মমতা ব্যানার্জী হলেন একবিংশ শতাব্দীর তুঘলক! পূর্ব মেদিনীপুরে বললেন ভারতী ঘোষ

294
মমতা ব্যানার্জী হলেন একবিংশ শতাব্দীর তুঘলক! পূর্ব মেদিনীপুরে বললেন ভারতী ঘোষ 1

মমতা ব্যানার্জী হলেন একবিংশ শতাব্দীর তুঘলক! পূর্ব মেদিনীপুরে বললেন ভারতী ঘোষ 2নিজস্ব সংবাদদাতা: “নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন যে ভোটে জেতা অসম্ভব। আর যতটা এটা বুঝতে পারছেন ততই তাঁর মধ্যে পাগলামির লক্ষণ ফুটে উঠছে না হলে কেউ একটা দেশে চার চারটে রাজধানী চায়!”

মমতা ব্যানার্জী হলেন একবিংশ শতাব্দীর তুঘলক! পূর্ব মেদিনীপুরে বললেন ভারতী ঘোষ 3

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানার দ্বারিমারা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়দানে এক জনসভায় ভারতবর্ষের চতুর্দশ শতকের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘মনে পড়ে আপনাদের সেই সময়ে এদেশের একজন শাসক ছিলেন মহম্মদ বিন তুঘলক যাঁকে পাগলা সুলতান বলা হত। তিনি এমন সব সিদ্ধান্ত নিতেন যে মানুষ নাজেহাল হয়ে যেত। তিনি চেয়েছিলেন দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে দৌলতাবাদে নিয়ে যাবেন, গেলেনও। কিন্তু কিছুদিন পরেই ভুল বুঝতে পেরে ফের দিল্লিতেই ফিরিয়ে আনলেন রাজধানী। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক সেই রকম। বলছেন, শুধু একটাই কেন রাজধানী হবে চারটি রাজধানী হোক। চারটে রাজধানী হলে দেশে প্রশাসনিক সমস্যা হবে, অরাজকতা তৈরি হবে। উনি কী তাই চাইছেন? এই উনিই আবার প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন!”

মমতা ব্যানার্জী হলেন একবিংশ শতাব্দীর তুঘলক! পূর্ব মেদিনীপুরে বললেন ভারতী ঘোষ 4

এদিন এই প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক উপস্থিত জনতাকে পুরানো ইতিহাস স্মরণ করানোর পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দেড় দশক আগের আরও একটি ঘটনা। বলেছেন, ‘ মূখ্যমন্ত্রী তখন রেলমন্ত্রী। উলুবেড়িয়ায় সাংসদ সিপিএমের হান্নান মোল্লা। রেলের একটি ব্রডগেজ লাইনের উদ্বোধনী মঞ্চে দুজনই রয়েছেন। হান্নান মোল্লা বক্তব্য রাখতে উঠতেই কিছু মানুষ বলতে শুরু করল, হান্নান মোল্লা ওয়াক থু! আজকের মুখ্যমন্ত্রী সেদিন মঞ্চে বসে হাসছিলেন আর মজা নিচ্ছিলেন। তিনি একটিও কথা বলেননি সেদিন। আর ২৩শে জানুয়ারি যখন তিনি বক্তব্য রাখতে ওঠার সময় কেউ কেউ জয় শ্রীরাম বললেন তখন ওনার অপমান হয়ে গেল? কী আশ্চর্য্য কথা? কেউ তাঁর আরাধ্য দেবতার নাম নিতে পারবেনা?

মঙ্গলবার বিকালে বিজেপি আহুত এই ভরা সভায় ভারতী ঘোষ বলেন, “ধোঁকাবাজিতে এই সরকার রীতিমত ‘ধোঁকাবাজশ্রী’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেই ধোঁকাবাজির নতুন নিদর্শন হল ‘দুয়ারে সরকার।’ মানুষের দুয়ারই রাখেনি এই সরকার। চাল, টাকা সব চুরি করে নিয়েছে আর এখন দুয়ারে এসেছে ধোঁকাবাজি নিয়ে। বলছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেবে। ওদিকে নার্সিংহোম, হাসপাতালে গিয়ে মানুষ দেখছে কার্ড নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। মানুষ মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতী জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যখন করোনা আর লকডাউনে আপনারা বিপর্যস্ত তখন কোনোও নেতা মন্ত্রী আপনাদের দুয়ারে এসেছিল? যখন আমফানে আপনাদের ঘর দুয়ার ভেঙে গেছিল তখন আপনাদের দুয়ারে সরকার এসেছিল?” জনতা সমস্বরে ‘না’ বলে ওঠে। ভারতী বলেন, ‘ তাহলে এবার থেকে ওরা যখন দুয়ারে সরকার বলবে তখন আপনারা বলবেন, ঘরে ঘরে ধোঁকাবাজ তৃনমূল।’

এদিন সভায় ঢোকার মুখে ভারতী ঘোষ গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় মহিলাদের একটি দল। তাঁদের জেদ সেলফি তুলতে হবে তাঁদের সঙ্গে। ভারতী সেই আবদার মিটিয়ে, সামান্য কথাবার্তা বলে এগিয়ে যান মঞ্চে। রাশি রাশি ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে তাঁর ওপর। আজকের সভায় ভারতী ঘোষের বক্তব্য শোনার জন্য এই মহিলাদের ভিড়ই ছিল উপচে পড়া।

Previous articleআজকের রাশিফল, ২৭শে জানুয়ারি’২০২১
Next articleদিল্লী জুড়ে আরও কড়া হল নিরাপত্তা; বন্ধ একাধিক মেট্রো স্টেশনের গেট, স্তব্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা