সবংয়ে শুরুতে ধাক্কা ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসুচী, মানস ভূঁইয়ার সভা এড়িয়ে গেলেন অমূল্য মাইতিরা

682
সবংয়ে শুরুতে ধাক্কা 'বাংলার গর্ব মমতা' কর্মসুচী, মানস ভূঁইয়ার সভা এড়িয়ে গেলেন অমূল্য মাইতিরা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: সবংয়ের মাটিতে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ল পি.কে প্রেসক্রিপশন। তৃণমূলের ভাব মূর্তি ফেরাতে প্রশান্ত কিশোর যে নতুন কর্মসুচী গ্রহন করার ফর্মুলা বাতলে ছিলেন, জনসংযোগের সেই কর্মসুচী, ‘বাংলার গর্ব মমতা’ বা বিজিএম কার্যত বয়কট করলেন সাংসদ মানস ভূঁইয়া বিরোধী তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। আর যাঁরা এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন তালিকায় তাঁদের নাম ও পদ দেখলে চমকে উঠতেই হয় কারন এঁদের ছাড়া সবং বিজয় অসম্ভব।
আমন্ত্রিত হয়েও শনিবারের এই সভায় উপস্থিত হননি জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি সহ সবং থেকে জেলা পরিষদে নির্বাচিত আরও দুই সদস্য প্রণতি রায় বর্মন ও লক্ষী হেমব্রম। অনুপস্থিত l

সনাতন দিত্য, নারায়ন সাঁতরার মত বরিষ্ঠ তৃনমূল নেতা এবং বিপুল মাইতির মত তরুন নেতা সহ ৮ টি অঞ্চলের দলীয় সভাপতি, ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান , ৪ জন উপপ্রধান সহ ৫০জন পঞ্চায়েত সদস্য। আমন্ত্রনের তালিকায় থেকেও অনুপস্থিত ছিলেন সবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি. গুরুপদ মান্নাও, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ পার্থ প্রতীম মাইতি প্রমূখরা।
কেন এই অনুষ্ঠানে গেলেন না তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি বলেন, ” যতদুর জানি বিজিএম কর্মসুচী দলের সমস্ত স্তরের নেতা ও সক্রিয় কর্মীদের নিয়েই প্রাথমিক ভাবে শুরু করার কথা যাঁরা এখান থেকে এই কর্মসুচী আরও তৃনমূল স্তরে মানু্ষের কাছে নিয়ে যাবেন কিন্তু এটি কার্যতঃ একটি গোষ্ঠির নিজস্ব কর্মসুচীতে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। যাঁদের আমন্ত্রন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে তাঁদের ‘পিকে’র তালিকা মেনেই আমন্ত্রন করতে বাধ্য হয়েছেন ওনারা যদিও সেই আমন্ত্রন করা হয়েছে দায় সারা ভাবেই । ভাবটা এমন যে, আমরা না গেলেই ভাল হয়। আর সেকারনেই যাওয়া উচিৎ বলে মনে করিনি।”

সবংয়ে শুরুতে ধাক্কা 'বাংলার গর্ব মমতা' কর্মসুচী, মানস ভূঁইয়ার সভা এড়িয়ে গেলেন অমূল্য মাইতিরা 2

জানা গেছে আমন্ত্রিতের তালিকায় ২৮৪জনের নাম ছিল। যদিও মানস বিরোধী গোষ্ঠি দাবি করেছে, পি.কের করে দেওয়া ওই তালিকার বাইরে গিয়েও অনেককে আমন্ত্রন করা হলেও সচেতন ভাবেই বাদ দেওয়া হয় মানস বিরোধী গোষ্টির নেতা কর্মীদের। সবং আট নম্বর অঞ্চলের দলের সাধারন সম্পাদক সেখ মুন্না বলেন, পি.কের তালিকার বাইরেও মানসবাবুরা নিজেদের লোক জুটিয়েছেন কিন্তু সবং তৃণমূলের পুরোনো নেতা কর্মীদের ডাকেননি। আমি তো দুরের কথা জেলা যুবর সাধারন সম্পাদক শেখর মাইতিকেও ডাকেনি ওরা।
এদিনের সভায় মানস ভূঁইয়ার বিরোধী সবং ব্লক সভাপতি প্রভাত মাইতি বলেন, ‘আমি গিয়েছিলাম। কারন কার্ডে আমার নাম দেওয়া হয় । বাকিরা কেন আসেন নি জানিনা। তবে এটা ঘটনাযে বিধায়ক গীতা রানী ভূঁইয়া ও আমি যৌথ ভাবে সবাইকে ডাকার নির্দেশ দেওয়া ছিল রাজ্যের পক্ষ থেকে কিন্তু আমাকে তালিকা দেওয়া হয়নি। যা উনারাই করেছেন’।
এদিনের কর্মসুচীতে কোন সাংবাদিকদের ডাকা হবে তারও একটা তালিকা তৈরি করে দিয়েছিল টিম পিকে।

সেখানেও অনেক সাংবাদিকের নাম দেখা যায়নি। কিসের ভিত্তিতে পি.কের এই নিজস্ব তালিকা তা অবশ্য বোঝা যায়নি। হয়ত কিছু সাংবাদিক এই সমালোচনা করতে পারে এটা ধরে নিয়েই তালিকা করা হয়েছে। তবে বিজিএমের উদ্যোক্তা সাংসদ ঘনিষ্টরা তার থেকেও নাম ছেঁটে বাদ দেন। পরে অবশ্যই তালিকা সংশোধন করে আরও দুটি নাম ঢোকানো হয়।
যদিও মানস ভূঁইয়া গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিরোধী গোষ্ঠীর তোলা আভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে প্রচুর কর্মীরা আজ সভায় যোগ দিয়েছিল। এক যুব নেতা বলেন, ২৮৪ জনের সভায় ১০০০য়ের বেশি কর্মী এসেছিল, দু’দফায় রান্না চাপাতে হয় যে কারনে। অবশ্য মূল আমন্ত্রিতদের অনেকেই কেন আসেনি তা বলতে পারেননি তিনি।