শপথ মিটতেই শুরু রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত, রাজ্যের হেলিকপ্টার না মেলায় বিএসএফ চপারেই ‘আক্রান্ত’ এলাকায় ধনকড়! বললেন, ভোটের দাম চুকাচ্ছে শীতলকুচি

85
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: শপথ গ্রহণের পরেই আবারও তুঙ্গে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। নিজেদের পছন্দমতো ভোট দেওয়ার মূল্য চোকাচ্ছেন মানুষ- ট্যুইট ধনখড়ের। রাজ্যপালের জেলা সফর নিয়ে বুধবার থেকেই নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে পত্র সংঘাত জারি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল শীতলকুচি যাচ্ছেন। রাজ্যপাল জেলায় জেলায় ঘুরে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখবেন।

Advertisement

বুধবারেই রাজ্যপাল ট্যুইটে লেখেন, “বিএসএফের হেলিকপ্টারে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কোচবিহারে যাব। সেখান থেকে ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাব। মাথাভাঙা, শীতলকুচি, সিতাই ও দিনহাটায় যাব। কোচবিহারের সার্কিট হাউসে মানুষের সঙ্গে কথা বলব। পরের দিন সকালে হেলিকপ্টারে অসমে যাব। সেখানকার রানপাগলি ও শ্রীরামপুর ক্যাম্পে যাব।“ সেইসঙ্গেই ট্যুইটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হ্যাশট্যাগে জুড়েছিলেন রাজ্যপাল।

Advertisement
Advertisement

আর রাজ্যপালের এই কোচবিহার জেলা সফর নিয়ে তাঁকে কড়া চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে দু-পাতার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘রাজ্যপালের ব্যক্তিগত বা সরকারি সফর রাজ্যকে জানিয়ে করার নিয়ম। কোচবিহার সফরে যাচ্ছেন, জানলাম সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে জেলা সফর করছেন। আপনার এই পদক্ষেপ দুর্ভাগ্যজনক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘রাজ্য প্রশাসনকে এড়িয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করায় যায় না। ২৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া পরামর্শও আপনি মানেননি। ক্রমাগত সেই অনুরোধ আপনি অগ্রাহ্য করেছেন। আবারও অনুরোধ, এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকুন।’

সেই চিঠির পাল্টা জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় দু পাতার চিঠি লেখেন রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, ‘আশা রাখি অবস্থান বদলাবেন এবং সংবিধান রক্ষার যে শপথ নিয়েছেন তাকে যথোপযুক্ত মর্যাদা দেবেন।‘ সংবিধানের ১৫৯ ধারার উল্লেখ করে রাজ্যপাল এও জানান, ‘সংবিধান ও আইন রক্ষার করার যে শপথ নিয়েছি, তা যথাসম্ভব পালন করব।‘ দু-পাতার চিঠি সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট করেছেন রাজ্যপাল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে জগদীপ ধনখড় লিখেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির প্রত্যুত্তরে তাঁকে বলতে চাইব, আশা রাখি অবস্থান বদলাবেন এবং সংবিধানর রক্ষার যে শপথ নিয়েছেন তা মেনে চলবেন ও রক্ষা করবেন। এই সময়টা যারা অসহায়তার মধ্যে দিয়ে কাটাচ্ছে তাদের পাশে থাকা দরকার। সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে যা করা সম্ভব সেটা করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।’

এখানেই থেমে থাকেননি রাজ্যপাল, বৃহস্পতিবার সকালেও ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি লিখেছেন, “এ ধরনের নজিরবিহীন সঙ্কটের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। অভূতপূর্ব ভোট-পরবর্তী হিংসার মাঝে দাঁড়িয়ে চটকদারি দেখানোর সময় নেই। আমরা দু জনেই সাংবিধানিক পদে আসীন। আমি নিশ্চিত আপনি সংবিধানকে অস্বীকার করবেন না। কারণ আপনি সংবিধান মেনে চলার শপথ নিয়েছেন। সংবিধানের ধারাগুলো যে অস্বীকার করা যায় না, তা পড়ার বইতেও লেখা থাকে।” তিনি আরও লেখেন, “খেয়াল করুন, চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন হয়েছে। শুধুমাত্র এখানেই হিংসার ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের পছন্দমতো ভোট দেওয়ার মূল্য চোকাচ্ছেন মানুষ। কীভাবে এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব? এ তো গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার সামিল।”

তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া এই বিষয়ে এখনও সামনে আসেনি। এদিকে এদিনই রাজ্যপালের শীতলকুচি সফর। সেই নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের জল কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার পালা।