গোখরো ধরতে গিয়ে মরণাপন্নই করে দেওয়া হল সাপকে অভিযোগে ক্ষুব্ধ বেলদার গ্রামবাসীরা

457
গোখরো ধরতে গিয়ে মরণাপন্নই করে দেওয়া হল সাপকে অভিযোগে ক্ষুব্ধ বেলদার গ্রামবাসীরা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: একটি প্রমান সাইজের ও পরিণত বয়সের গোখরো (Sepctacled Cobra) ধরতে গিয়ে সাপটিকে মারাত্মক আহত করে তাকে মরণাপন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বনকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে বনদপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পরে এক অভিজ্ঞ যুবক সাপটিকে ধরে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিলেও সাপটি বাঁচবে কিনা এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার খাকুড়দা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে।

জানা গেছে বুধবার রাতে খাকুড়দা এলাকায় সাপটি প্রবেশ করেছিল স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব দে- র বাড়িতে। তাকে কোনও রকমে বাড়ির বাইরে বের করে তাকে নজরদারি রেখেছিলেন সঞ্জীববাবু ও প্রতিবেশীরা ৷ পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সাপটিকে প্রতিবেশীর পাকার বাড়িতে একটি পিলারের তলাতে ঢুকে থাকতে দেখা যায় ৷ এরপরই তাঁরা বেলদা বনদপ্তরকে খবর না দিয়ে খবর দেন মেদিনীপুর শহরের সাপ ধরায় অভিজ্ঞ দেবরাজ চক্রবর্তীকে।

গোখরো ধরতে গিয়ে মরণাপন্নই করে দেওয়া হল সাপকে অভিযোগে ক্ষুব্ধ বেলদার গ্রামবাসীরা 2

ঘটনাস্থল থেকে মেদিনীপুর শহরের দূরত্ব প্রায় ৭০কিলোমিটার। কেন মাত্র ১৫ কিলোমিটার দুরে বেলদা বনদপ্তরকে তাঁরা খবর দিলেননা প্রশ্নের উত্তরে এলাকাবাসীরা জানান, বনদপ্তরের কর্মীরা প্রচন্ড গড়িমসি করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেরি করে আসে। পাশাপাশি সাপ ধরতে গিয়ে তারা অপটুতার পরিচয় দেয়। যেকারনে দেবরাজকে তাঁরা খবর দেন তাছাড়া দেবরাজ বনদপ্তরের অনুমোদিত স্নেক ক্যাচার। যদিও এরই মধ্যে অন্য আরেকজন বেলদা বনদপ্তরে খবর দিয়ে দেয়। স্বাভাবিক ভাবেই বনদপ্তরের কর্মীরা আগে চলে আসে এবং সাপটিকে ধরার চেষ্টা করে।

সাপটি ততক্ষণে একটি কংক্রিটের পিলারের তলায় আত্মগোপন করেছে। একদিকে তার ল্যাজের অংশ ধরে তাকে বের করার চেষ্টা করা হয় অন্যদিকে সাপ ধরার ইস্পাতের যন্ত্রটি দিয়ে তাকে টানার চেষ্টা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ভাবে সাপটির পেটে খোঁচা লেগে লিভার বেরিয়ে যায়। যদিও তারপরেও সাপটিকে বের করা যায়নি।
ইতিমধ্যে পৌঁছে যান দেবরাজ চক্রবর্তী। বনকর্মীদের সরিয়ে তিনি উদ্ধার কার্য শুরু করেন এবং প্রায় দেড় মিটার লম্বা সাপটিকে বের করে আনতে সক্ষম হন। সাপটিকে তিনি বনকর্মীদের হাতে তুলে দেন।

ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা বলেন, এত কষ্ট করে তাঁরা সাপটিকে নজরদারিতে রেখেছিলেন কিন্তু বনকর্মীদের অদক্ষতায় সাপটি মরতে বসেছে। যাঁরা বন্যপ্রাণ রক্ষার দায়িত্বে তারাই যদি এমন অপটু ও অবহেলা করেন তবে কী হবে? তাঁদের বক্তব্য এই কারনেই তাঁরা বনদপ্তরকে খবর দেননি। দেবরাজ নিজেও বলেছেন এ সাপ বাঁচবে বলে মনে হয়না। বনকর্মীরা অবশ্য বলেছেন তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন সাপটিকে সুস্থ করার।