মূখ্যমন্ত্রীর পাশের ছবিতে ‘বাংলার যুবরাজ!’ বালুরঘাটের অলিগলিতে ফ্লেক্স ব্যানারে শুভেন্দুকেই মমতার উত্তরসূরী ঘোষনা অনুগামীদের

742
মূখ্যমন্ত্রীর পাশের ছবিতে 'বাংলার যুবরাজ!' বালুরঘাটের অলিগলিতে ফ্লেক্স ব্যানারে শুভেন্দুকেই মমতার উত্তরসূরী ঘোষনা অনুগামীদের 1

অশ্লেষা চৌধুরী: দক্ষিন যা ভাবলেও বলেনি উত্তর তাই করে দেখালো, শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি মমতা ব্যানার্জীর উত্তরাধিকার বলে ঘোষনা করল। উত্তরবঙ্গের বালুরঘাটের অলিতে গলিতে ছেয়ে ফেলা ফ্লেক্স আর ব্যানারে দাবি করা হয়েছে ‘বাংলার যুবরাজ’ বলে। যার অর্থ খুবই পরিষ্কার, শুভেন্দু অনুগামী বলে খ্যাত ‘দাদার অনুগামী’দের মতে মমতা ব্যানার্জীর পর শুভেন্দু অধিকারীই বাংলার মূখ্যমন্ত্রীত্বের যোগ্য উত্তরসূরী। এর আরও একটি অর্থও পরিষ্কার যে, এই অংশ অভিষেক ব্যানার্জীকে নেতৃত্ব হিসাবে স্বীকারই করছেনা। গত কয়েক মাস ধরেই শুভেন্দু অধিকারীর আচার আচরন দলের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল এই ঘটনা সেই জল্পনায় যেন নতুন করে ঘি ঢেলে দিল। আর এ যেন আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিল।

উল্লেখ্য কালী পুজোর পরদিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ফের বালুরঘাট শহরের বড় রাস্তার মোড়ে মোড়ে শোভা পেল শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া নতুন ফ্লেক্স ব্যানার। আর সেই ব্যানার থেকে উধাও জোড়া ফুলও। সেখানে শুভেন্দুর নামের পাশে উল্লেখ যোগ্য ভাবে লেখা রয়েছে পরিবহন মন্ত্রী , পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর পাশাপাশি শাসক দলের পোস্টার ব্যানারে যেমন উপরের কোণের দিকে দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতার মুখ দিয়ে গোল করে দলের নাম লেখা থাকত, এই ফ্লেক্স ব্যানার গুলোতে সেখানে শুভেন্দুর ছবি দিয়ে একই ভাবে গোলাকার বৃত্তের মধ্যে লেখা রয়েছে যুব সমাজের আইকন – শুভেন্দু অধিকারী বলে। যদিও এবারেও ব্যানারে সৌজন্যে সেই দাদার অনুগামীরা বলেই লেখা রয়েছে।

মূখ্যমন্ত্রীর পাশের ছবিতে 'বাংলার যুবরাজ!' বালুরঘাটের অলিগলিতে ফ্লেক্স ব্যানারে শুভেন্দুকেই মমতার উত্তরসূরী ঘোষনা অনুগামীদের 2

প্রসঙ্গত, দুর্গোৎসবের আগে রাজ্যের মধ্যে এই বালুরঘাট শহরেই প্রথম দাদার অনুগামী লেখা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর দুর্গা পুজো , শ্যামা পুজো, ও ছট পুজোর শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে ফ্লেক্স ব্যানারে ছেয়ে গিয়েছিল, যা দেখে চমকে উঠেছিলেন জেলার বাসিন্দারা। এরপর তার দলবদল নিয়ে হলদি নদী দিয়ে যত জল গড়িয়ে চলেছে তার সাথে সমানে পাল্লা দিয়ে আত্রেয়ী নদীর পারের বালুরঘাট শহরের দাদার অনুগামীরা ততই টগবগ করে ফুটছে। আজ তারা শহরবাসীকে ফের চমকে দিয়ে শুভেন্দুর ছবি দিয়ে নতুন ফ্লেক্স ব্যানার, পোস্টারে বালুরঘাট শহর ভরিয়ে দেওয়ার মধ্যে পরিবহন মন্ত্রীর দলবদলের বিষয়টি অন্যমাত্রা পেয়েছে বলেই মনে করছেন সকলে।

দাদার অনুগামীদের দেওয়া শহর ময় নতুন ফ্লেক্সে ও ব্যানারে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক তৃনমুলের সেকেন্ড ইন কমান্ডারের নাম না করে জনপ্রিয় উক্তি, ” প্যারাস্যুটেও নামিনি, লিফটেও উঠিনি” যেমন রয়েছে, তেমন অদ্ভুত মিশ্রনে বড় হরফে লেখা রয়েছে নন্দিগ্রামে শহীদ স্মরনে গিয়ে করা সেই উক্তি ” লড়াইয়ের মঞ্চে দেখা হবে ” – আর তার নিচেই বড় করে লেখা “বাংলার যুবরাজ ” । আর এই বাংলার যুবরাজ লেখা নিয়েই জনমনে নানান কৌতুহলের জন্ম নিয়েছে। কেউ বলছেন শুভেন্দুর এই হুংকার সেই তৃনমুল দলের সেকেন্ড ইন চিফ যাকে দলের কর্মীরা যুবরাজ বলে সম্বোধন করেন নিজেদের মধ্যে। বিরোধী দল গুলির নেতারা যাকে সরাসরি বাংলার যুবরাজ বলে থাকেন, শুভেন্দুর ছবির ফ্লেক্স ব্যানারে তার বিরুদ্ধেই যেন এই হুংকার দাদার অনুগামীদের।

তবে, বালুরঘাট শহরের রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, এই ব্যতিক্রমী ফ্লেক্সে শুভেন্দু অনুগামীরা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছেন। একদিকে যেমন বাংলার যুবরাজ লিখে দল তথা সকলের কাছে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছেন। পাশাপাশি এই সব জ্বলন জাগানো ফ্লেক্স ব্যানার যাতে শাসক দল বা প্রশাসন বা জনগনের দৃষ্টির আড়াল করতে না পারে তার জন্য নিজের নামের পাশে পরিবহন মন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার লেখাটা খুবই চালাকির সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। আর সেই সব হুংকার দিয়ে লেখা ফ্লেক্স ব্যান্যার খোদ জেলা প্রশাসনিক ভবনের মমতা ব্যানার্জীর জ্বলজ্বল করা ছবি দেওয়া ব্যান্যারের পাশে আটকে দিয়েছেন। আর শুধু জেলা প্রশাসনিক ভবনের গায়ে নয়, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের রাস্তায়, বালুরঘাট থানার সামনের রাস্তার মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে এই সব ব্যানার ফেস্টুন সেঁটে দেওয়া হয়েছে, যা দেখে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের গাত্র দাহ না হয়ে কোনও উপায় নেই।