অসন্তোষ প্রশমিত করতে সূর্য কে ধুয়ে দিল মিহির গোষ্ঠী

137
অসন্তোষ প্রশমিত করতে সূর্য কে ধুয়ে দিল মিহির গোষ্ঠী 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ডেটল, ব্লিচিং, ফিনাইল কী ছিলনা? চাষের জমিতে কীট নাশক ছড়ানোর স্প্রেয়ার মেশিন তো ঘরে ঘরে। তারই কয়েকটা জোগাড় করে জলে ব্লিচিং গুলে সূর্যকান্ত অট্টকেই যেন ধুয়ে দিচ্ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। একটা আধটা নয়, চার চারটা ২০লিটারের স্প্রেয়ার মেশিন নিয়ে নেমেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। পেছনে পেছনে দলীয় পতাকা নিয়ে কয়েকজন নেতা কর্মী। ঘন্টা দুয়েক ধরে ঠাকুর চক বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা রাস্তা আর আশেপাশের এলাকা রীতিমত স্যানেটাইজ করে ফেললেন সোমবার বিকালে। আজব এই স্যানেটাইজে শন দেখার জন্য দু’পাশে ভিড় দেখল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার অন্তর্গত ঠাকুরচক এলাকা।

আরও পড়ুন -  ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে উত্তাল হল খড়গপুর কলেজ, স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনে পড়ুয়ারা

কিন্ত কি এমন হল যে ঠাকুরচক এলাকায় জীবানু নাশক ব্যবহার করতে হল? যারা জানেননা তারা অবাক হয়েছেন। ভেবেছেন, এলাকায় বোধহয় কারো করোনা ধরা পড়েছে তাই পরিশোনের কাজ চলছে! আর যারা জানেন তারা জানেন যে রবিবারই এই ঠাকুরচক এলাকায় মিছিল আর সভা করেছেন নারায়ন ব্লক তৃণমূল সভাপতি মিহির চন্দ বিরোধী গোষ্টির নেতা সূর্যকান্ত অট্ট।

অসন্তোষ প্রশমিত করতে সূর্য কে ধুয়ে দিল মিহির গোষ্ঠী 2

হাজার দেড়েক মানুষের সেই উপস্থিতি ঠাকুরচকের মানুষ কে ক্ষুব্ধ করেছে। মানুষ প্রশ্ন তুলেছে, “বেলদা, জাহালদা, সাউরি মায় মান্ন্যা গ্রামেও যেখানে করোনার হদিস মিলেছে সেখানে একমাত্র বেঁচে থাকা এই ঠাকুরচকে চার দিকের লোক জুটিয়ে মিছিল করে করোনা ছড়ানোর মানে টা কী? ক্ষমতা দেখানোর হলে সূর্য অট্ট নিজের বাড়ির এলাকা বেলদায় দেখাতে পারতেন।”

আরও পড়ুন -  শুরু হয়ে গিয়েছে IIT JAM ২০২১ এর আবেদনের প্রক্রিয়া, অনলাইনেই হবে রেজিষ্ট্রেশন

মানুষের এই রাগ, ক্ষোভকে লুফে নিয়েছেন সূর্য বিরোধী রা। তাই বেছে নিয়েছেন এই শুদ্ধি করনের প্রক্রিয়া টি। অবশ্য মুখে আসল কারন টি কেউ বলবেননা। স্থানীয় তুতরাঙা অঞ্চল সভাপতি গোবিন্দ হুই জানালেন, ” অনেক মানুষের যাতায়াত বাজারে। কে বেলদা থেকে করোনা আনছে তো কেউ আবার অন্য জায়গা থেকে তাই ধুয়ে দিলাম। শনি মুক্ত হল ঠাকুরচক।”

আরও পড়ুন -  দাসপুরে করোনা নেগেটিভ হয়েও মৃত্যু, মৃত্যুর পর এলো পজিটিভ ফল, জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৩

শনি মানে ? শনি কী করে হবে? সূর্য মানে তো রবি তাই না! একজন তৃণমূল কর্মী পাশ থেকে কানে কানে বললেন, “আরে দাদা আসল নাম ধরতে নেই। সূর্য মানে রবি আবার মিহির মানেও সূর্য মানে রবি তাই না? তাহলে এক জায়গায় দুটো রবি কী করে থাকবে? তাই আমরা শনি বলেই ডাকি! তাই ধুয়ে দিলাম আর কী? ২১ শে জুলাই পবিত্র দিন তার আগেই কাজটা সেরে ফেললাম। গঙ্গা গঙ্গা!”