডেল অনুষ্ঠানে রাজ্যের গৃহমন্ত্রী ভাসবরাজ বোমাই বলেছেন যে, “অনলাইন গেমের শিকার গোটা যুবসমাজ। অনলাইন গেম খেলতে খেলতে তা এখন আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই গেম খেলার আসক্তির জন্য অনেক যুবক বিভিন্ন অসাধু ফাঁদে পড়ছে বা অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।” দেশের যুবসমাজের এরকম ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্যই কর্ণাটক সরকার অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করতে চায়।

এছাড়াও তিনি বলেছেন যে, ‘বিভিন্ন অনলাইন গেম খেলতে টাকা লাগে বা বেটিং করা যায়। গেমের পেছনে অযথা টাকা নষ্ট করছে যুবক সমাজ এবং অনেকেই অসৎভাবে সেই টাকা আদায়ের জন্য যা খুশি করছে’। কর্ণাটক সরকারের কাছে এর আগে যুবকদের পিতা-মাতার তরফ থেকে অনেক ধরনের অনলাইন গেমস সংক্রান্ত অভিযোগ এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই গেমে টাকার জন্য খুন বা ছিনতাইয়ের মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তাই রাজ্যবাসীর অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও সেইসাথে রাজ্যের যুবসমাজের গেমের জন্য যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে তা আটকাতে চায় কর্ণাটক সরকার। ভবিষ্যতে এই গেমের আসক্তি আর ভয়াবহ হতে পারে, সেই ভাবেই সমস্ত ধরনের অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কর্ণাটক সরকার।

আর শুধু কর্ণাটক সরকারই নয়, অনলাইনের গেমের এই ক্ষতিকারক দিক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আর তাই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অনলাইন গেমস সংক্রান্ত পরিচালক সংস্থার আইন সংক্রান্ত তথ্য নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে অন্ধপ্রদেশে প্রায় ১৩২ টি ওয়েবসাইট এবং অ্যাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন গেম এবং গাম্বলিং সাইটকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিতে কত দিন অনলাইন গেম চলবে তা চিন্তার বিষয়।

আর সরকার যদি সত্যিই দেশ জুড়ে এই সমস্ত অনলাইন গেম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা অবশ্যই একটি বড় পদক্ষেপ হবে যুব সমাজের স্বার্থে।