“মানুষ বিকাশ ভট্টাচার্য এবং তাঁর দলকে ২০২১ সালে বুঝিয়ে দেবেন”, দুর্গাপুজো নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে হুশিয়ারি তৃণমূলের

109
"মানুষ বিকাশ ভট্টাচার্য এবং তাঁর দলকে ২০২১ সালে বুঝিয়ে দেবেন", দুর্গাপুজো নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে হুশিয়ারি তৃণমূলের 1

ওয়েব ডেস্ক :করোনা আবহে এ রাজ্যে দুর্গোৎসব পালন করার অনুমতি দেওয়ায় কিচগুদিন আগেই বাংলায় দুর্গাপুজো নিয়ে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সোমবারই সেই মামলার রায়দান করেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি দূর্গাপুজো নিয়ে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আদালত। সোমবার আদালতে এই জনস্বার্থ মামলার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন সিপিআই (এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আর তাতেই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ শাসকদল। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি পরিকল্পনা করে বাংলার মানুষের উৎসব বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁকে এবং তাঁর দলকে সাধারণ মানুষ ২০২১ এর নির্বাচনে এর জবাব দেবেন।

আরও পড়ুন -  করোনার কোপ এবার গরীব মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে, জমা টাকায় সুদ কমল অনেকখানি

এদিনের শুনানিতে আদালতের তরফে রাজ্যের প্রতিটি পুজোমণ্ডপে ‘‌নো এন্ট্রি’‌ বোর্ড ঝোলানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আরও জানানো হয়, করোনা আবহে এবছর প্রতিটি মণ্ডপ কন্টেনমেন্ট জোন করা হবে। সে অনুযায়ী, মণ্ডপগুলির বাইরে ব্যারিকেড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, একই সাথে ছোট ও বড়ো মণ্ডপ নির্বিশেষে মণ্ডপের বাইরে ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলিয়ে দিতে হবে। ছোট মণ্ডপের ক্ষেত্রে ৫ মিটার দূরত্বে ঝোলাতে হবে ‘‌নো এন্ট্রি’‌ বোর্ড আর বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব হবে ১০ মিটার। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীরা কোনোভাবেই যাতে মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করে ভিড় করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধুমাত্র কমিটির লোকেরা পুজো মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন। তাঁদের নাম মণ্ডপের বাইরে ঝোলানো থাকবে।

"মানুষ বিকাশ ভট্টাচার্য এবং তাঁর দলকে ২০২১ সালে বুঝিয়ে দেবেন", দুর্গাপুজো নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে হুশিয়ারি তৃণমূলের 2

এদিকে সোমবার আদালতের রায় বেরোনোর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে শাসকদলের সমর্থকরা। এমনকি বিকাশ ভট্টাচার্যর ছবি পোস্ট করে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। বিকাশবাবুর ফটো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কেউ ক্যাপশনে লিখছেন, “বিকাশ ভট্টাচার্য বাঙালিকে ঠাকুর দেখতে দেবেন না। বিজেপির দালাল।” কেউ আবার আরও তীব্র কটাক্ষ করে রীতিমতো হুমকির সুরে বলেছেন, “পুজোটে ১৩ হাজার কোটি টাকা রোটেশন হয়। পুজো বন্ধ করে বিকাশ ভট্টাচার্য ভালো করলেন না। মানুষ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর দলকে ২০২১ সালে বুঝিয়ে দেবেন।”

আরও পড়ুন -  মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনেও ফাঁস হয়ে গেল কি ইংরাজির প্রশ্নও ! ক্ষু্দ্ধ শিক্ষামন্ত্রী তলব করলেন পর্ষদ সভাপতিকে

তবে যে যাই বলুক, আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার পর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এক সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‛‛আমরা পুজোর বিরোধিতা করছি না। চাইছি উৎসবটা যাতে বন্ধ হয়। বারোয়ারি পুজোগুলো হলে সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। সেই কারণে এই মামলা।’’ তবে সোমবার রায় বেরোনোর পর তাকে নিয়ে যাই বয়াল হোক না কেন এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।