বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, রোগী পরিজনদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল

152
বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, রোগী পরিজনদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল 1
বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, রোগী পরিজনদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল 2

ওয়েব ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের জেরে রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নামমাত্র চলছে৷ কোথাও আবার গুরুতর অসুস্থ ছাড়া ভর্তিই নেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যেই বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠল তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, মৃত শিশু ৫ বছর বয়সী আরিফ হক। তুফানগঞ্জ থানার অন্তর্গত নাটাবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবত্র চারালজানি এলাকার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন যাবৎ শিশুটি সমস্যায় ভুগছিল। বুধবার সন্ধ্যায় আচমকা তাঁর পেটের ব্যাথা শুরু হলে চিকিসকের পরামর্শ মতো ওষুধ দেওয়া হয়৷ কিন্তু তাতেও কোনোরকম উন্নতি না হলে শেষমেশ এদিন ভোর সাড়ে ৪ টে নাগাদ শিশুটিকে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করানো হয়।

ঘটনায় শিশুটির বাবা মনিরুল হকের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর সন্তানের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকলেও সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কেউই সঠিকভাবে পরিষেবা দেন নি। এমনকি শিশুটি চিকিৎসাধীন থাকাকালীন যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বারংবার কর্তব্যরত নার্সকে স্যালাইন দেওয়ার কথা বললেও, তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়নি। তার বদলে শুধুমাত্র ওআরএস দেওয়া হয়েছিল। এমনকি শিশুটির আদতে কি সমস্যা তা জানতে কোনো চিকিৎসকই আসেনি। করা হয়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এর জেরে শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা নাগাদ যন্ত্রণায় ছটফট কর‍তে করতেই মৃত্যু হয় দুধের শিশুটির।

বিনা চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, রোগী পরিজনদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল 3

এদিকে শিশু মৃত্যুরখবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃত শিশুর আত্মীয় পরিজনেরা হাসপাতাল চত্ত্বরে ভিড় জমান ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ। এদিকে শিশুটির মৃত্যুর বেশ কয়েকঘন্টা কেটে গেলেও হাসপাতালের তরফে মৃতদেহ দিতে দেরি করায় পুলিশের সামনেই মৃতের আত্মীয়রা জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুপ্রিয় রায়কে হেনস্থা করেন। এই ঘটনার বেশ কয়েক ঘন্টা পর দেহ নিয়ে মৃতের আত্মীয়রা তুফানগঞ্জ থানায় পৌঁছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনায় তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের সুপার মৃনাল কান্তি অধিকারী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের আত্মীয়দের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তুফানগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত ঘটনা মৌখিক ভাবে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”