বাঁকুড়ায় সায়ন্তিকা আর শিলিগুড়িতে ওমপ্রকাশকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ! পথে নামলেন তৃনমুল কর্মীরা

374
বাঁকুড়ায় সায়ন্তিকা আর শিলিগুড়িতে ওমপ্রকাশকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ! পথে নামলেন তৃনমুল কর্মীরা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সুশৃঙ্খল দলের তকমা ফর্দা ফাঁই। তৃনমূলের প্রার্থী ঘোষনার পরই বিক্ষোভে কর্মীদের উত্তাল হতে দেখা গেল উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে। পশ্চিম মেদিনীপুর কেশিয়াড়ীতে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্য স্তরের নেত্রী থেকে শুরু করে একগুচ্ছ নেতা কর্মী। এরপরই একে একে বিক্ষোভ দেখা গেছে বাঁকুড়া, শিলিগুড়িতেও। বহিরাগত প্রার্থীকে মানতে নারাজ স্থানীয় কর্মী নেতারা।

এদিন বড় ঘটনা ঘটেছে বাঁকুড়াতে। অভিনেত্রী সায়ন্তনী বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তাল হল বাঁকুড়া শহর। বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বিদায়ী বিধায়িকা শম্পা দরিপার অনুগামীরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান। পথ অবরোধ করে, সায়ন্তিকা গো -ব্যাক ধ্বনি দিয়ে তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বাঁকুড়ায় সায়ন্তিকা আর শিলিগুড়িতে ওমপ্রকাশকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ! পথে নামলেন তৃনমুল কর্মীরা 2

তাদের দাবী বাঁকুড়া তার মেয়ে শম্পা দেবীকেই প্রার্থী হিসেবে চায়।বহিরাগত সায়ন্তিকা কে তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না এমনকি তারা সায়ন্তিকা কে বাঁকুড়া শহরে ঢুকতে বাধা দেবেন বলেও এদিন হুমকী দেন। আজ বিকেলে শম্পার প্রার্থী পদে নাম না থাকার জেরে ফুঁসছিলেন শম্পার অনুগামীরা। ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেন নি শম্পা দেবীও। তার ফেসবুক ফ্যান পেজে শম্পা দেবীর যে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয় তাতে তিনি দলকে একহাত নেন।

এদিন লোকসভা ভোটে প্রার্থী পদে তার নাম থাকলেও সুব্রত মুখোপাধ্যায় কে প্রার্থী করে যে দল করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটল আজ এমন অভিযোগ তুলে প্রায় কেঁদেই ফেলেন তিনি। তার এই ভিডিও বার্তা দেখে অনুগামীরা ঠিক করেন প্রতিবাদে পথে নামবেন তারা। এবং রাতে তারা প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হলেন। এদিকে,শম্পা দেবীও দল তাকে প্রার্থী না করায় দলের বিরুদ্ধে কার্যত অল আউট আক্রমণ শানালেন। টিম পিকের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। এখন দেখার শেষে ঘাস ফুল শিবির ছেড়ে অন্য দলে পা বাড়ান কিনা? যদিও তা নিয়ে এই মুহূর্তে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। তবে ইঙ্গিতে স্পষ্ট আভাস মিলেছে, যে প্রয়োজনে দল ছাড়তে পারেন তিনি।

২০১৬ সালে বিধানসভায় তিনি বাম -কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে কাগজে কলমে তিনি কংগ্রেস বিধায়ক হলেও তিনি বাস্তবে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখান। এবং তৃণমূল নেত্রী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি তাই ভেবেও ছিলেন তাকেই এই কেন্দ্রে প্রার্থী করবে দল। কিন্তু তার আসনে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এতেই দলের ওপর রেগে খাপ্পা শম্পা।

অন্যদিকে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে ওমপ্রকাশ মিশ্রকে প্রার্থী করায় তৃণমূলের নান্টু পালের ক্ষোভ। শিলিগুড়ির কাউকে প্রার্থী না করায় বহিরাগত প্রার্থী মেনে নিতে পারছেন না তিনি। প্রকাশ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি। তিনি বলেন, দলে এই নাম নিয়ে কখনও আলোচনা হয় নি। শহরবাসী চাইছিল শিলিগুড়ির কেউ প্রার্থী হোক। ২০১১ সালে শহরের রূদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করায় মানুষ তাকে জিতিয়েছিল। যতবারই বাইরে থেকে প্রার্থী করা হয়েছে মানুষ প্রত্যাক্ষান করেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে তার আরও বক্তব্য, রাজনীতি করতে এসেছি। যার জন্য কাজ করব ১০০ শতাংশ দেব। এখন যদি দেখি বারবার কলকাতা থেকে পাঠিয়ে দেবে আর তাকে বহন করে নিয়ে যাব। এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিমকরব সময় দেখাবে। তবি বরিবার তিনি তার শুভানুধ্যায়ীদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন বলে জানিয়ে দেন তিনি।