অর্ণব গোস্বামী গ্রেফতারে খুশি অন্বয়ের পরিবার, ক্ষুব্ধ বিজেপি পরিবার

421
অর্ণব গোস্বামী গ্রেফতারে খুশি অন্বয়ের পরিবার, ক্ষুব্ধ বিজেপি পরিবার 1

ওয়েব ডেস্ক : “অর্ণবের গ্রেফতারে আমরা খুশি।” স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ন্যায়ের বিচারে দীর্ঘ দু’বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে বুধবার সকালেই গ্রেফতার হয়েছে রিপাবলিক টিভির এডিটর-ইন-চিফ অর্ণব গোস্বামী। মাঝে বেশ কিছুদিন মামলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফের নতুন করে ইন্টিরিওর ডিজাইন তথা আর্কিটেক্ট অন্বয় নায়েক ও তাঁর মা কুমুদ নায়েক এর আত্মহত্যার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত্যুর আগে অন্বয় নায়েক রিপাবলিক টিভির সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী সহ তিনজনের কাছ থেকে ৫.৪ কোটি টাকা পাওয়ার কথা লিখে গিয়েছিলেন। সেকারণে স্বামীর মৃত্যুর পরই অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন অন্বয় নায়েকের স্ত্রী ও মেয়ে। সেই মামলায় ভিত্তিতেই এদিন গ্রেফতার হয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত রিপাবলিক টিভির এডিটর-ইন-চিফ অর্ণব গোস্বামী। আর এতে স্বাভাবিকভাবেই বেশ খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার অন্বয় নায়েকের স্ত্রী অক্ষতা এবং মেয়ে আদনিয়া।

বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অন্বয় নায়েকের স্ত্রী অক্ষতা বলেন, “আমি কোনওদিন ২০১৮ সালটা ভুলব না। সুইসাইড নোটে আমার স্বামী তিনজনের নাম উল্লেখ করেছিল। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পিছনে অর্ণব গোস্বামী আছেন। প্রত্যেক ভারতীয়ের কাছে আমার অনুরোধ যে কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াবেন না। মহারাষ্ট্র পুলিশ আমাদের সুবিচার করেছে।” পাশাপাশি এদিন তিনি জানান, “অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারে আমরা খুব খুশী। প্রথমদিকে পুলিশের তরফে এই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের একাধিকবার জোর করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমার স্বামী অর্ণব গোস্বামীকে ই-মেল করে তাঁর টাকা ফেরত দিতে বলেছিলেন। আর এর জেরেই তাঁর প্রাণ সংশয় হল। টাকা না পেয়ে শেষমেশ আমার শাশুড়ি মা এবং আমার স্বামীকে আত্মহত্যার পথ বাছতে হয়েছিল।” পাশাপাশি এদিন অন্বয় নায়েকের স্ত্রী অক্ষতা প্রশ্ন তুলে বলেন, “অর্ণব গোস্বামী সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার জন্য চিৎকার করছেন, তবে আমার স্বামী এবং শ্বাশুড়ির কথা যাঁরা অর্ণব গোস্বামীর কারণে আত্মহত্যা করেছিলেন?”

অর্ণব গোস্বামী গ্রেফতারে খুশি অন্বয়ের পরিবার, ক্ষুব্ধ বিজেপি পরিবার 2

এদিকে এদিন অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারের পর থেকেই উত্তাল হয়েছে কেন্দ্রীয় রাজনীতি। এদিন তাঁর সপক্ষে মুখ খুলেছেন শাহ থেকে জাভেদকর অনেকেই। এদিন এবিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “কংগ্রেস এবং তার সঙ্গীরা আবারও গণতন্ত্রকে লজ্জিত করেছে। অর্ণব গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপর আক্রমণ করা হয়েছে।” একইসাথে এদিন প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, “মুম্বইয়ের প্রেস সাংবাদিকতার উপর হামলা নিন্দনীয়। এটি জরুরি অবস্থার মতোই মহারাষ্ট্র সরকারের পদক্ষেপ। আমরা এর নিন্দা করি।”

অন্যদিকে নবাব মালিক বলেন, “একসময় ভারতের খুন এবং আত্মহত্যা নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হত, ওই একই অ্যাঙ্কর তাঁর স্ত্রীর হত্যা করেছিল। আবারও দ্বিতীয়বার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।” শুধু তাই নয়, এদিন সম্বিত পাত্র বলেন, “অসত্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ না ওঠালে আজ যেটা অর্ণবের সঙ্গে হয়েছে কাল সেটা আপনার সঙ্গেও হতে পারে।” তবে এদিন সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্ণব গোস্বামীকে সমর্থন করলেও এদিন গৌরব পাধী মৃত অন্বয় নায়েক ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ান। এদিন তিনি বলেন, ” এই মামলায় কী অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আত্মহত্যা? তিনি দীর্ঘদিন আইন থেকে বিরত ছিলেন। ২০১৮ সালে, এই মহিলার স্বামী অর্ণবের কারণে আত্মহত্যা করেন। তিনি মৃতকে টাকা দিতে অস্বীকার করেছিলেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করেছিলেন।”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কনকর্ড ডিজাইনসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ৫৩ বছর বয়সী অন্বয় নায়েক ও তাঁর মা কুমুদ নায়েক আলিবাগে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোটে অন্বয় নায়েক অভিযোগ করেছিলেন, অর্ণব গোস্বামী, ফিরোজ শেখ এবং নীতেশ সারদার থেকে তিনি ৫.৪০ কোটি টাকা পান। সেই টাকা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করেন অন্বয় নায়েক ও মা কুমুদ নায়েক। তবে এই ঘটনায় সেসময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন রিপাবলিক সম্পাদক অর্ণব। এর দুবছর পর চলতি বছর মে মাসে মহারাষ্ট্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করে মুম্বাই পুলিশ। এরপর সিআইডির তরফে এই মামলা তদন্ত শুরু হয়। এরপরই তদন্তের স্বার্থে বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে অর্ণব গোস্বামীকে।