দুয়োরানী সেই আশা আর অঙ্গনওয়াড়ি(আইসিডিএস) কর্মীরাই! নির্বাচনের কাজ করিয়ে আজও টাকা দেননি কমিশন

185
দুয়োরানী সেই আশা আর অঙ্গনওয়াড়ি(আইসিডিএস) কর্মীরাই! নির্বাচনের কাজ করিয়ে আজও টাকা দেননি কমিশন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: এ যেন ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো। আসন্নপ্রসবা,প্রসূতি অথবা শিশুদের স্বাস্থ্য, প্রতিষেধক, পুষ্টি মায় অক্ষরজ্ঞান যাঁদের ওপর নির্ভর করে। করোনা কাল সহ তিনশ পঁয়ষট্টি দিন ২৪ঘন্টা যাঁদের প্রয়োজন হলেই ছোটার হুমুক রয়েছে মানুষের দুয়ারে সেই আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি তথা আইসিডিএস কর্মীদের প্রতি সরকারের দুয়োরানী ভাবটাও যেন আদ্যপান্ত দখল করে বসে রয়েছেন ভারতের নির্বাচন কমিশন! অন্যান্য ভোট কর্মীরা যখন আ্যকাউন্টে কিংবা পকেটে টাকা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যান তখন কমিশনের বাকির খাতায় নাম লিখে দেওয়া হয়েছে আশা আর আইসিডিএস কর্মীদের। ভোট ফুরিয়ে ভোটগণনার দিন চলে এল তবু টাকা পাননি তাঁরা!

দুয়োরানী সেই আশা আর অঙ্গনওয়াড়ি(আইসিডিএস) কর্মীরাই! নির্বাচনের কাজ করিয়ে আজও টাকা দেননি কমিশন 2

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভোট হয়েছে গত ২৭ মার্চ এবং ১ এপ্রিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জেলার বহু আশা কর্মী ভোটের ডিউটির জন্য নির্ধারিত ৬৭০ টাকা পেল না। টাকা পাননি ডেবরা ব্লকের কোন আশা কর্মীই। অথচ কমিশনের কাছে প্রত্যেকেরই ব্যাংক একাউন্ট নম্বর নেওয়া হয়েছিল নিয়ম মেনেই। ওই কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন অন্যান্য ভোট কর্মীদের ক্ষেত্রে আগাম বরাদ্দকৃত অর্থ তাঁদের ব্যাংক একাউন্টে দিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন তাঁদের ক্ষেত্রে কেন এই বৈষম্য তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেননা।

দুয়োরানী সেই আশা আর অঙ্গনওয়াড়ি(আইসিডিএস) কর্মীরাই! নির্বাচনের কাজ করিয়ে আজও টাকা দেননি কমিশন 3

করোনা পরিস্থিতিতে এবারের ভোট হয়েছে তাই এবার বাড়তি সতর্কতা হিসাবে নির্বাচনের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল এঁদের। ভোটের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে আশা কর্মী অথবা আইসিডিএস কর্মী উপস্থিত থেকে ভোটারদের হাতে গ্লাভস পরিয়ে দেওয়া, স্যানিটাইজার দেওয়া এবং থার্মাল গান দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করার কাজ করেছেন। তার জন্য ভোটের দিন ২৫০ টাকা এবং ট্রেনিংয়ের জন্য ২৫০ টাকা আর একটি মিল বাবদ ১৭০ টাকা কমিশন লিখিত নির্দেশিকায় বরাদ্দ করেন যাঁর মোট পরিমান দাঁড়ায় ৬৭০ টাকা। ভোট ফুরিয়ে গেছে কিন্তু আজও মেলেনি সেই টাকা।

জানা গেছে জেলায় প্রায় ৫০০০ আশাকর্মী এই দায়িত্ব পালন করেছেন। যেখানে আশাকর্মী মেলেনি সেখানে আইসিডিএস কর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে। আশাকর্মী ইউনিয়নের ডেবরা ব্লকের নেত্রী কাজল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “শুধু ডেবরা ব্লক নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা এবং সারা রাজ্যের অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত আমাদের ডিউটির অর্থ দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীন মনোভাবের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

বৃহস্পতিবার ডেবরা ব্লকের আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিডিও-র কাছে এব্যাপারে ডেপুটেশন দেন। কাজল চক্রবর্তী ছাড়াও ডেপুটেশনের নেতৃত্বে ছিলেন পিয়ালী মাইতি দণ্ডপাট, রিতা বসু আদিত্য, মলি গিরি, সোমা দাস, সবিতা ওঝা প্রমূখরা। ডেপুটেশনের পরে তাঁরা জানান, ” বিডিও সাহেব আমাদের বলেছেন আমাদের জন্য বরাদ্দ কোনো অর্থ তাঁর কাছে এসে পৌঁছায়নি তাই তাঁরা দিতে পারছেন না। অর্থ যেদিন এসে পৌঁছাবে সেদিন প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দেওয়া হবে কিন্তু কবে সেই অর্থ পাওয়া যাবে তা তিনি বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।” চক্রবর্তী জানান, “আমরা বিডিও সাহেবের মারুফৎ বিষয়টি কমিশনের অবগতির জন্য পাঠালাম। অবিলম্বে সুরাহা না হলে এই চূড়ান্ত বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এরপর পথে নামব আমরা।”

Previous articleপুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে বেশি থাকে করোনার অ্যান্টিবডি: গবেষণা
Next articleযোগী রাজ্যে ভোটের কাজ করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৭৭ জন শিক্ষকের মৃত্যুর দাবী শিক্ষক সংগঠনের! আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরাও, গণনায় যেতে নারাজ শিক্ষকরা