তোয়ালে মুড়ে নারদার টাকা নিলে তুমি আর তোলাবাজ বলছ আমাকে! ডায়মন্ডহারবারে শুভেন্দুকে আক্রমণ অভিষেকের

380
তোয়ালে মুড়ে নারদার টাকা নিলে তুমি আর তোলাবাজ বলছ আমাকে! ডায়মন্ডহারবারে শুভেন্দুকে আক্রমণ অভিষেকের 1

তিন্নি দে: এবার তোলাবাজ প্রশ্নে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন তাঁকে ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলে একতরফা আক্রমন শানাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ তারই বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গিয়ে অভিষেক ব্যানার্জী টেনে আনলেন সেই ২০১৬ সালের নারদ ঘটনা। এই ঘটনাতেই শুভেন্দু আধিকারীকে দেখা গিয়েছিল কাগজে মুড়ে টাকা নিতে। বিজেপি দপ্তর থেকে সম্প্রচার করা সেই নারদ কান্ডে শুভেন্দুর পাশাপাশি সাংসদ সৌগত রায়, কাকলী দস্তিদার, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায় সহ এক ঝাঁক তৃনমূল নেতাকে।

চার বছর আগের সেই ভিডিওকেই রবিবার ডায়মন্ড হারবারের জনসভা থেকে হাতিয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নারদায় কাগজে মুড়ে টাকা নিয়েছ তুমি, তোলাবাজ বলছ আমাকে। তোলাবাজ তো তুমি!”
শুধু নারদা নয়, সারদার তালিকায় শুভেন্দুর নাম রয়েছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণে অভিষেক বলেন, “আমি সারদা বা নারদা কিছুতেই নেই। ‌আমার পিছনে ইডি লাগুক বা সিবিআই, পাবে কাঁচকলা। তোমাদের যা করার আছে করে নাও। টিভি–র পর্দায় ঘুষ খেতে তোমাকে দেখা যাচ্ছে। আর ইডি, সিবিআইয়ের ভয়ে মেরুদণ্ড বিক্রি করে তোমরা অন্য দলে যাচ্ছ আর তোলাবাজ ভাইপো হঠাও?‌’‌

তোয়ালে মুড়ে নারদার টাকা নিলে তুমি আর তোলাবাজ বলছ আমাকে! ডায়মন্ডহারবারে শুভেন্দুকে আক্রমণ অভিষেকের 2

ইদানিং ‘তোলাবাজ ভাইপো’ রব প্রতিটি বিজেপি নেতার মুখে।বাদ যাননি শুভেন্দু অধিকারীও।কাঁথির রোড শোতে স্পষ্টতই তিনি জানিয়েছিলেন, “আমার ভাইপো তে কোনও আপত্তি নেই, আপত্তি তোলাবাজ ভাইপোতে। এরসঙ্গে তিনি গরুচোর, কয়লাচোর ভাইপো কথাটি জুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “এরপর যদি তৃনমূল ক্ষমতায় আসে তবে বাংলার মানুষের কিডনিও বেচে দেবে।”
কয়লা, গরু পাচার ইত্যাদি প্রশ্নে শুধু শুভেন্দু একাই নন একাধিক বিজেপি নেতা নাম না করেই অভিষেককে বরাবর কাঠগোড়ায় তুলেছে।

জবাবে অভিষেক রবিবার বলেছেন, ” সীমান্তের দায়িত্বে থাকেন বিএসএফ, সিআরপিএফ।এই দপ্তরগুলির দায়িত্ব থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে। অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই কোন ভাইপোকে দোষারোপ করছেন বিজেপি নেতারা তা একবার যাচাই করে নিতে বলেন। আর তার পরই ‘ভাইপো’ প্রসঙ্গে অভিষেকের খোঁচা, “‌অমিত শাহ তোমার দাদা?‌ তা হলে ভাইপো কে?”

রবিবার নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র থেকে তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দুকে ‘‌উপসর্গহীন ভাইরাস’‌, ‘‌বেইমান’‌ বলেও কটাক্ষ করেন অভিষেক।
বলেছেন, ‘‌তৃণমূল থেকে পাল্টি খেয়ে, নিজের শিরদাঁড়া বিক্রি করে, মেরুদণ্ডহীন পাল্টিবাজ নেতা’ বলেও।

তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে ফাঁসির মঞ্চেও উঠতে রাজি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘‌আমার পিছনে ইডি, সিবিআই লাগাতে হবে না। তোমরা একটা ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করবে, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে ভাইপো তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত, আমি নিজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে আসব। আমি চ্যালেঞ্জ করে গেলাম। আমি ইডি, সিবিআই–কে ভয় পাই না।’‌ নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের অভিষেক বলেন, ‘‌আমি মৃত্যুবরণ করতে রাজি আছি কিন্তু আপনাদের নাম কুলষিত হতে দেব না।”