বাপ কি বেটি! ১২০০কিমি সাইকেলে চাপিয়ে বাড়িতে আনল মেয়ে, বিস্মিত সারা দেশ, স্যালুট জানালেন ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা

1575
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: মেয়ে হয়ে পারল নাকি মেয়ে বলেই পারল? বাবা যতই গরিব হোকনা কেন মেয়ে তার কাছে রাজকন্যাই। কিন্তু মেয়ের চোখে বাবা কি? জবাবটা দিল জ্যোতিই। মাত্র ১৫ বছরের মেয়ে, অসুস্থ, আহত বাবাকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরিয়ে আনল ১২০০কিলোমিটার সাতদিন ধরে প্যাডেল করে! বয়সটা ফুলের ঘায়ে যে মূর্ছা যাওয়ার। বাবার গলা জড়িয়ে আদর খাওয়ার যখন মা কপট রেগে বলেন, বাপ সোহাগী বেটি। না, সে সোহাগ খাওয়ার সুযোগ কোথায় ছিল জ্যোতির?

Advertisement

বিহারের ছোট্ট গাঁয়ের আরও ছোট কুঁড়ে ঘরে বাস। বাবা দুর দেশে রিকশা চালায়। যে বয়সে হয়তো আর পাঁচটা মেয়ে কৈশোরের দুষ্টুমিতে মেতে থাকে। সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। সেই বয়সেই নিজেকে বড় শক্ত করে নিয়েছে বিহারের ১৫ বছরের এই বিস্ময়কন্যা। আর তখনই খবর আসে বাবা দুর্ঘটনায় অসুস্থ। জ্যোতির বাবা গুরগাঁওয়ে ই-রিক্সা চালাতেন। সম্প্রতি তাঁর একটি দুর্ঘটনা হয়। বাবার দেখাশোনা করতেই গুরগাঁও গিয়েছিল সে। তারপর লকডাউন। কাজ বন্ধ, হাতে টাকা নেই। মজুদ নেই খাদ্যও। অগত্যা বাবাকে নিয়ে সাইকেলেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জ্যোতি। তারপর সেই বিস্ময়কর অনন্ত যাত্রা!

Advertisement
Advertisement

গুরগাঁও থেকে ১২০০ কিলোমিটার পথ মাত্র সাতদিনে পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছেছে এই বিস্ময়কন্যা। এত পথ মাত্র সাতদিনে সাইকেলে চেপে তাও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে পেরনো যে কতটা কঠিন কাজ, তা হয়তো কল্পনা করাও কঠিন। সেই অসাধ্য সাধন করেছে জ্যোতি কুমারী। তাঁর সাইকেল চালানোর ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নজরে পড়েছে ভারতের সাইক্লিং ফেডারেশনেরও। জ্যোতির অসামান্য প্রতিভা দেখে ফেডারেশন তাকে দিল্লির আইজিআই স্টেডিয়ামে ট্রায়ালে ডেকেছে।

খোদ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ওঙ্কার সিং ফোন করে তাঁকে ট্রায়ালে ডেকেছেন। জ্যোতি জানিয়েছে, এখন সে ভীষণ ক্লান্ত। কদিন বিশ্রাম নিয়েই ট্রায়াল দিয়ে আসবে।
এদিকে ১৫ বছরের মেয়েটির বাবার প্রতি ভালবাসা আর লড়াকু মানসিকতা নজরে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পেরও। টুইটারে তিনি লিখছেন, “১৫ বছর বয়সের জ্যোতি কুমারী নিজের অসুস্থ বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ৭ দিনে ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছে। ভালবাসা আর সহনশীলতার এই নিদর্শন ভারতবাসীর কল্পনাশক্তি এবং সাইক্লিং ফেডারেশন দুটোকেই নিজের দিকে দৃৃষ্টি আকর্ষন করিয়েছে।’