বৃষ্টি কাটতেই মাঝ সেপ্টেম্বরে শরতের মেঘ দেখল খড়গপুর, করোনা কাল কাটিয়ে পুজো কেমন, দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা

625

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাদ্রের গরম কাটেনি এখনও তবুও রাত গড়ালে শিশির পড়ে টুপটাপ। খড়গপুর শহর ছাড়িয়ে মেদিনীপুর শহরের পথে সতকুই পেরিয়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থরে থরে কাশফুল বলে দিচ্ছিল শরৎ এসেছে কিন্তু আকাশ তেমন করে চিঠি পাঠায়নি এতদিন। বৃষ্টি কাটতেই মাঝ সেপ্টেম্বরে শরতের মেঘ দেখল খড়গপুর, করোনা কাল কাটিয়ে পুজো কেমন, দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা 1১৪ই সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুরের একঝলক বৃষ্টি কাটিয়ে অবশেষে আসল সেই চিঠি। ক্ষনিকের ভ্যাপসা গরম কাটিয়ে খড়গপুর শহরের ইন্দা, নিউটাউন, রামকৃষ্ণ পল্লী, সারদাপল্লী, আনন্দ নগর আর বিদ্যাসাগরপুরের মাথায় সাদা ছেঁড়া ভাসা ভাসা পেঁজা তুলোর মত মেঘ ফাইনালি শহরকে জানিয়ে দিল ‘কাম সেপ্টেম্বর’য়ের কথা, জানিয়ে দিল শরৎ এসে গেছে।

আরও পড়ুন -  প্রদীপকে ক্ষমতা দেখিয়েই আন্দোলন থেকে সরলেন মুনমুন রবিশঙ্কররা, খড়গপুরে নয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে বিধায়ক

এমনিতেই শহরের করোনা কাল। অতিমারির জাল ছড়িয়েছে শহর ময়। সাধারন এলাকাতো দুরের কথা শহর কিংবা শহরতলিতে যে সব শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে সেই কলাইকুন্ডা বায়ুসেনা (AIF), সালুয়া ইএফআর (EFR) কিংবা রেল সুরক্ষা (RPF) বাহিনীতেও দাপট দেখিয়েছে করোনা। শহর আর শহর তলি মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। মৃত্যুও পেরিয়ে গেছে ২০জন। এই মন খারাপের শহরে তাই শরৎ য়ের আকাশ চিঠি পাঠালেও শারদীয়া উৎসব নিয়ে ধন্দে শহর।

এমনিতেই শহরের বড় বড় পুজো যে এলাকায় হয়ে থাকে সেই বিগ বাজেটের পুজোর স্থান গুলিতে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ইন্দা, খরিদা, মালঞ্চ, সুভাষপল্লী সর্বত্রই করোনা সংক্রমনের হার মার কাটারি রকমের। ইঙ্গিত, প্রান্তিক, বি.এন.আর গ্রাউন্ড থেকে আদিপুজো কমিটি সর্বত্রই করোনার বাড়বাড়ন্ত। আরপিএফ ব্যারাক আর সম্প্রতি ধোবি ঘাটের সংক্রমন প্রথম থেকে শেষ অবধি ছুঁয়ে আছে ডেভলপমেন্ট এলাকার অভিযাত্রী আর বাবুলাইন পুজোর এলাকা। শহরের দক্ষিনে ঝাপেটাপুর আর ঝুলি এলাকায় সংক্রমনের রমরমা। মৃত্যুও হয়েছে কয়েকটি। ঘেরা টোপের আইআইটির স্টাফ ক্লাব কিংবা ভারত সঙ্ঘেরও একই হাল। ক্যাম্পসেও সিঁদ কেটেছে করোনা।

আরও পড়ুন -  ঝাড়খণ্ডে তুমুল ধস, বৃহত্তম দলের মর্যাদা খোয়াল বিজেপি

অপেক্ষাকৃত ভাল জায়গায় প্রেমবাজার কিংবা উত্তর তালবাগিচা। শহরের হিসাবে সংক্রমনের হার কম তবুও এবার নম নম করেই পুজোর আয়োজন। বড় প্যান্ডেল, আলো বাদ। মাইকেও ব্যাপক কাটছাঁট। দুর থেকেই প্রতিমা দর্শন করা যায় এমন ব্যবস্থা। আর প্রায় সব জায়গাতেই বাদ পড়ছে বসে ভোগ খাওয়ানো কিংবা সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যা। এখনও সরকারের নির্দেশিকা নেই। আশা করা হচ্ছে ২৫সেপ্টেম্বর আসতে চলেছে পুজো সম্পর্কিত নির্দেশিকা। আপাতত মন খারাপের শহরে এখন শুধুই বিষণ্নতা তবুও তারই মাঝখানে এক টুকরো সাদা আকাশ জানিয়ে দিল শরৎ এল শহরে। ছবি: অচিন্ত্য ত্রিপাঠী

বৃষ্টি কাটতেই মাঝ সেপ্টেম্বরে শরতের মেঘ দেখল খড়গপুর, করোনা কাল কাটিয়ে পুজো কেমন, দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা 2