হাতের মুঠোয় আয়ুর্বেদ ।। আমলকি।। ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ

360
হাতের মুঠোয় আয়ুর্বেদ ।। আমলকি।। ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ 1
হাতের মুঠোয় আয়ুর্বেদ ।। আমলকি।। ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ 2

আয়ুর্বেদের অমৃত আমলকী                                                              ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষহাতের মুঠোয় আয়ুর্বেদ ।। আমলকি।। ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ 3

(আয়ুর্বেদাচার্য ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসার, উঃ চন্ডীপুর সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মানিকচক, মালদা)

হাতের মুঠোয় আয়ুর্বেদ ।। আমলকি।। ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ 4

আয়ুর্বেদশাস্ত্র মতে আমলকী অম্লরসপ্রধান, বয়স্থাপক(Anti ageing),রসায়ন ও বহুঔষধিগুন সমৃদ্ধ ভেষজ।এটি চব্যনপ্রাশের মুখ্য উপাদান থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীতে সৌন্দর্যবর্ধন ও সৌন্দর্যরক্ষায় যার ভূমিকা অপরিহার্য্য কারন পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে আমলকী ভিটামিন সি তে ভরপুর যা কমলালেবুর তুলনায় প্রায় কুড়িগুন বেশি ভিটামিন সি যুক্ত। অন্যদিকে এটি আন্টিঅক্সিডেন্ট,চক্ষুস্য(চোখের পক্ষে হিতকারী),সর্বদোষঘ্ন,বাজীকারক। গুণাগুণের দিক থেকে এককথায় আমলকী তারুন্য ধরে রাখতে,শারীরিক স্ফূর্তি প্রদানে ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এক অদ্বিতীয় ভেষজ।

আমলকী গ্লাইসিন, ট্যানিন ও গ্যালিক আসিডযুক্ত হওয়ায় এবং আন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রিরেডিকাল প্রতিরোধ করায় প্রতিদিন ১-২ টি আমলকী খেলে ত্বকের রুক্ষতা,বলিরেখা ও নির্জীবতা দূর করে ত্বকের সতেজতা ও ল্যাবন্য ফিরিয়ে আনে। নিয়মিত সকালে আমলকীর রস সেবন করলে পাচনসম্বন্ধীয় সমস্যা(কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম,অম্লপিত্ত) ইত্যাদি প্রশমিত হয় এবং জঠরাগ্নির(Digestive fire) সাম্যতা ফিরে আসে যার ফলে অকালবার্ধক্য ও চুলের অকালপক্কতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বর্তমানে কর্মব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক অস্থিরতা,নিদ্রাহীনতা ও ক্লান্তি নিবারনে আমলকীর জুস অন্যবদ্য ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরের দূষিত পিত্ত প্রশমিত করে মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনে।

আমলকীর এন্টিব্যাক্টেরিয়াল ও এন্টিফাংগাল কার্যক্ষমতা থাকায় খুস্কি প্রতিরোধে ও অকালে চুল পড়া,চুলের ডগা ফাটায় এটি ফলপ্রসূ। খুস্কিতে ১চামচ আমলকী চূর্ণ পরিমান মতো টক দই মিশিয়ে স্নানের মিনিট পনেরো পূর্বে ভালোকরে মাখুন তারপর যে কোনও হারবাল শ্যাম্পু করে ফেলুন, তবে সাথেসাথে সাত্বিক আহারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বকের অবাঞ্চিত কালো ছোপ বা নিস্তেজ ত্বকের ক্ষেত্রে ১চামচ আমলকী পাউডারের সাথে ১চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। স্নানের পূর্বে চোখের চারপাশ ছেড়ে আলতো করে মেখে ফেলুন,মিনিট দশেক পর ঈষদউষ্ণ গরম জলে ধুয়ে ফেলুন এতে ত্বকের মৃতকোষ দূর হয়ে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে আসবে।

আমলকী তেল চুলের জন্য অমৃতসমান এবং এটি সর্বজনবিদিত।(শুকনো আমলকী পরিমান মতো তেলের সাথে মিশিয়ে মৃদু আঁচে গরম করে ছেঁকে নিন ও ঠান্ডা করে ব্যাবহার করুন) এই তেল চুলের বৃদ্ধি,পুষ্টি ও কেশকৃষ্ণকরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমলকী রসায়ন (আন্টি অক্সিডেন্ট) গুনসমৃদ্ধ হওয়ায় জ্বরাব্যাধি(বার্ধক্য জনিত রোগ) এ আমলকী, ঘি অবলেহ অত্যন্ত উপকারী যোগ।এটি শারীরিক পুষ্টির পাশাপাশি স্নায়ুদূর্বলতা জনিত সমস্যায় ভালো কাজ দেয়।  শীত পিত্তে অর্থাৎ এলার্জির জন্য অনেকেরই মাঝে সাঝে গায়ে চাকা চাকা আকৃতির ৱ্যাশ বেরোয় এক্ষেত্রে ১চামচ আমলকী চূর্ণের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম নিমপাতা চূর্ণ মিশিয়ে সকালে খালিপেটে সপ্তাহখানেক খেতে হবে এতে উক্ত সমস্যাটি নিশ্চিতরূপে প্রশমিত হয়। তবে এইসময় ডিম,চিংড়ি,পুঁইশাক জাতীয় খাওয়ার এড়িয়ে চলায় উচিত।

চোখ উঠলে ২-৩ টুকরো আমলকী গরমজলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন,পরদিন সকালে সেটা ছেঁকে ২ ফোঁটা করে দিনে দু-তিন বার চোখে দিন এতে চোখ ওঠা সেরে যায়। এক্ষেত্রে ত্রিফলা ভেজানো জলও ব্যাবহার করা যেতে পারে। অম্লপিত্ত রোগে যেখানে প্রায়ই টক ঢেকুর হচ্ছে সঙ্গে গলা বুক জ্বালা,কিছু খেলেই বমি বমি ভাব এক্ষেত্রে পূর্বদিন রাতের আমলকী ভেজানো জল সেবন করলে পিত্তবিকৃতি নষ্ট হয়ে অম্লপিত্ত রোগ শান্ত হয়।