নারায়নগড় , শালবনী, সবং শুভেন্দুর পথেই পি.কে বিরোধী বিদ্রোহের সূচনার ইঙ্গিত তৃণমূল কর্মীদের

495
নারায়নগড় , শালবনী, সবং শুভেন্দুর পথেই পি.কে বিরোধী বিদ্রোহের সূচনার ইঙ্গিত তৃণমূল কর্মীদের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার, বাংলার গর্ব মমতা কর্মসুচীর তৃতীয় ধাপে ‘স্বীকৃতি সম্মেলনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন বিধানসভায় কার্যত পিকে বিরোধী বিদ্রোহের ইঙ্গিত মিলল। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল নিস্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কর্মীদের অতীতের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁদের সম্মান প্রদান করে পুনরায় দলের কাজে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা। বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে মিলে এই তালিকার চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে টীম পি.কে। পিকের তৈরি করে দেওয়া তালিকার প্রতিবাদ করে অন্তত দুটি বিধানসভা এলাকায় এই কর্মসুচী বয়কট করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি বিধানসভা এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মীরা। স্বল্প পরিমানে হলেও বিদ্রোহের যে ইঙ্গিত রবিবার পাওয়া গেছে তাতে এটা স্পষ্ট যে শুভেন্দু অধিকারীর পথ ধরেই ক্রমশঃ পি.কে বিরোধী বিদ্রোহ স্পষ্ট হতে চলেছে।

 

নারায়নগড় , শালবনী, সবং শুভেন্দুর পথেই পি.কে বিরোধী বিদ্রোহের সূচনার ইঙ্গিত তৃণমূল কর্মীদের 2

এদিন সবচেয়ে বড় ঘটনার স্বাক্ষী নারায়নগড় বিধানসভা যেখানে ” স্বীকৃতি সম্মেলন”য়ে সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব করার নামে ‘নিস্ক্রিয়’ তালিকায় নাম রাখা হয়েছিল নারায়নগড়ের অন্যতম তৃনমূল নেতা তথা জেলাপরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ও বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য সূর্যকান্ত অট্টের ! টিম পি.কের এই তালিকায় সূর্যকান্ত অট্টের সাথে আরও ৩৪জনের নাম ছিল। আর ফল স্বরূপ সূর্যকান্ত অট্ট সমেত একটা বড় অংশের তালিকা প্রাপ্তরা এই সম্মেলন বয়কট করেছেন।
সূর্য অট্ট জানিয়েছেন, দলের নিয়ম অনুযায়ী এই সম্মান সম্মেলনে যাঁদের সম্মান দেওয়ার কথা তাঁরা নিস্ক্রিয় কর্মী। আমার প্রশ্ন আমি কি নিস্ক্রিয়? যে তালিকায় আমার নাম রাখা হল ? আমি মমতার ব্যানার্জীর আদর্শ মেনে দল করি আর তাঁর আহুত সমস্ত কর্মসূচীতে ছিলাম, আছি, থাকব। কোনও পি.কে টিকে কে আমি মানিনা।”

আরও পড়ুন -  রাজরোষে ''আরামবাগ টিভি'র সম্পাদক, সোচ্চার বাংলার বিশিষ্ট জনেরা

 

ঠিক একই ভাবে পিকের তৈরি করা তালিকার প্রতিবাদ করে শালবনী বিধানসভা এলাকায় সম্মেলন বয়কট করেছেন দলের একাংশের কর্মীরা। রীতিমত সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান দলের কর্মীদের বেশ কয়েকজন। কর্মীদের আভিযোগ, খোদ জেলা সভাপতির নির্দেশে দল বিরোধী কাজ করায় বহিষ্কৃত করা হয়েছিল নয়া বসত সাত নম্বর অঞ্চলের প্রাক্তন কর্মী প্রদীপ দণ্ডপাট কে। রবিবার স্বীকৃতি সম্মেলনে বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো তাকে ডাকলে দলের একাংশের ক্ষোভ উগরে দেয়, ফলে এই সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যেতে থাকেন স্থানীয় নেতৃত্বরা। এক্ষেত্রেও বিক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা জানিয়ে দিয়েছেন পি.কের তৈরি করা তালিকা তাঁরা মানেননা।

আরও পড়ুন -  বিজয়াতেই উঠে গেল কোভিড হাসপাতাল! বিষণ্নতায় ঢেকে রয়েছে আড়াইশো পরিবারের গ্রাম

 

যথারীতি এদিন এই সম্মেলনকে এড়িয়ে গেছেন সবংয়ের তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভূঁইয়া বিরোধী গোষ্টির তৃণমূল নেতারা। তাঁদের আভিযোগ মানস ভূঁইয়া যখন কংগ্রেস থেকে তৃনমূলে যোগ দেন তখন যে সব কংগ্রেস নেতা কর্মী বসে গেছিলেন তাদেরকে তৃণমূলের পুরোনো কর্মী বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে রবিবার। আর সব চেয়ে আশ্চর্য্যর বিষয়, সবংয়ে এদিন পি.কে টিমের একজনকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান দেওয়া হয়েছে। মানস বিরোধী গোষ্ঠি প্রশ্ন তুলেছে, টীম পি.কের যে ব্যক্তিকে আজ সম্মান দেওয়া হয়েছে তিনি না তৃনমূলের, না সবংয়ের। যদিও মানস গোষ্ঠির দাবি, পি.কে টিমের ওই ব্যক্তিকে এমনি সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে কর্মী হিসাবে নয়।

আরও পড়ুন -  মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স, নিজের সঙ্গে বেঁধেই করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়া মাকে নিয়ে ২০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে হাসপাতালে কোলাঘাটের যুবক

 

উল্লেখ্য প্রথমে দিদিকে বল এবং পরে বাংলার গর্ব মমতা অনুষ্ঠান বয়কটের মধ্যে দিয়ে পি.কে বিরোধী বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধুই তাই নয়, পরিবহন মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক খোদ দলনেত্রীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, একমাত্র নেত্রী ছাড়া অন্য কারও নির্দেশে কাজ করতে পারবেন না তিনি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারী অনুগামীদের বক্তব্য পি.কে কে সামনে রেখে তাঁদের মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। আর সে কারনেই পি.কে বিরোধী বিদ্রোহের সূচনা করতে চলেছেন তাঁরা। মাথায় সেই শুভেন্দু অধিকারীই।