বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস চেয়ে রাত পেরুলেই ধর্মঘটে নামছেন আয়ুষ চিকিৎসকরা

431
বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস চেয়ে রাত পেরুলেই ধর্মঘটে নামছেন আয়ুষ চিকিৎসকরা 1
বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস চেয়ে রাত পেরুলেই ধর্মঘটে নামছেন আয়ুষ চিকিৎসকরা 2

ওয়েব ডেস্ক: বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস চেয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ধর্মঘটে যাচ্ছেন রাজ্যের আয়ুষ চিকিৎসকরা। রাজ্যের প্রায় ১৪০০ আয়ুষ চিকিৎসক বিশেষ করে যাঁরা RBSK(রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কেন্দ্র) চিকিৎসক তাঁরাই সামিল হচ্ছেন এই ধর্মঘটে। উল্লেখ্য এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি রাজ্যে শিশু সাথী নামে চলে থাকে। ধর্মঘটে যাওয়া চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এই প্রকল্পের আওতায় ০ থেকে ১৮বছর বয়স অবধি শিশু অথবা কিশোর-কিশোরীদের দৈহিক, মানসিক বিকাশ, তাঁদের রোগ অসুখ পুষ্টি ইত্যাদির ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজন হলে তাদের চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগের ব্যবস্থা করা আয়ুষ চিকিৎসকরা করে থাকেন। এর জন্য প্রতি ব্লকে এক বা একাধিক চিকিৎসক রয়েছেন যাঁরা স্কুল, শিক্ষা কেন্দ্র অথবা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে এই কাজ গুলি করে থাকেন।

আয়ুষ চিকিৎসকদের বক্তব্য ২০১৩ সাল থেকে মাসিক ২৫হাজার টাকা বেসিকে নিযুক্ত হয়েছিলেন তাঁরা কিন্তু আজ অবধি তাঁদের বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস হয়নি। চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, ২০১৩ সাল থেকে হিসাব করলে এই সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁদের মাসিক প্রায় ৫৫হাজার টাকা গ্রস বেতন হওয়ার কথা। রাজ্য সরকার ২০২০ সালে প্রায় ৪১হাজার টাকা বেতন ঘোষনা করলেও সেই টাকা তাঁদের দেওয়া হয়না।
চিকিৎসকরা আরও দাবি করেছেন,করোনা পরিস্থিতিতে তাঁরা বড় ভূমিকা পালন করে চলেছেন গত ছয় মাস ধরেই অথচ সরকার এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তাঁরা বাদ দিয়ে অন্য চিকিৎসকরাই সব কিছু করছেন। এই বঞ্চনার প্রতিবাদ এই রাজ্যে আয়ুষ ডাক্তার আগামী 20th অক্টোবর মঙ্গলবার সারা বংলা জুড়ে RBSK Medical Officer (AYUSH) রা ছয় ঘন্টার ( সকাল ১০টা থেকেই বিকাল ৪টা পর্যন্ত) প্রতীকী কর্ম বিরতি আন্দোলনের পথে যাচ্ছেন l

বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস চেয়ে রাত পেরুলেই ধর্মঘটে নামছেন আয়ুষ চিকিৎসকরা 3

এই বিষয়ে একজন RBSK আয়ুষ চিকিৎসকরা।
একজন আয়ুষ চিকিৎসক ডাঃ সরফরাজ আহমেদ বলেন- “এই covid পরিস্থিতিতে প্রাণপাত করে কাজ করার পরেও আজ আমরা এখনো বঞ্চিত। আমরা দিনরাত এক করে এই সমস্যার মোকাবিলা করছি কিন্তু আমাদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত পুনর্বিন্যাসের কোনও উদ্যোগই নেই সরকারের। ন্যূনতম বেতনে একজন RBSK AYUSH ডাক্তার কে দিয়ে যেভাবে খাটানো হচ্ছে সে তুলনায় অন্য প্যাথির ডাক্তার রা একই প্রকার কাজ করে অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন l”

অন্যদিকে ডাঃ পলাশ ঘোষালের বলেন ” আমরা বহুবার সরকার কে জানিয়েছি, কিন্তু আমরাদের এখনো কোনো সুরাহা হোলোনা l যবে থেকে covid পরিস্থিতি শুরু হয়েছে আমরা এয়ারপোর্টে, বাসস্ট্যান্ডে, কোভিড হসপিটালে, সেফহোমে কোভিড রোগিদের বাড়িতে অবধি যেতে হয়। বাজার থেকে হাসপাতালে সোয়াব সংগ্ৰহ করা ছাড়াও যতো রকমের করোনা সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রির কাজ সবই করতে হচ্ছে।আজ আমরা করোনা যোদ্ধারা সত্যি ই খুব ক্লান্ত l”
চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আদেশ না বের হয় তবে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন তাঁরা।