প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুৎসিত মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়িতে চিত্রশিল্পী সহ গ্রেপ্তার ২

246
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুৎসিত মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়িতে চিত্রশিল্পী সহ গ্রেপ্তার ২ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিলিগুড়ি, ১০ ফেব্রুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নামে অশালীন মন্তব্যের জেরে মঙ্গলবার রাতে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃতরা শিলিগুড়ির ডাবগ্রামের বাসিন্দা সুজয় মিত্র ও হাওড়ার বাসিন্দা প্রিয়তনু মুখোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, দুজনেই শাসকদলের কর্মী। ধৃতদের মধ্যে প্রিয়তনু চিত্রশিল্পী বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

কিছুদিন যাবৎ শিলিগুড়ির ভুটিয়া মার্কেট, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, হাসপাতাল মোড় সহ বিভিন্ন এলাকার এটিএম কাউন্টার ও দেওয়ালে কেউ বা কারা প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির নামে অশালীন মন্তব্য লিখছিলেন। বারংবার ঘটনাটি ঘটায় বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি থানায় বিজেপির তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এদিন শিলিগুড়ি পুরনিগমের সামনে হাতেনাতে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে চারটি পোস্টার ও স্প্রে রংয়ের ক্যান উদ্ধার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুৎসিত মন্তব্য করার অভিযোগে শিলিগুড়িতে চিত্রশিল্পী সহ গ্রেপ্তার ২ 2

এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির জনবহুল কোর্টমোড় লাগোয়া একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারের ভিতর ওই দুজন অশালীন মন্তব্য লিখছিল। সেই সময় পুলিশ গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। যদিও ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতৃত্ব। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ।

পাশাপাশি, এদিনের ঘটনাকে তীব্র সমালোচনা করেছেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট মহল। শিলিগুড়ি একটি সংস্কৃতি মননের শহর, সেই শহরের বুকে এমন ঘটনা যে সুদূর অতীতে ঘটেনি তা বলাবাহুল্য। তাই এদিনের ঘটনায় শহরের কৃষ্টি ও গরিমায় ছেদ পড়ল বলে দাবি শহরের বিশিষ্ট জনদের। তাঁদের বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে কারুর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা থাকতেই পারে কিন্তু তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী তাছাড়া তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী নাও হতেন তবুও তিনি একজন নাগরিকও বটে। কোনোও ব্যক্তির প্রতি এই ধরনের কুৎসিত মন্তব্য বাংলা এবং ভারতের কৃষ্টি বিরোধী।
বিশিষ্টজনরা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বর্তমানে রাজনৈতিক পরিমন্ডলে কু-কথার পাশাপাশি যে ভাষা সন্ত্রাসের সৃষ্টি করা হচ্ছে তা বাংলার চিরাচিরত বহুমুখি রাজনৈতিক ভাবনার সহাবস্থানকে বিঘ্নিত করছে। অবিলম্বে এই সবের বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।