একদিনের বৃষ্টিতেই পুকুর-রাস্তা-গৃহস্থের উঠোন একাকার বালিচকে! আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি কমিটির

795
একদিনের বৃষ্টিতেই পুকুর-রাস্তা-গৃহস্থের উঠোন একাকার বালিচকে! আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি কমিটির 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৪ঘন্টার বৃষ্টিতেই ভাসছে বালিচক স্টেশনের উত্তর প্রান্ত। একাকার হয়ে গেছে চাষের জমি,পুকুর আর রাস্তা। গৃহস্থের উঠোনে এসে চরে বেড়াচ্ছে নয়ানজুলির কচুরিপানা থেকে শুরু করে পলিথিন আর প্লাস্টিক আবর্জনা। একদিনের বৃষ্টিতেই পুকুর-রাস্তা-গৃহস্থের উঠোন একাকার বালিচকে! আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি কমিটির 2কোথাও কোথাও বাড়ির মধ্যেই ঢুকে পড়েছে জল! বুধবার দিনভর জল যন্ত্রনা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার উঠোন ময় নোংরা জলেই পা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ছেলে থেকে বুড়ো, কিশোরী থেকে গৃহবধূ।

জানা গেছে বালিচক রেল স্টেশনের উত্তরপ্রান্তে থাকা স্টেশন লাগোয়া কিছু বসতি ছাড়াও রয়েছে দুটি ঘন বসতি পূর্ন ভোগপুর এবং রঘুনাথপুর গ্রাম। কয়েকশ পরিবারের বাস এই দুটি এলাকার। পার্শ্ববর্তী জনবসতি কিংবা বাজার ঘাট, স্কুল কলেজ, হাসপাতালে যাওয়ার জন্য এই একটি রাস্তা বর্তমান ওই দুটি গ্রামের জন্য। বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার পর মানুষ দেখতে পান সেই রাস্তা তো বটেই তার সাথে বেশকিছু বাড়ির উঠোন এবং বাড়ির ভিতরে জল ঢুকছে। পরিবার বা বাসিন্দা বহু রয়েছে। যাতায়াতের রাস্তা সম্পূর্ণ জলের তলায়।

বালিচক রেলস্টেশনের উত্তর দিকের বাসিন্দা রীনা সামন্ত বলেন, যাতায়াতের রাস্তা পুরোপুরি জলের তলায়। আমার বাড়ির উঠোন পর্যন্ত জল উঠে গিয়েছে ক্রমশ জল বাড়ছে। এবার বাড়ির ভেতরে জল ঢুকবে। ছোটখাটো বাড়ি গুলিতে জল ঢুকে গিয়েছে। এলাকার মানুষ খুব দুর্দশায় রয়েছেন। অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি নির্বিকার।এলাকার মানুষ জানালেন এই এলাকার জল নিকাশি ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। প্রাক বর্ষা সংস্কারের কাজ না করাতেই এই দুর্দশা। বারবার বলার পরেও টনক নড়েনি রেল কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের।

আরও পড়ুন -  অব্যহত কুয়াশার দাপট, লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল গড়বেতার ব্যাবসায়ীর

বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটির এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কমিটির সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানান, “আমরা বারবার রেল দপ্তরে এবং রাজ্য প্রশাসনের বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে বহু মানুষের স্বাক্ষর সহ বিক্ষোভ, ডেপুটেশন, আবেদন-নিবেদন করে আসছি বছর বছর বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। কিন্তু সবাই প্রায় নির্বিকার। যে ছোট নালাটির মধ্য দিয়ে জল নিকাশীর ব্যবস্থা রয়েছে সেই নালাটি আবর্জনা এবং পাথর খণ্ডে প্রায় পরিপূর্ণ। বর্ষার পূর্বে সেটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এই অবস্থায় আমরা পুনরায় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন অন্যথায় আমরা স্থানীয় এলাকাবাসীকে সংগঠিত করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।”

একদিনের বৃষ্টিতেই পুকুর-রাস্তা-গৃহস্থের উঠোন একাকার বালিচকে! আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি কমিটির 3