Homeআবহাওয়াইয়াসের আগেই চুঁচুড়া ও হালিশহরে তাণ্ডব চালালো ভয়ঙ্কর টর্নেডো; ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাড়ি,...

ইয়াসের আগেই চুঁচুড়া ও হালিশহরে তাণ্ডব চালালো ভয়ঙ্কর টর্নেডো; ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাড়ি, মৃত ২

Advertisement

নিউজ ডেস্ক: ইয়াসের আগেই হালিশহরে আছড়ে পড়ল ঝড়। ব্যান্ডেলের একাংশ একপ্রকার তছনছ। মঙ্গলবার  বিকেল পৌনে ৪টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে হওয়া এই ঝড়ে ২ জনের মৃত্যুর খবর মিলছেও। এমন ঘটনার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না কেউই-ই। সাংবাদিক সম্মেলনে এই টর্নেডো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ইয়াস নিয়েও সতর্ক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হালিশহর, চুঁচুড়ায় টর্নেডোতে ৪০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১১ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’  তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি কখন কোন দুর্যোগ ঘটাবে কেউ জানে না। পান্ডুয়াতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আমরা প্রার্থনা করব যাতে বেশি কিছু না হয়।”

এদিকে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে উপকূলীয় অঞ্চলে। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই গত বছরের মতই এবছরও নবান্নে থেকেই কার্যত পুরো বিষয়টি পরিচালনা করতে চান তিনি। এদিন দুপুরেই একবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘৯ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চলছে। ব্লকে ব্লকে কন্ট্রোলরুম খুলে নজরদারি করা হচ্ছে।  ল্যান্ডফলের পরই বোঝা যাবে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পূর্ণিমার ভরা কোটালের কারণে জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭৪ হাজার আধিকারিক ও কর্মী দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছেন। প্রায় ২ লক্ষ পুলিশকর্মীকে কাজে লাগানো হয়েছে। আজ-কাল দুদিন টানার নজরদারি চলবে।’তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজন হলে সেনা নামানো হবে। সব এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে সবাইকে তৈরি রেখেছি।’

প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ধেয়ে আসছে দ্রুত গতিতে। দিঘা থেকে ৩২০ কিমি দূরে রয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। বুধবার সকালে ওড়িশার ধামড়ার কাছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় পৌঁছে যাবে। পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ‘বালেশ্বরের দক্ষিণ দিক দিয়ে থেকে অতিক্রম করবে ইয়াস।  ২ মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।  পূর্ব মেদিনীপুর কাল ভোরের ৯০-১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৮০-৯০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় ও  কলকাতায় ৭০-৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টায়  হবে ঝড়ে গতিবেগ।’

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ‘ঝড়ের কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আছে। উপকূলবর্তী এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ফেরি পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। গুজবে কান দেবেন না। কলকাতায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।তবে কলকাতায় আমফানের পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কলকাতাবাসীর আমফানের মতো আতঙ্কে থাকার কারণ নেই।’

বুধবার সকাল বা দুপুর নাগাদই এই অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় চলছে নজরদারি, লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার কাজ। মোতায়েন রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। গত বছরের তুলনায় এইবছর ঝড়ের তীব্রতা আরও বেশি হতে পারে। স্বভাবতই উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর।

 

 

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular