রাজ্য সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো দিলীপ ঘোষের

119
রাজ্য সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো দিলীপ ঘোষের 1

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার নবান্নে সর্বদল বৈঠকের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। সে অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে আবেদন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তিনিও সরকারের ডাকে মেদিনীপুরের দলীয় কর্মসূচি বাতিল করে বৈঠকে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। বৈঠক শুরু হতে আর কয়েক ঘন্টা বাকি৷ এর আগে স্বভাবতই প্রতিবারের মতো ফের সরকারকে আক্রমণাত্মক কথা শোনালেন দিলীপ ঘোষ। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ৩ মাসে ৬টা বৈঠক করে ফেলেছেন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এতদিন পর সর্বদল ডাকলেন কেন? তাঁর অনেক আগেই বৈঠক ডাকা উচিত ছিল।

এদিন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমরা বৈঠকে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জনগণের কল্যাণে সরকারকে যে পরামর্শ দেওয়া উচিত তা দেব। কিন্তু বৈঠকটা অন্তত ২ মাস আগে করা উচিত ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৬ বার মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করতে পারলেন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এতদিনে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার সময় হল। সমস্যা যখন হাতের বাইরে চলে গিয়েছে তখন মুখ্যমন্ত্রী সর্বদল ডাকছেন। তবে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

রাজ্য সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধুনো দিলীপ ঘোষের 2

মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেন, ” করোনা মোকাবিলায় সরকার আদেও আন্তরিক নয়। কাল হঠাৎ সব দলকে ডেকেছেন। কেন ডেকেছেন জানি না। তবুও এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশে থাকতে আমরা অবশ্যই যাব। কিন্তু এখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর অনেক আগেই সব দলের সাথে আলোচনা করার দরকার ছিল৷ কিন্তু তিনি কোনো দলকেই কাজে লাগাননি৷ এখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর উনি বৈঠক ডেকেছেন। আমরা ১৮টা পেয়েছি বলে কদর বেড়েছে।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার বিকেলে নবান্নের সভাঘরে সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভায় মূলতঃ বর্তমানে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা, বিরোধীদের মতামত, পাশাপাশি কিভাবে দ্রুত রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার করা যায় সে সম্পর্কে সব দলের সাথে আলোচনা করা হতে পারে। সে অনুযায়ী, বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব আছে অথবা নেই এমন সব দলকেই বুধবারের বৈঠকে ডাকা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বুধবারের বৈঠকে করোনা মোকাবিলা নিয়ে কতটা আলোচনা সম্ভব তা বোঝা না গেলেও করোনা ও আমফান পরিস্থিতিতে সরকারের নানা দুর্নীতি নিয়ে দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে নবান্নের সভাঘর। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে খানিকটা অসুবিধা হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Previous articleকরোনার ওষুধ আবিষ্কারক বাবা রামদেবের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ, ওষুধ ও বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলল আয়ুষ মন্ত্রক
Next articleপাহাড়ে ঘেরা দীঘা